সৌরশক্তি ব্যবহারে বিনামূল্যে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন গাজীপুরের কৃষকরা

বুধবার, মার্চ ১০, ২০২১,১২:৪৭ অপরাহ্ণ
0
22

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

আজহারুল ইসলাম জনি (গাজীপুর): সরকারের ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গাজীপুর জেলার তিনটি উপজেলার সাতটি গ্রামের কয়েকশ কৃষক পাচ্ছেন বিনামূল্যে সেচ সুবিধা ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এ সেচ কর্মসূচি একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমাচ্ছে অন্যদিকে পরিবেশেরও সুরক্ষা হচ্ছে।

(বিএডিসি) গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী ফারুক হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশের সিংহভাগ কৃষক তাদের কৃষি জমিতে সেচ দিতে ডিজেল চালিত ইঞ্জিল ও বিদ্যুৎচালিত মোটরের সাহায্য নিতে হয়।

তিনি আরো বলেন, পরিবেশ বান্ধব সেচ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারে গুরুত্ব দিয়ে সৌরশক্তির এ সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
কৃষকরা বিনামূল্যে সরকারি এ সুবিধা ভোগ করতে পারছেন। এ সেচ পাম্প চালাতে কোনো খরচ হয় না বিধায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা এমন ধরনের সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের দিকে প্রতিনিয়তই ঝুঁকছেন।
এতে কৃষি জমিতে উৎপাদন খরচ যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সেচের ভোগান্তি ও ভূগর্ভস্থ পানিরও অপচয় হয়।

বর্তমান সরকার কৃষির উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে ও নবায়নযোগ্য জ্বালানী শক্তির ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিয়ে সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচ নামের একটি কর্মসূচী চালু করেন।
এ কর্মসূচীর (পাইলট প্রজেক্টের) এর অধীন গাজীপুরের শ্রীপুরের নান্দিয়াসাঙ্গুনে ২টি, ধামলই গ্রামে ২টি, কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকায় ১টি ও গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী এলাকায় ২টি সোলার পাম্প সরকারি অর্থায়নে স্থাপন করে দেয়া হয়। ইউরোপিয়ান যন্ত্রাংশে প্রতিটি সোলার পাম্প স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ২৩ লাখ টাকা।

গত অর্থবছরে স্থাপন করা এক কেউসেক পানি উৎপাদনে সক্ষম এসব পাম্পের মাধ্যমে গাজীপুরের ৭টি এলাকার দেড় শতাধিক কৃষক প্রায় অর্ধশত একর জমিতে বিনামূল্যে সেচ সুবিধা পাচ্ছেন।
জ্বালানী খরচ না হওয়া, পনির অপচয়রোধ, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারযোগ্য এ সেচ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

নান্দিয়াসাঙ্গুন এলাকার কৃষক মো. আবু নাছের বলেন, “ডিজেল চালিত মেশিন দিয়ে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে দেড় হাজার টাকা লাগতো। সোলার পাম্প স্থাপন করায় এখন সে খরচটা লাগছে না। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদন খরচ কমেছে।”

অন্যদিকে কৃষক বাদল মিয়ার দাবি, এসব স্থাপনকৃত সোলার পাম্পের উৎপাদিত শক্তি সংরক্ষণের জন্য ব্যাটারির ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে শুধু দিনের বেলায় সেচ দিতে হয়।

ব্যাটারিতে চার্জ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে রাতেও সেচ দেওয়া যেত। এতে করে কৃষকরা আরও বেশি সেচ সুবিধার মধ্যে আসতো বলে মনে করেন এ কৃষক।

সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার হোসেন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “সরকার কৃষির উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। পানি সংরক্ষণ, সেচের অপচয় রোধ,ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহারের লক্ষ্যে সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচ তেমনি একটি উদ্যোগ।

এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার কৃষকদের সৌরশক্তির ব্যবহারের উপর আগ্রহ তৈরি করছে। এর ফলে কৃষিতে উৎপাদন খরচ অনেক কমে আসবে।”

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে