স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশকে নিরাপদ রাখার মনোভাব নিয়ে ঈদ উদযাপন করুন : ওয়ার্কার্স পার্টি

রবিবার, মে ২৪, ২০২০,১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
0
31

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

কভিড-১৯ তথা করোনা ভাইরাস সংক্রমন দ্রুত বিস্তর ঘটছে । করোনা সংক্রমনের এই উর্দ্ধমুখি প্রবনতায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

আজ পলিট ব্যুরোর এক সভায় বলা হয়,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে ইমিধ্যে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে, মৃত্যূর সংখ্যা ৪৫০জন। এই অবস্থা চলতে থাকলে মে মাস শেষে তা বৃদ্ধি পেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা পঞ্চাশ হাজারে পৌঁছে যাবে, যা উদ্বেগজনক। আজ বিকেল তিনটায় পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ভিডিও কনফারেন্সে পলিটব্যুরোর সদস্যগন অংশ নেন।

পলিট ব্যুরোর সভায় বলা হয়, দেশে করোনা সনাক্তের পরিক্ষা যত বাড়ছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তেরসংখ্যা। সভায় বলা হয়, সরকার করোনা মোকাবেলায় দফায় দফায় সাধারণ ছুটি বাড়িয়ে ৩০ মে’ পর্যন্ত্য বৃদ্ধি করেছে। লক্ষ্য ছিল জনগনকে সংগনিরোধে রেখে করোনা সংক্রমন ঠেকানো, বাস্তবে তা হয়নি। প্রথমে গার্মেন্টস কারখানা খুলে দেয়া পরে ঈদ বনিজ্যের জন্য মার্কেট ও দোকানপাট খুলে দেয়ার কারনে স্বাস্থ্যবিধির বাধ্যবাধকতা রাখা যায়নি। আসলে পরিপুর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জনগনকে সচেতন ও নিয়ন্ত্রন করা যায়নি। জনগনের মধ্যেও এনিয়ে এক ধরনের বেপোরোয়া মনোভাব তৈরী হয়েছে। ফলে সামাজিক ও ব্যক্তি দুরত্ব বজায় রাখার পরিবর্তে সামাজিক সংক্রমন বৃদ্ধির ঝুকি তৈরী হয়েছে। সভায় বলা হয়. প্রথম দিকে করোনা ঝুকি ঠেকাতে ঈদ উৎসবকে সামনে রেখে সরকারের ঊর্দ্ধতন মহলের কঠোর মনোভাব প্রকাশিত হলেও পরবর্তিতে শুধুমাত্র গণ পরিবহন বন্ধ রেখে ব্যক্তিগত গাড়ী যোগে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া- আসার সুযোগ দেয়ার সিন্ধান্ত সঠিক হয়নি।এভাবে অবাধ চলাচলের সুযোগ দিয়ে যে দৃশ্যমান স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গের পরিবেশ তৈরী করা হলো তা ভবিষ্যতে ভয়াবহ সংক্রমনের অনিবার্য পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের যাতায়তের বাহন বন্ধ করে ব্যক্তিগত বাহনে চলাচলের সুযোগ শুধু অমানবিকই নয়, বৈষম্যমুলকও। ঈদউদযাপনে সাধারণ মানুষ গণপরিবহনের অভাবে অতিরিক্ত ভাড়া ও চরম দুর্ভোগের মধ্যে তাদের গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সভায় বলা হয়. এই মহামারিকালে সকল বিষয় বিবেচনা করে সরকারের সকল অংশের সমন্বয়ে যে কোন সিদ্ধন্ত ও ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বর্তমান বৈশ্বিক মহামারির কারনে যেখানে সৌদিআরব,আরবআমিরাত সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্নদেশ মসজিদ ও ময়দানে ঈদের জামাতে বিধি নিষেধ আরোপ এমন কি কারফিউ পর্যন্ত ঘোষনা করেছে, সেখানে বাংলাদেশে এই শিথিলতা কাদের প্রয়োজনে তা বোধগম্য নয়।

পলিটব্যুরোর সভায়, সকল স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম মেনে নিজকে, পরিবার, সমাজ এবং দেশকে সুরক্ষা ও নিরাপদ রাখার মনোভাব নিয়েই এবারের ঈদ উদযাপনে দেশবাশির প্রতি আহবান জানানো হয়।পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি দেশের কভিড-১৯ সৃষ্টপরিস্থিতির রিপোর্ট তুলে ধরেন; আলোচনায় অংশ নেন কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক,কমরেড সুশান্ত দাস, কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড নুর আহমেদ বকুল, কমরেড হাজেরা সুলতানা, কমরেড কামরূল আহসান, কমরেড আমিনুল ইসলাম গোলাপ, কমরেড এ্যড. মোস্তফা লুৎফুল্লা এম পি, কমরেড হাজি বশিরুল আলম, কমরেড এনামুল হক এমরান, কমরেড নজরুল ইসলাম হাক্কানী, কমরেড নজরুল হক নীলু প্রমুখ।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে