[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]
সংবাদ প্রকাশের জেরে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় দৈনিক মানবজমিনের উপজেলা প্রতিনিধি শহিবুল ইসলাম পিপুলকে লাঞ্ছিত করেছে জুয়াড়ি ও মাদকচক্রের সদস্যরা। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের বটতলা মোড়ে। এ ঘটনায় ওই সাংবাদিক ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পিপুল উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক গুলজার হোসেনের ছেলে। সে কালের কণ্ঠের পাঠক ফোরাম শুভসংঘেরও সদস্য। অভিযুক্তদের মধ্যে একাধিকজন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামে একটি নির্জন বাগানে রাতের বেলায় জুয়া খেলার সময় গ্রামের বাসিন্দারা ধাওয়া করে সাতজন জুয়াড়িকে আটক করে। পরে ওই যুবকদের অভিভাবকেরা স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল হাসানের কাছে আর জুয়া খেলবে না এই মর্মে মুচলেকা দিয়ে সন্তানদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এ নিয়ে দৈনিক মানবজমিনসহ একাধিক জাতীয় পত্রিকায় নিউজ হয়। এরপর ২০ এপ্রিল এই জুয়াড়িচক্রের সদস্যরা আবারো গ্রামের মাঠের মধ্যে জুয়া খেলতে বসে। তখন গ্রামবাসী এ বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকে জানালে গ্রাম পুলিশ গিয়ে চার জুয়াড়িকে আটক করে। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ৪ জুয়াড়িকে আট হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায়ও মানবজমিনসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়।
এরপর থেকেই ওই জুয়াড়িচক্রের সদস্যরা শাহিবুল ইসলাম পিপুলকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে সোমবার রাতে বাড়ি ফেরার সময় পিপুলকে পূর্বে জনগণের কাছে ধৃত হওয়া পাথরঘাটা গ্রামের জুয়াড়িচক্রের সদস্য মাহমুদ আলীর ছেলে সৈকত (২০), আবু সাঈদের ছেলে মিলটন আহমেদ (২৫), মনসুর আলীর ছেলে মামুন (২২), শহীদ আলীর ছেলে শরীফ (২০), হামেদ আলীর ছেলে মাহফুজ (২৫), কোরবান আলীর ছেলে হাসান (২৫) ও আজাদ আলীর ছেলে ডলার (২৫) সহ ১০/১২ জন পথ আটকে মারধর করে। রাতেই সাংবাদিক পিপুল ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে সৈকত ও মিল্টন ছাত্রলীগ করে এবং ভাঙ্গুড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহর ঘনিষ্ঠজন। তবে এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান বাকী বিল্লাহ তীব্র নিন্দা জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জুয়ারু ও মাদকসেবীদের ধরতে থানা পুলিশ খুবই তৎপর রয়েছে। এ অবস্থায় বিপথগামী যুবকগুলো জুয়া খেলে সামাজিক অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। অপরদিকে নিউজ প্রকাশ করায় সাংবাদিককে মারধর করেছে। এটা অনেক বড় ধরনের অপরাধ। তাই অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। এ ছাড়া দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


























