শেরপুরে মেবাইল চুরির অপবাদে কিশোর নির্যাতন, গ্রেপ্তার ২

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯,৬:১২ পূর্বাহ্ণ
0
24

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক দরিদ্র কিশোরকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে নারিকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় দুই সহোদর ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনা ঘটে শেরপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার পশ্চিম রাজনগর বন্ধুপাড়া গ্রামে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ওই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে ইসহাক মিয়া (৩০) ও রবিউল মিয়া (২০)। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত দুই ভাইকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালতের বিচারিক হাকিম মোহসিনা হোসেন তুশি তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর রবিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে।

এদিকে, নির্যাতিত ওই কিশোর নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে গত তিন দিন যাবৎ নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। অন্যদিকে, ওই নির্যাতনের ঘটনায় একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর রবিবার নালিতাবাড়ীর পশ্চিম রাজনগর বন্ধুপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের বাড়ি থেকে একটি মোবাইল ফোনসেট চুরি হয়। এ ঘটনায় একই গ্রামের নানাবাড়ীতে থাকা ১৩ বছর বয়সী দরিদ্র কিশোরকে সন্দেহ করে আলী হোসেনের বাড়ির লোকজন। এমনকি ওইদিন ওই দরিদ্র কিশোরকে গ্রামের একটি রাস্তা থেকে ধরে পরনের লুঙ্গি খুলে কাঁধে ঝুলিয়ে টেনে-হিঁচড়ে আলী হোসেনের ভাই আব্দুস সালামের বাড়িতে নিয়ে যায় সালামের দুই ছেলে ইসহাক ও রবিউলসহ অন্যরা।

পরে তাকে ওই বাড়ির নারিকেল গাছের পেছনে হাতমোড়া দিয়ে রশিতে বেঁধে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে কিশোরটি। পরে খবর পেয়ে কিশোরের নানা বাড়ির লোকজন অনেক অনুনয়-বিনয় করে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে এবং পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

কিশোরকে মোবাইল চুরির অপবাদে শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম জানতে পেয়ে সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন কিশোরকে দেখতে যান এবং তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার কিশোরের নানা বাদী করে নালিতাবাড়ী থানায় আলী হোসেন, ইসহাক মিয়া ও রবিউলর মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইসহাক ও রবিউলকে গ্রেপ্তার করে। 

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বশির আহমেদ বাদল সাংবাদিকদের জানান, মোবাইল চুরির সন্দেহে গাছে বেঁধে কিশোরকে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এজাহার নামীয় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভিডিও ক্লিপ দেখে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নালিতাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহুরুল হক জানান, নির্যাতনের শিকার কিশোরের বাবা ও মায়ের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। বর্তমানে কিশোরটির মা ঢাকায় গার্মেন্টে কাজ করেন। বাবাও তার কোনো ধরনের খোঁজ করেন না। তাই কিশোরটি তার দরিদ্র নানার আশ্রয়ে নানাবাড়িতে থেকে বড় হচ্ছিল।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে