[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]
ভালোবেসে বিয়ে করার দেড় বছর পরও স্বামীর ঘরে ঠাঁই না পেয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক গৃহবধূ নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গতকাল রোববার দুপুরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেলের বার্ন ইউনিট থেকে দগ্ধ গৃহবধূকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। গৃহবধূর স্বামী মিজানুর রহমান ঘটনার পর থেকেই পলাতক। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বাবার বাড়ি কুড়িগ্রাম থেকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ফুলবাড়ি গ্রামে স্বামী মিজানুরের বাড়িতে আসেন আদুরী বেগম। দিনভর অপেক্ষা করেও সতীন খুশি বেগম ও স্বামীর স্বজনদের বাধার মুখে বাড়িতে উঠতে না পেরে রাতে শিশু সন্তানকে রেখে নিজের গায়ে আগুন দেন আদুরী।
আদুরী বেগম বলেন, আমারে আপা ঘরে উঠতে দেইনি। আমি বলতে শুনছি আমারে রাখবে না।অগ্নিদগ্ধ আদুরীকে শনিবার রাতেই রংপুর মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোববার দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডা.এম এ হামিদ পলাশ বলেন, আদুরীর শরীরের ৪০ শতাংশ পোড়া আছে। তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন।
আদুরীর সতীন খুশি বেগম বাড়িতে ঢুকতে না দেয়ার কথা স্বীকার করলেও তার ননদের দাবি, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে দগ্ধ হন আদুরী। আদুরীর সতিন খুশি বেগম বলেন, বাচ্চার দুধ জ্বালানোর কথা বলে আদুরী ঘরের পেছনে আসে। এরপর ম্যাচ দিয়ে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আদুরীর ননদ সোনিয়া বেগম বলেন, আমি আলাদা বাসায় থাকি। ভাবিরা আলাদা বাসায় থাকে। হঠাৎ করে হইচই শুনে আমরা দৌড়ে গিয়ে দেখি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে ভাবির শরীর পুড়ে গেছে। সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সোবহান এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ঘরে স্ত্রী সন্তান থাকার পরও দেড় বছর আগে কুড়িগ্রামের কাঠালবাড়ির আদুরীকে বিয়ে করে সুন্দরগঞ্জের মিজানুর রহমান। বিয়ের পর আদুরীকে বগুড়ায় একটি ভাড়া বাসায় রাখলেও বাড়িতে তোলেনি সে।





























