হালদা নদীতে ডলফিন ও মা মাছ রক্ষায় কমিটি করে দিলেন হাইকোর্ট

মঙ্গলবার, মে ১৯, ২০২০,৫:৫৬ অপরাহ্ণ
0
40

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

হাইকোর্ট কমিটি করে দিয়েছেন হালদা নদীতে ডলফিন হত্যা বন্ধ, কার্প জাতীয় মা মাছ এবং জীব বৈচিত্র রক্ষায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে প্রধান এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে। নদী তীরবর্তী সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা রাখা হয়েছে কমিটিতে।

কমিটিতে জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রামের নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা মৎস কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, রাউজান, রামগড় ও মানিকছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসকের মনোনীত দুইজন হালদা গবেষক ও দুইজন এনজিও প্রতিনিধি, নদী তীরবর্তী উপজেলা চেয়ারম্যানদের সদস্য রাখা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালত ২৮ মে পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে গত ১২ মে একই আদালত হালদা নদীতে ডলফিন হত্যা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ডলফিন রক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ই-মেইলের মাধ্যমে আদালতকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে একটি করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

এই প্রতিবেদন দেখার পর আদেশে বলা হয়, প্রতিবেদন দেখলাম। পরিবেশ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের অংশীদারিত্বে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে “হালদা নদীর ডলফিন হত্যা রোধ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীব বৈচিত্র এবং সকল প্রকার জাতীয় মা মাছ রক্ষা কমিটি” গঠন করবেন। এরপর কমিটি করে দেন আদালত। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

আদালত এ আদেশ দেন ,হালদা নদীর ডলফিন রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. আব্দুল কাইয়ুম লিটনের করা রিট আবেদনে। রিট আবেদনকারী নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও অমিত তালুকদার। হালদা নদীতে একের পর এক ডলফিন হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত সংবাদ যুক্ত করে এই রিট আবেদন দাখিল করা হয়। 

১০ মে একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকের অনলাইনে (বাংলা ভার্ষন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ডলফিন হত্যার বিষয়ে বলা হয়, ইউএনডিপির সহায়তায় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হালদা নদীতে ডলফিন বিষয়ে জরিপ পরিচালনা করা হয়। ওই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, হালদা নদীতে পঁয়তাল্লিশটি ডলফিন রয়েছে। ওই জরিপে আরো বলা হয়, এরইমধ্যে হত্যা করা হয়েছে ২৪টি ডলফিন।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এভাবে ডলফিন হত্যা হলে ২০২২ সালের মধ্যে হালদা নদী ডলফিন শূন্য হয়ে পড়বে। বিলুপ্ত হয়ে যাবে বিপন্ন প্রজাতির এই ডলফিন।

এইসব প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে রিট আবেদনে বলা হয়, বিবাদীরা বিপন্ন প্রজাতির এই ডলফিন রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। সুতরাং এই ডলফিন রক্ষায় আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে