৭৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম ৫ বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

রবিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১,৪:৩২ অপরাহ্ণ
0
6

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

আজ মোট ৭৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১১:০৫ মিনিটে তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ যারা ব্যবহার করেন তাদের সাশ্রয়ী হতে হবে। দেশে এখন অনেকে অর্থশালী-সম্পদশালী হয়ে গিয়েছেন, যারা বিল দেবেন ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন। এটা মনে রাখতে হবে, আমরা যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি তার খরচ কিন্তু অনেক বেশি।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে অনুরোধ করবো যে, বিদ্যুৎ ব্যবহারটায় আপনারা একটু সচেতন হবেন। নিজের হাতে যখন কাজ থাকবে না আপনি বিদ্যুতের সুইচগুলো বন্ধ করে রাখেন। এতে বিলটাও কম আসবে, আপনাকেও টাকা কম দিতে হবে, আমাদের বিদ্যুৎও সাশ্রয় হবে। সেই বিষয়টা সবাইকে আমরা একটু অনুরোধ করব।

তিনি বলেন, গ্রাহকদের সেবা দেবার জন্য সেখানে ব্যাপকহারে ভর্তুকি দিচ্ছি। উৎপাদনের যেই খরচ সেই খরচটা কিন্তু আপনাকে বিল হিসেবে দিতে হচ্ছে না। এবং অনেক কম টাকা বিল দেওয়া হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহারের সময় যদি আপনারা সাশ্রয়ী না হন তাহলে কত ভর্তুকি আমরা দিতে পারব? সেটা দেখতে হবে। সে জন্যই সবাইকে আমরা অনুরোধ করব বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে মিতব্যয়ী হতে হবে।

নিজেও প্রয়োজন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি যখনই বের হই তখনই আমার যেখানে যেখানে মনে হয় বিদ্যুৎটা অপ্রয়োজনীয়, আমি আমার নিজের হাতে সুইচগুলো অফ করি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি গণভবন সরকারি। যতই চালাক, এখানকার যারা কাজ করে তাদের নিয়ম হচ্ছে সব জ্বালিয়ে রাখা। কিন্তু আমি যতটুকু জায়গায় বসবাস করি সেটুকু আমি আমার সাশ্রয়টা সঠিকভাবে করে রাখি। অভ্যাসটা ঠিক রাখি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিরদিন তো কেউ আর প্রাইম মিনিস্টার থাকে না। এটা হয়তো পাঁচ বছরের জন্য আসে। এরপরে তো আর থাকব না। তখন তো আবার নিজের মতোই চলতে হবে। অভ্যাসটা নষ্ট করে তো লাভ নেই।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনারাও যারা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন এটা মনে রাখবেন যে, এক এক ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিন্তু অনেক বেশি খরচ পড়ে, যা আমরা আপনাদের সবাইকে খুব অল্প খরচে দিয়ে থাকি। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সবাইকে বলব, মিতব্যয়ী হন, যা সাশ্রয় হবে সেটা হয়তো আরেকটা গরিব মানুষকে আমরা সহায়তা দিতে পারব এবং দেশ এগিয়ে যাবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র পাঁচটি হচ্ছে- হবিগঞ্জের জুলদায় বিবিয়ানা-৩ ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র, চট্টগ্রাম ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র ইউনিট-২, নারায়ণগঞ্জে মেঘনাঘাট ১০৪ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লান্ট, বাগেরহাটে মধুমতি ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিলেটের ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উত্তরণ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াসেকা আয়েশা খান, জ্বালানি বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিসুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মো. হাবিবুর রহমান ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে