হতদরিদ্রদের খাদ্য ও জীবিকার সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের ঘোষণা না থাকায় জাতি হতাশ

রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২০,৩:১৬ অপরাহ্ণ
0
11

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

বাম গণতান্ত্রিক জোট দাবি করেছে, প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে হতদরিদ্রদের খাদ্য ও জীবিকার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দের ঘোষণা না থাকায় জাতি হতাশ হয়েছে। এক বিবৃতিতে এই দাবি করেছেন বাম জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আজ রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার ১০দিন অতিবাহিত হয়েছে। ইতিমধ্যে সারা দেশের শ্রমজীবী, বস্তিবাসী, হকার, রিকশা চালক, ফুটপাতের ছিন্নমূল, গ্রামের দিনমজুরসহ নিন্ম আয়ের মানুষের জীবনে দুর্বিসহ সংকট নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর গত ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে রপ্তানি শিল্পের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ছাড়া হতদরিদ্র মানুষের জন্য কোনো তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা ছিল না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, অর্থনীতিবিদ সকলেই দেশের হতদরিদ্রদের জন্য আগামী ৬ মাসের খাদ্য সরবরাহ ও নগদ অর্থ প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা ও পদক্ষেপের ঘোষণা নেই।

বিৃবতিতে বলা হয়, দেশের অর্থনীতির ৫০ শতাংশের অধিক নন ফর্মাল (অপ্রাতিষ্ঠানিক) খাতের হলেও তার হিসাব সরকারের খাতায় নেই। যাদের কোনো টিআইএন নাম্বার নেই। মুদি দোকানদার, রিকশা গ্যারেজ, পান দোকানদার, ভ্যানগাড়িতে সবজি বিক্রেতাসহ অন্যন্যরা। এরকম কমপক্ষে ২০ লক্ষ মানুষকে গড়ে ৫০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ এক বছরের জন্য দিলে মাত্র ১০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। অথচ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এদের জন্য এবং হতদরিদ্রদের খাদ্য ও নগদ অর্থ প্রদানের জন্য যেমন সুনির্দ্দিষ্ট বরাদ্দের উল্লেখ নেই। তেমনি দেশের বিশাল ব্যক্তিখাত কৃষির জন্যও সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ ঘোষিত হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, করোনার প্রভাব ইতিমধ্যে কৃষিতে সংকট তৈরি হয়েছে। ফল, সবজি, ফুল, মৎস্য চাষিরা, পোল্ট্রি, ডেইরি খামারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সুরক্ষার জন্য সুনির্দ্দিষ্ট পদক্ষেপ জরুরি। আর সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা ও সমন্বয়হীনতার জন্য দেশের পোষাক শিল্পের শ্রমিকরা একদিকে হয়রানির শিকার হচ্ছে অন্যদিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আরো বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের বক্তব্যে এক ধরনের আত্মতুষ্টির বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু আত্মতুষ্টিতে না ভেসে বেশি বেশি পরীক্ষা করা ও ভাইরাস প্রতিরোধে উদ্যোগ নেওয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার। করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে একে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ ঘোষণা করে সকল রাজনৈতিক, সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে