[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]
করোনা ভাইরাস নিয়ে মানববন্ধন করেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগসহ সমমনা ১৩টি ইসলামীক দল। সমাবেশে বক্তরা বলেন, করোনা ভাইরাস সম্পর্কে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন করোনা ভাইরাস নিয়ে কোন প্যানিক তৈরী করবেন না। কিন্তু জামাতী তথা ধর্মব্যবসায়ী মালানারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে কঠিন প্যানিক তৈরী করেছে। অথচ তারা এতদিন হক্কানী-রব্বানী ওলীআল্লাহ উনাদের এবং পবিত্র মাজার শরীফ থেকে বিমুখ করার জন্য জোর গলায় প্রচার করত- সব কিছু দেয়ার মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি। কিন্তু করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচানোর মালিক যে মহান আল্লাহ পাক তিনি সেটা এখন আর তারা প্রচার করছেনা।
করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অপব্যাখ্যা দিয়ে তারা প্রচার করছে করোনা মহামারী ও ছোঁয়াচে। কিন্তু পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে ছোঁয়াচে বলে কোন রোগ নেই। আর করোনা মহামারীও নয়। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সঠিক ব্যাখ্যাও তারা দিচ্ছেনা। বরং করোকে ব্যবহার করে তারা তাদের কয়েদীদের ছুটিয়ে নিতে চাচ্ছে। দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরী করতে চাইছে। দেশে দুর্ভিক্ষ তৈরীর পায়তারা করছে। রাষ্ট্রকে ব্যার্থ প্রমাণ করে সরকারকে পদত্যাগের পরিস্থিতি তৈরী করতে চাইছে। সর্বপোরি মসজিদ, মাহফিল বন্ধ করে সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের খেপিয়ে তুলতে চাইছে। রহমত শুন্য করে দেশ ও সরকারকে খোদায়ী গযবের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে। করোনার আরো করাল গ্রাসের কারণ ঘটাতে চাইছে। করোনাকে যারা ছোঁয়াচে ও মহামারী বলে তাদের প্রতি কোটি টাকার প্রকাশ্য বাহাসের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সমাবেশে বক্তারা নিম্নোক্ত ৭ দফা দাবী করেন। নিম্নে দাবীসমূহ তুলে ধরা হলো-
১। করোনা ভাইরাস দেয়ার এবং তা থেকে রক্ষার মালিক মহান আল্লাহ পাক তিনি। তাই করোনা ভাইরাস নিয়ে প্যানিক নয়। “করোনা ভাইরাস মুসলমানদের জন্য কোন সমস্যা নয়। করোনা ভাইরাস কোন ছোঁয়াচে রোগ বা মহামারী নয়। করোনা ভাইরাস এক মহা গযব।” আলেম সমাজকে এসব কথা বেশি বেশি প্রচার করতে হবে।
২। জামাত ও ধর্মব্যবসায়ী মালানারা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিরুদ্ধে অপব্যাখ্যা করে করোনাকেও ছোঁয়াচে রোগ ও মহামারী বলে প্রচার করে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জটিল করে তাদের জেলবন্দীদের ছুটাতে চায়। করোনাকে যারা ছোঁয়াচে ও মহামারী বলে তাদের প্রতি ওলামা লীগের কোটি বাহাসের চ্যালেঞ্জ।
৩। রহমত প্রাপ্তির দরজা বন্ধ করলে করনার গযব আরো বেশি ছড়িয়ে পড়বে। পবিত্র বাইতুল্লাহ শরীফ, পবিত্র রওজা শরীফ বন্ধ করে সউদী ওহাবী সরকার চরম ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে। অবিলম্বে তা খুলে দিতে হবে।
৪। বাংলাদেশে করোনার অজুহাতে পবিত্র মসজিদসমূহে জামায়াত নিষিদ্ধ করা, মহাসম্মানিত আযান পরিবর্তন করা, পবিত্র মসজিদসমূহে যেতে নিরুৎসাহিত করলে ওলামালীগসহ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও হাক্কানী-রব্বানী আলেম সমাজ তা শক্তভাবে প্রতিহত করবে। ইনশাআল্লাহ!
৫। “করোনাসহ সকল প্রকার আযাব-গযব থেকে বাঁচতে হলে বেশি বেশি পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করতে হবে এবং সুন্নতী খাদ্য গ্রহণ করতে হবে”। পবিত্র মসজিদে আরো বেশি লোক জমা করে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ এবং তওবা করে করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে দোয়া করতে হবে।
৬। খোদায়ী রহমতের পথগুলো খোলা রাখা তথা মসজিদ, জুমুয়া, গণজমায়েতে পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ এবং তওবা ও দোয়া করা গযবী করোনা ভাইরাস ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্র ও নাগরিকের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।
৭। করোনা ভাইরাসের অজুহাতে বেশি বেশি কেনা-কাটা, মজুদদারী, মুনাফাখোর, সিন্ডিকেট দৌরাত্ম, কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ রোধে সরকার এবং জনগণকে একসাথে জিহাদে নামতে হবে।
সমাবেশ ও মানববন্ধনে সমন্বয় করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগের সভাপতি- পীরজাদা, বর্ষীয়ান বিপ্লবী জননেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আখতার হুসাইন বুখারী, (পীর সাহেব, টাঙ্গাইল)। বক্তব্য রাখেন- সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদের সভাপতি- আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার, মাওলানা মুহম্মদ শওকত আলী শেখ ছিলিমপুরী, দপ্তর সম্পাদক- বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ, লায়ন আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ আবু বকর সিদ্দিক, সহ সভাপতি- মাওলানা মুহম্মদ শোয়েব আহমেদ গোপালগঞ্জী, সাংগঠনিক সম্পাদক- হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জলিল, মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সবুর মিয়া সহ-দপ্তর সম্মাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী ওলামা লীগ। আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ মুজিবুর রহমান আল মাদানী, হাফেজ ক্বারী মুহম্মদ শাহ আলম ফরাজী, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, হাফেজ মুহম্মদ আব্দুল বারী, কারী মাওলানা মুহম্মদ আসাদুজ্জামান আল কাদেরী, আলহাজ মুহম্মদ খোরশেদ আলম রেজভী, কাজী অধ্যাপক মাওলানা মুহম্মদ নোমান চৌধুরী, হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আল আমীন, আলহাজ্জ মাওলানা মুহম্মদ রফিকুল ইসলাম সিদ্দীকি আল কুরাইশি, হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সোবাহান, মাওলানা মুহম্মদ ওমর ফারুক গোপালগঞ্জী, মাওলানা মুহম্মদ আব্দুর রব-সা:সম্পাদক শ্রীনগর উপজেলা ওলামা লীগ, মাওলানা মুহম্মদ মাহবুব আলম, কাজী মাওলানা মুহম্মদুল্লাহ, মাওলানা মুহম্মদ মোকাম্মেল হুসাইন চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সম্মিলিত ইসলামী গবেষণা পরিষদ চেয়ারম্যান- আলহাজ্জ হাফেজ মাওলানা মুহম্মদ আব্দুস সাত্তার। মিছিল শেষে শহীদ বঙ্গবন্ধু রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রূহের মাগফিরাত কামনা করে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হায়াতে তৈয়বার জন্য দোয়া মোনাজাত করেন- আলহাজ্জ কাজী মাওলানা মুহম্মদ আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী।





























