সাংবাদিক রোজিনা গোপন নথি নিয়ে যাচ্ছিলেন, তিনি অন্যায় করেছেন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বুধবার, মে ১৯, ২০২১,১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
0
11

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম যেসব নথি কবজায় নিয়েছিলেন, সেগুলো প্রকাশ পেলে দেশের ক্ষতি হয়ে যেত। তিনি টিকা আমদানিসংক্রান্ত কিছু নথি সরিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার দুপুরে তিনি এ কথা বলেন, রাজধানীর শেরেবাংলানগরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে।

জাহিদ মালিক বলেন, সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে যেটুকু তিনি শুনেছেন, তাতে স্বাস্থ্যসচিবের পিএসের অনুপস্থিতিতে সোমবার দুপুরে তার কক্ষে ঢুকেছিলেন রোজিনা। ওখানে যে ডিউটিতে ছিল, সে দেখল যে একজন ব্যক্তি ওখানে ফাইলের ছবি তুলতেছে, ফাইল কিছু বের করে ব্যাগে ঢুকিয়েছে, শরীরেও ঢুকিয়েছে। তখন সে চিল্লাচিল্লি করেছে, আমাদের মহিলা অফিসাররা এসেছে, এসে তারা ধরছে যে ‘আপনি কেন এইসব করছেন?’ তখন তার কাছ থেকে ওই কাগজ আর ফাইলগুলো নিছে। এর মধ্যে পুলিশে খবর দিছে, পুলিশ কর্মকর্তারা আসছে, তারা এটা টেকওভার করছে। প্লাস মোবাইলটাও নিছে, মোবাইলেও অনেক ছবি পাইছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই জিনিসটাও দুঃখজনক। কেননা এই ফাইলগুলো ছিল টিকা সংক্রান্ত। আমরা যে রাশিয়ার সঙ্গে টিকার চুক্তি করছি,  চায়নার সঙ্গে টিকার চুক্তি করছি। সেগুলো নন-ডিসক্লোজার আইটেম। আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে বলেছি, আমরা এটা গোপনে রাখব, এগুলো বলব না। তো সেইগুলো যদি বাইরে চলে যায়, তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলাম, এবং আমরা টিকা না-ও পেতে পারি। এতে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য বিরাট ক্ষতি হতে পারে। এগুলো সিক্রেট ডকুমেন্ট, বাইরে যাওয়া ঠিক হয় নাই।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম গোপনে রাষ্ট্রীয় নথি নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরো বলেন, সোমবার (১৭ মে) যে ঘটনা ঘটেছে সে ঘটনা অনুযায়ী রোজিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি না বলে সরকারি ফাইল নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেগুলোর ছবি তুলছিলেন। অনুমতি ছাড়াই ওই রুমে প্রবেশ করেছেন। এগুলো রাষ্ট্রীয় গোপন বিষয়। তিনি অন্যায় করেছেন। পূর্বের কোনো সংবাদের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, সাংবাদিক রোজিনাকে কোনো শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি। এই তথ্য সঠিক নয়। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

তিনি বলেন, দুর্নীতির রিপোর্টিংয়ের জন্য তো আজকের ঘটনা না। ওটা ওখানের ঘটনার, এর ওপরই পরবর্তী ঘটনা ঘটতেছে। সিনিয়র অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি ও ডেপুটি সেক্রেটারি লেভেলের দুজন ছিল, প্রাথমিকভাবে তারাই ডিল করছে। পরে যখন রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার বিষয় আসছে, তখন তারা পুলিশ ডেকেছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, সাংবাদিক রোজিনাকে ছয় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে এটা ভুল। ঘটনার সময় সেখানে বিভিন্ন পদস্থ পাঁচ-ছয়জন উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পর সেখানে পুলিশ এসেছে। ঘটনার আধাঘণ্টার মধ্যে পুলিশ এসেছে। আমার আগে এ খবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনেছেন। বরং রোজিনা সেখানে কাউকে সাহায্য করছিল না। তাকে জোর করে কেউ রুমে নিয়ে যায়নি।

একজন অতিরিক্ত সচিব সাংবাদিক রোজিনার গলা চেপে ধরেছিলেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে। তবে আমি এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি একজন অতিরিক্ত সচিব। আমাকে তিনি টেলিফোনে বলেছেন, তিনি রোজিনাকে শারীরিক নির্যাতন করেননি। বরং রোজিনা তাঁর ওপর হামলা করেছিলেন। ঘটনার পর রোজিনাকে যখন আটকানোর চেষ্টা করা হয় তখন তিনি ওই অতিরিক্ত সচিবকে খামচি দিয়েছেন, থাপ্পড় মেরেছেন। এরপর পুলিশ আসলে তাঁকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

জাহিদ মালেক বলেন, কোনো নির্দোষ লোক সাজা পাক এটা আমি চাই না। দেশের ক্ষতি হোক এরকমটা আমরা চাই না। তিনি অপরাধ না করে থাকলে আইনের মাধ্যমেই তা প্রমাণ হবে। আমরা সাংবাদিকদের সম্মান করি। আমরা সাংবাদিকদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার চেষ্টা করি।

এদিকে রোজিনাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে এদিন সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল।  কিন্তু সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) তা বর্জন করে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে