সৌদিতে দালালের খপ্পড়ে ১৮ রেমিটেন্স যোদ্ধার বেঁচে থাকার আকুতি

রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২০,১:৪৫ অপরাহ্ণ
0
74

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

এস এম সারফুদ্দিন শাওন : মানব পাচারকারী প্রতারকের খপ্পরে বাংলাদেশী ১৮ জন কর্মী রিয়াদ-ছুলাই(১৮)-ইসতামপুর অনাহারে দিনাতিপাত করছে।

গত মার্চ মাসের ১১ তারিখ জিএমজি ট্রেডিং প্রাঃ লিঃ এবং এস মুন্সী নামক দুটি রিক্রুটিং এজেন্সীর মাধ্যমে সৌদি আরবের রিয়াদস্থ-ছুলাই(১৮)-ইসতামপুর বাংলাদেশী প্রায় ১৮ জন কর্মীর মধ্যে কয়েক জনের সাথে ফোনালাপের মাধ্যেমে জানা যায়, তারা মান্দাতার আমলের একটি জীর্ণ কুঠিরে অবস্থান করছেন। যেখানে নেই পানি, নেই টয়লেট, নেই গোসলের ব্যবস্থা, নেই রান্না করার চুলা, নেই নিয়োগ কর্তার প্রকৃত ঠিকানা, নেই তাদের সুরক্ষার জন্য কোনরুপ ব্যবস্থা বা খোজ-খবর নেওয়ার মত কোম্পানীর কোন প্রতিনিধি।

কয়েক দিন পার হলে গত ২৫ তারিখে সালফা নামক “সাফলাই কোম্পানীর” অধীনে ৬০০ রিয়াল মাসিক বেতনে কাজ করার জন্য চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করার কথা বলা হলে তারা স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায়, করোনা পরিস্থিতি ভাল হলে দেশে ফেরত পাঠানো হবে মর্মে হুমকি দেওয়া হয়।তারপর সকল কর্মী তাদের একমত হয়ে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকে।

তখন থেকেই যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে তাদের মাথায়। স্বপ্ন ভেঙ্গে তখন চুড়মার। দু’চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে অশ্রুবিন্দু। যে চোখে মুখে তারা রঙ্গিন স্বপ্নের ফানুস উড়িয়ে এসেছিল প্রিয় নবীজীর জন্মভুমি সৌদি আরব। আজ সাফলাই কোম্পানীর চুক্তির কথা শুনে ভবিষৎ অজানা আশংঙ্কায় তারা অশ্রুলবণাক্ত সমুদ্রে নিমজ্জিত।হতাশায় আর ক্ষোভে কর্মীরা স্ব স্ব এজেন্টদের সাথে যোগাযোগ করেও সঠিক কোন উত্তর পান নি। তবে বেচে থাকার জন্য এজেন্ট কিছু কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করলেও এখন তারাও আর কোনো ফোন ধরছে না, খবরও নিচ্ছে না।

যে কথা ছিল কর্মীদের সাথে

রিক্রুটিং এজেন্সীর চুক্তি ছিল সরকারী বলদিয়া আল সাক্রাহ মিউনিসিপালিটিতে তাদের নিয়োগ/চাকুরী দিবে। টাকা লাগবে ৬লক্ষ, বেতন পাবে ১১০০ রিয়াল, থাকা নিয়োগকর্তার, খাওয়া নিজ ও সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য সুবিধা তারা পাবেন।বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্নচিত্র। চুক্তিপত্রের সাথে কোন মিলতো নেই বরং সেখানে একমুঠো খাবারের জন্য মাঝে মধ্যে মাটি চিবিয়ে খাচ্ছে। যেখানে আমাদের দেশে রোহিঙ্গাদের মেহমান হিসাবে অতীব যত্নে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছেন মানবতার জননী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সেই গর্বিত দেশের নাগরিক হিসাবে রেমিট্যান্স যুদ্ধে যোগদান করতে গিয়ে বিপদে রয়েছেন, অভুক্ত জীবন কাটাচ্ছেন তারা। এ অবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করলে ভবিষ্যৎে এহেন পরিস্থিতি লাঘব হতে পারে বলে সকলের ধারণা ।

প্রাণঘাতী করোনার ভয়াল থাবায় সারা দুনিয়ায় আজ ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজমান। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ঘরে থাকা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মত বিধিনিষেধ আছে। কিন্তু কথায় আছে- ’প্রয়োজন আইন মানে না,’ ঠিক তেমনই ঐ কর্মীরা সকল বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে এক বেলা খাবারের জন্য ছুটে যান মানবতার আশায় সেখানেও পুলিশের বাধার মুখে সেই জীর্ন কুঠিরেই মাটি ও কখনো প্রবাসে থাকা বাঙ্গালীদের সহায়তায় দু’একটি রুটি কিনে কাড়া-কাড়ি করে। কেউ পায় কেউ না পেলেও ক্ষুদা নিবারণের জন্য একটু পানিও অলীকবস্তু।এভাবেই প্রায় একমাস অতিক্রমের পথে। চলমান অবস্থার উত্তরণ না হলে এই ১৮ জন কর্মীর জীবন খাবারের অভাবে বিপন্ন হতে বাধ্য।

তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে কর্মীরা বিনীত আবেদন করে এই যে, তাদের জীবন বাঁচাতে বিদেশী নিয়োগকর্তা বা বাংলাদেশী রিক্রুটিং এজেন্সী অন্তত খাবারের ব্যবস্থাসহ চুক্তিমতে চাকুরীর ব্যবস্থা করলে মানবতার জয় হবে।
নিম্নে চাকুরী না পাওয়া অভুক্ত কর্মীদের তালিকা উপস্থাপন করা হলো :
১)মোঃআালমগীর-0553245488
২)মোঃসুমন-0542818572
৩)মো:সবুজ-
৪)আল-মামুন –0573481372
৫)মোঃসুরুজ-0539113078
৬)মোঃরাজিব ৭)মিয়া-0598027197
৮)মোঃমজিবর-0590568296
৯)মোঃআলমগীর-0590518482
১০)মোঃজিহাদ-0590549142
১১)মোঃহাবিবুর-0590537232
১২)মোঃজুয়েল-0598029775
১৩)মোঃমিনহাজ-0530261352
১৪)মোঃসিয়াম-0542852392
১৫)মোঃসোহেল-0595421039
১৬)মোঃরহিম-
১৭)মোঃমিন্টু
১৮)মোঃসুমন –0590616203)

প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী বিদেশগামী কর্মীদের  প্রেরন সংক্রান্ত ১৩ সালের নীতিমালার আলোকে থাকা, খাওয়া, চাকুরী পাবার নিশ্চয়তা বেতন-ভাতার ব্যবস্থাসহ প্রতারক রিক্রুটিং এজেন্সীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ তাদের।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে