ভেজালমুক্ত খাবার ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিতকরণে এখনই সময়

রবিবার, মে ২৬, ২০১৯,১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
0
142

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

সোচ্চার হয়ে উঠতে হবে সবাইকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

মানুষের মৌলিক চাহিদার (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য) মধ্যে খাদ্য একটি প্রধান ও অন্যতম মৌলিক চাহিদা। জীবন ধারণের জন্য খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর খাদ্য। আর এ বিশুদ্ধ খাদ্য সুস্থ ও সমৃদ্ধশালী জাতি গঠনে একান্ত অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশে বিশুদ্ধ খাবার প্রাপ্তি কঠিন করে ফেলছে কিছু বিবেকহীন ব্যবসায়ী ও আড়তদার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও এদের নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছে।

নিত্য প্রয়োজনীয় সকল খাবারে শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক এমন সব বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত করে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিচ্ছে এই অসাধু বিক্রেতারা। যার ফলে দিনে দিনে একটু একটু করে স্বাস্থ্যজনিত ঝুঁকি বেড়ে চলছে। এই সকল ভেজাল যুক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে জীবন বিপন্ন পর্যন্ত হতে পারে। দেশের নিত্য প্রয়োজনীয় এমন কোন খাবার পাওয়া দুষ্কর যেটিতে ভেজাল মিশ্রিত হয়না। শাকসবজি থেকে শুরু করে মাছ- মাংস, ফল-মুল, প্যাকেটজাত খাবার এমনকি রান্না করার মসলা পর্যন্ত সব খাদ্যে ভেজাল পরিপূর্ণ।

দেশের সাধারন মানুষ বিকল্প কোন উপায় বা ব্যবস্থা না থাকায় এক রকম বাধ্য হয়ে এই সকল ভেজাল খাদ্য গ্রহণ করছে। যার ফলে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ স্বাস্থ্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অকালে ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে। অতি মুনাফালোভী এক শ্রেণীর মানুষ দেশের ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে এই ঘৃণিত কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনকে। ব্যাহত করছে দেশের সার্বিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে।

দেশের সরকার ও উচ্চ আদালত কর্তৃক বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হলেও স্থায়ীভাবে সমাধান করা হয়নি এই খাদ্যে ভেজাল দূরীকরণ। সবসময়ই ব্যর্থ হতে হয়েছে এই এই কুচক্রী মহলের নিকট। দেশের সকল আইন উপেক্ষা করে তারা এই ঘৃণিত কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। খাদ্যে বিভিন্নরকম রাসায়নিক বিষ মিশ্রিত করে সরবরাহ করছে দেশের জনসাধারণের নিকট। যা গ্রহণের ফলে মানুষ একটু একটু করে অগ্রসর হচ্ছে অনিশ্চিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।

সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশে দেশের কিছু খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ বেশকিছু পণ্য বর্জনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানায় দেশের জনসাধারণ। তবে শঙ্কা থেকেই যায় যে, দেশের স্থানীয় যে সকল কাঁচামালের বাজার রয়েছে সেখানে বন্ধ করা যাবে কিনা এই খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ প্রক্রিয়া? আদৌ কি সম্ভব হবে পুরোদমে খাদ্যে ভেজাল মিশ্রণ কার্যক্রম বন্ধ করা? ভেজাল মিশ্রণকারী মূলহোতারা কি যথাযথ শাস্তি পাবে নাকি রয়ে যাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে? এই প্রশ্ন এখন পুরো দেশের মানুষের।

এখনই সময় এই খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করার। তা না হলে যেকোনো সময় দেশের জন্য একটি মহামারী আকার ধারণ করতে পারে খাদ্যে বিষ মিশ্রণ প্রক্রিয়া। বিশেষভাবে প্রয়োজন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কর্তৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপ। কোনভাবেই যেন ছাড় না পায় এই মানুষরূপী অমানুষ গুলো। যারা সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চয়তায় ফেলছে সেসকল বিবেকহীন মানুষদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করেদেশের জনগণ ।

ভ্রাম্যমান আদালত ও মনিটরিং কর্তৃপক্ষের নিকট বিশেষ অনুরোধ, যেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ও তাদের কার্যক্রম চলমান থাকে। যেন কোনোভাবেই পার না পায় এই সকল কুচক্রী মহল। যথাযথ ব্যবস্থা যেন নেওয়া হয় তাদের বিরুদ্ধে।

দেশের সরকারের সাথে একাত্ম প্রকাশ করে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে শামিল হয়ে দলমত র্নিবিশেষে একযোগে সচেতন হয়ে উঠতে হবে এই খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করতে। উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে ভেজালমুক্ত খাবার ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিতকরণে এখনই সময় সোচ্চার হয়ে উঠতে হবে সবাইকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

লেখক:শাহরিয়ার আহমেদ

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে