২ লক্ষ মানুষকে সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ সহায়তা

শুক্রবার, মে ২২, ২০২০,১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
0
88

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদফতরের আওতায় ১১ মে পর্যন্ত উদ্যোগে এক লক্ষ ৯৬ হাজার মানুষকে ত্রাণ হিসেবে খাদ্যসহায়তা ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে তিন কোটি টাকা এবং জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ থেকে ২৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হচ্ছে। সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের ব্যক্তিগত অনুদান এবং ৫৬ হাজার নিবন্ধিত স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাসমূহের অনুদানেও ত্রাণকার্য পরিচালনা করা হচ্ছে।

            করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার আওতায় ৮০ লক্ষ উপকারভোগীর মধ্যে ভাতাদি বিতরণের কাজ চলছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-বয়স্কভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগী ৪৪ লক্ষ, বিধবা ও স্বামীনিগৃহীতা মহিলাভাতা কর্মসূচিতে ১৭ লক্ষ, অসচ্ছল প্রতিবন্ধীভাতা কর্মসূচিতে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচিতে এক লাখ, হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে ছয় হাজার, বেদে জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে ১০ হাজার, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৭১ হাজার, চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে উপকারভোগী ৫০ হাজার, ক্যান্সার, কিডনী লিভার সিরোসিস, জন্মগত হৃদরোগী, প্যারালাইজড, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের আর্থিক সহায়তাপ্রদান কর্মসূচিতে ৩০ হাজার এবং বেসরকারি এতিমখানায় ক্যাপিটেশন গ্রান্ট পাচ্ছেন ৯৭ হাজার ৫০০ জন।

            সকল সামাজিক নিরাপত্তাকার্যক্রমের আওতায় জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তৃতীয় কিস্তির নিয়মিত ভাতাবিতরণ এবং এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চতুর্থ কিস্তির অগ্রীমভাতাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে। ঈদুলফিতরের পূর্বেই সকল ভাতাবিতরণের কাজ সম্পন্ন হবে। পরিস্থিতির কারণে সুদমুক্ত ঋণগ্রহীতাদের নিকট থেকে ঋণ আদায় স্থগিত রয়েছে। পরিস্তিতি স্বাভাবিক হলে অর্থ বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে অতিরিক্ত ঋণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। এখাতে অতিরিক্ত এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য অর্থবিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বর্তমানে চলমান সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণগ্রহীতার সংখ্যা প্রায় ১২ লক্ষ ৮৩ হাজার এবং সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ আদায়ের হার গড়ে ৯০%। বর্তমানে সমগ্রদেশে জেলা-উপজেলাপর্যায়ে সর্বমোট ৫২৩ টি হাসপাতাল সমাজসেবা ইউনিটের মধ্যে ঢাকামহানগরীসহ জেলাপর্যায়ে সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতালে ১০৪ টি ও উপজেলাপর্যায়ে ৪১৯ টি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

            অন্যদিকে, সুবিধাবঞ্চিত শিশুসুরক্ষা কার্যক্রমের অধীনে৮৫টি সরকা‌রি শিশু প‌রিবার, ছয়টি এ‌তিম ও প্রতিবন্ধী‌ ছে‌লে মে‌য়ে‌দের কারিগরী প্রশিক্ষণকেন্দ্র-, তিনটি ম‌হিলা‌দের আর্থসামা‌জিক প্রশিক্ষণকে‌ন্দ্র, ছয়টি ছোটমনি নিবাস, একটি ডেকেয়ার সেন্টার, ১৩টি শেখ রাসেল শিশুপ্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনকেন্দ্র এবং তিনটি দুস্থ শিশুপ্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনকেন্দ্র মোট উপকারভোগী রয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১৭ হাজার এবংও তিন হাজার ৯২০টি বেসরকারি ক‌্যা‌পি‌টেশন গ্রান্টপ্রাপ্ত বেসরকা‌রি এতিমখানায় সাড়ে ৯৭ হাজার শিশু। আইনের সংস্পর্শে বা সংঘর্ষে আসা শিশু ও ব্যক্তির উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের আওতায় তিনটি শিশু উন্নয়নকেন্দ্র, ছয়টি মহিলাও শিশু-কিশোরী হেফাজতীদের নিরাপদ আবাসনকেন্দ্র, পাঁচটি সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র এবং ছয়টি সামাজিক প্রতিবন্ধী মহিলাদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনকেন্দ্রেও নতুন নিবাসীদের আলাদাভাবে ১৪ দিন কোয়ারেনটাইন রুমে রাখা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৭৯টি প্রতিবন্ধী বিষয়ক প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক হাজার ৫৮৭ জন নিবা‌সির স্কুলবন্ধ থাকায় কো‌চিং সাই‌কেলের মাধ্যমে, টিভি ও অনলাইনভিত্তিক পাঠদান নিশ্চিত করা হয়েছে। এরমধ্যে সমন্বিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৬৪টি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান-১৫টি।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে