মাননীয় স্পিকারের নিকট স্কপের স্মারকলিপি প্রদান

শনিবার, জুন ২৯, ২০১৯,১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
0
61

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) বাজেটে শ্রমিক কর্মচারীদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দে জন্য ৮ দফা প্রস্তাবনা সম্বলিত একটি স্মারকলিপি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পিকার জনাব ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপির নিকট প্রদান করেন। আজ দুপুর ১২টায় মাননীয় স্পিকারের সংসদীয় কার্যালয়ে স্কপ নেতৃবৃন্দ স্মারক লিপি হস্তান্তর করেন। এসময় শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক জনাব কামরূল আহসানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন স্কপ নেতা ডাঃ ওয়াজেদুল ইসলাম খান, শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, চৌধুরী আশিকুল আলম, সাইফুজ্জামান বাদশা, রাজেকুজ্জামান রতন। এসময় মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শিরীন আক্তার ও সংসদ সদস্য জনাব ইকবালুর রহিম উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপির কপি এর সাথে যুক্ত করে দেয়া হলো।

জনাব ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি
মাননীয় স্পিকার,
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ
বিষয় : বাজেটে শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা প্রসঙ্গে।
প্রিয় মহোদয়,
আমাদের শুভেচ্ছা জানবেন। গত ১৩ জুন ২০১৯ তারিখে মহান জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপিত হয়েছে। রপ্তানি, রেমিটেন্স, কৃষি, শিল্প, সেবাখাত মিলে যে উৎপাদন হচ্ছে তার ফলে বাজেটের আকারও প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবারের বাজেটের আকার প্রায় ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। গত অর্থ বছরের বাজেটের আকার থেকে যা ৫৮ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা বেশী। বিশাল এই বাজেট বিগত সময়েরই ধারাবাহিকতা এবং শ্রমজীবী মানুষের অবদান। কিন্তু এ বাজেটে শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটেনি। বাজেটের বিশালত্ব নিয়ে মাননীয় অর্থমন্ত্রী গর্ব করলেও বাজেটে শ্রমিকদের জন্য সুস্পষ্ট এবং প্রত্যক্ষ কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি। বাজেটে মালিকদের জন্য কর ছাড়, রপ্তানি প্রণোদনা, ঋণসহজিকরণ, খেলাপীঋণ মওকুফ, উদ্দোক্তা তহবীলসহ প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অনেক সুযোগ দেয়া হলেও শ্রমজীবী মানুষের জন্য উল্লেখ করার মত কিছুই রাখা হয়নি। আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করলাম যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের জন্য মাত্র ৩১৩ কোটি এবং প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের জন্য মাত্র ৫৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা বিশাল বাজেট সমুদ্রে বিন্দুর মত। বাজেটের সবচেয়ে বড় আয় আসবে পরোক্ষ কর থেকে। এই বিশাল ভ্যাট-ট্যাক্সের একটা বড় অংশ বহন করবে শ্রমজীবী মানুষ। কিন্তু মাননীয় অর্থমন্ত্রী ও তার মন্ত্রনালয় দেশের এই ৬ কোটি ৩৫ লাখ শ্রমজীবী মানুষ যারা কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে শ্রম দিয়ে অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছে, যাদের শ্রমে রপ্তানি আয় এবং রেমিটেন্স আসে সেই দেশী ও প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে বাজেট প্রনয়ন প্রক্রিয়ায় কোন আলোচনা করার প্রয়োজন বোধ করেন নি। এটা শ্রমজীবী বিশাল জনগোষ্ঠিকে উপেক্ষা করার সামিল। আমরা তাই বাজেটে শ্রমিক স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য আপনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদের কাছে শ্রমিকদের আকাংখা ও দাবি উপস্থাপন করতে চাই। আমরা আপনার সহৃদয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
আমরা দেশের শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা তুলে ধরছি-

১. শ্রমিক কর্মচারীসহ শ্রমজীবী মানুষের জন্য রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করা, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সুলভ মূল্যে আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বরাদ্দ রাখা।
২. দূর্ঘটনায় আহত ও নিহত শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ আইন পরিবর্তন করে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা এবং পুনর্বাসনের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা।
৩. বাজেটে পাট শিল্প পূনরুদ্ধার ও রক্ষার জন্য ব্যবস্থাপনা সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দ রাখা।
৪. পাটসহ রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্পের শ্রমিকদের জন্য জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের রোয়েদাদ বাস্তবায়নে বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা। শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটির টাকা পরিশোধের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা।
৫. বাজেটে পেশাক খাতের মালিকদের জন্য প্রনোদনা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অথচ পোষাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য বাজেটে কোন বরাদ্দ নেই। পোষাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য-নিরাপত্তা সামজিক সুরক্ষায় সুনিদিষ্ট বরাদ্দ রাখা। শিল্পঘন এলাকায় শ্রমজীবী হাসপাতাল, শিক্তযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা।
৬. ব্যাংকিং খাতে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে প্রাপ্ত অর্থ শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা। সামাজিক বেস্টনির আকার বৃদ্ধি করা।
৭. দুর্নীতিরোধে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না রেখে তা বাজেয়াপ্ত ও আদায় করে উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ করার উদ্যোগ নেয়া।
৮. প্রস্তাবিত বাজেটে ‘কন্ট্রিবিউটরী’ পেনশন স্কিমের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা সার্বজনিন করতে হবে। এবং শ্রমজীবী জনগণকে এই সার্বজনিন পেনশন স্কিমের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে