[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]
মাদরাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে জয়পুরহাট শহরের আরাম নগর হাফেজিয়া মাদরাসায়। এমন নির্যাতনের শিকার হওয়া ওই মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে রবিবার দুপুরে তার স্বজনরা উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ওই শিক্ষক মাদরাসা বন্ধ করে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা জয়পুরহাট সদর থানায় রবিবার রাতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মাদরাসার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, জয়পুরহাট শহরের আরাম নগর এলাকার এই হাফেজিয়া মাদরাসায় লেখাপড়া করত ১৪/১৫ জন শিশু। এসব শিশুদের সবাই জেলা শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের সন্তান। নওগাঁর ধামুইরহাট উপজেলার কামিয়া ডাঙ্গা গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে আবাসিক মাদরাসাটির শিক্ষক আইয়ুব আলী পার্শ্ববর্তী। শিক্ষক আইয়ুব আলী প্রতিরাতে শিক্ষার্থীদের আরবি শেখাতেন। পরে শোবার সময় তার বিছানায় প্রায় প্রতিরাতে এক এক জন শিশুকে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করতেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ভয় দেখিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছেন জেলা শহরের মাদারগঞ্জ এলাকার দরিদ্র ভ্যানচালকের শিশুপুত্রকে। একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ শিশুটি পালিয়ে বাড়ি এসে ঘটনাটি মা-বাবাকে বলে দিলে তারা ওই শিশুকে রবিবার দুপুরে হাসপাতালে ভর্তি করান।
জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মুবিনুল ইসলাম জানান, রবিবার দুপুরে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিশুটির মলদ্বারে ক্ষত রয়েছে এবং এটি যে বিকৃত যৌন নির্যাতন এতে কোনো সন্দেহ নাই। ধর্মীয় শিক্ষকের এমন কুকীর্তি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ধিক্কার জানাতে। তারা শিক্ষক আইয়ুব আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
জয়পুরহাট সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রায়হান হোসেন জানান, এ ব্যাপারে অসুস্থ শিশুটির বাবা জয়পুরহাট সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।





























