[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]
গত ২৮ অক্টোবর মিরপুর রুপনগরে গ্যাসসিলিন্ডার বিস্ফারণে বেলুন কিনতে আসা শিশুদের মধ্যে ১০জন শিশু গুরুতর আহত হয়।
নিহত পাঁচ শিশু হলো: শাহিন (১০), নূপুর (৭), ফারজানা (৯), জান্নাত (১৪) ও রমজান (৮)। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেন রূপনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন। অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বিস্ফোরণের ঘটনায়। চিকিৎসার জন্য তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে আহত শিশুদের চিকিৎসা দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়, গুরুতর আহতরা এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

২ নভেম্বর ২০১৯ সকাল ১১ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঢাকা মহানগর আন্দোলন উপ পরিষদ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে সহ-সভাপতি হোমায়রা খাতুন, সংগঠন সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগর, প্রশিক্ষণ,গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন ইতি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরেজমিনে আহত শিশুদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। গলা, হাত, পা, চোখ ঝলসে যাওয়া শিশুরা যারা এখনো সুস্থ হয়নি অথচ অর্থ সাহায্য অভাবে ঔষধ কিনতে না পেরে ধুঁকছে, হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেয়া এ শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবারগুলো শংকিত। বিশেষ উল্লেখ্য যে, শুধুমাত্র মৃত শিশুদের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা প্রদান করেছে সরকার অথচ আহতরা যথাযথ সাহায্য পায়নি।


উল্লেখ্য, যে বস্তিতে এই পরিবারগুলোর বসবাস করছে সেটির অবস্থাও আতংকজনক। বস্তিতে ২৫০শ পরিবার বাস করে। বাঁশের পাটাতন দিয়ে রাস্তা বানানো, বাঁশের মাঁচার ওপর বানানো ঘরগুলোতে আগুন লাগলে কারোরই রক্ষার উপায় নেই। এছাড়া পরিবেশ বিপর্যয় তো আছেই।
দুঃখের বিষয় যে, বস্তির মালিক যাঁরা ভাড়া নিচ্ছেন তাঁরাও আহত শিশুদের পরিবারের পাশে আর্থিক সাহায্য নিয়ে এসে দাঁড়ায়নি। যথাযথ নিয়মিত চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন এ শিশুদের এই ভয়াবহ পোড়াক্ষত সারিয়ে তুলতে।

ঢাকা মহানগর, আন্দোলন উপ পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তদন্ত টীম প্রস্তাব করছে যে,
* আহত পোড়া শিশুদের সম্পূর্ণ নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসার সুযোগ দিতে হবে।
* প্রকাশ্যে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ আইন করতে হবে।
* ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়কারীকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
* বিত্তবানদের এই আহত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছে।
* এধরনের বস্তিঘর ভেঙ্গে দিয়ে চরম অনিশ্চিত ঝুঁকিপূর্ণ জীবন থেকে সাধারন মানুষের জীবনকে রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছে।
লেখকঃ হোমায়রা খাতুন































