শেরপুরের জেলা প্রশাসকের নিকট বঙ্গবন্ধুর বর্নাঢ্যময় জীবন কাহিনী ও দেশের উন্নয়নের দুটি কবিতা হস্তান্তর

সোমবার, মার্চ ২১, ২০২২,৩:৩৬ অপরাহ্ণ
0
8

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

নিজস্ব সংবাদদাতা : ঐতিহাসিক মুজিববর্ষ, মহান স্বাধীনতা ও গৌরবদীপ্ত বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন পরবর্তীতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী,স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত “এক মহানায়কের অমর কীর্তিগাঁথা” শীর্ষক একটি ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন নিয়ে লিখিত ” অদম্য এক বাংলাদেশ” শীর্ষক অপর আরেকটি কবিতা এবং কবিতার আবৃত্তির সাথে নির্মিত দু’টি ভিডিও চিত্র নিয়ে গত ১৩ মার্চ’ ২০২২ তারিখে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ” বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত ” কৃষিবিদ সাংবাদিক, কবি, প্রাবন্ধিক ও অবসরপ্রাপ্ত উপপরিচালক (বীজ প্রত্যয়ন), কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত পরিষদ, বাংলাদেশ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি কৃষিবিদ শেখ মোঃ মুজাহিদ নোমানী শেরপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মোমিনুর রশীদের সাথে স্বাক্ষাৎ করেন ও সংক্ষিপ্ত আলোচনায় মিলিত হন।
আলোচনা শেষে ১৭ মার্চ ২০২২ তারিখে “বঙ্গবন্ধুর ১০২তম শুভ জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২২” উপলক্ষে ব্যপক প্রচার-প্রচারণার নিমিত্তে ” এক মহানায়কের অমর কীর্তিগাঁথা ..!” এবং”অদম্য এক বাংলাদেশ” শীর্ষক স্বরচিত দুটি কবিতা ফেষ্টুন আকারে জেলা প্রশাসক মোঃ মোমিনুর রশীদের হাতে তুলে দেন কৃষিবিদ শেখ মোঃ মুজাহিদ নোমানী।

উল্লেখ্য,” এক মহানায়কের অমর কীর্তিগাঁথা..! ” শীর্ষক কবিতাটিতে বঙ্গবন্ধুর জন্ম হতে শাহাদাত বরণ পূর্ব পর্যন্ত সময়ে শৈশবে দুঃখী মানুষের জন্য অকৃত্রিম দরদ,কৈশোরে প্রতিবাদী যুবকের বৈশিষ্ট্য আর তারুণ্যে অসাধারণ নেতৃত্ব প্রদান এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর ১৯৬৬-র ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন,৬৯’-এর গণঅভ্যুত্থান আর ৭ মার্চ,১৯৭১-এর অগ্নিঝরা ভাষণে উজ্জীবিত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের, যা কবিতাটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
বাঙালির মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাসে এক ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি,স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি ১৯৭২-এ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এসেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই তাঁর দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞা দিয়ে বুঝেছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের মৌলিক চাহিদাসমুহ পূরণের জন্য সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসনের ব্যবস্থাসহ ধ্বংসপ্রাপ্ত যোগাযোগ অবকাঠামো জরুরী ভিত্তিতে পুনর্বাসন করা।
আর এর জন্য প্রয়োজন উন্নত জাতের মানসম্পন্ন ভালো বীজ, সার ও সেচ এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার ইস্পাত-দৃঢ় স্বপ্ন পূরণে প্রথমেই বঙ্গবন্ধু হাতে নিলেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত সোনার বাংলার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নতুন নতুন কৃষি প্রতিষ্ঠান, গবেষণাগার স্থাপন ও পুরাতন কৃষি অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প।

তারই ফলশ্রুতিতেই খাদ্য উৎপাদন বেড়ে যায় ২-৩ গুণ। আজ তা হয়েছে প্রায় ৪ গুণ। খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বাংলাদেশ আজ খাদ্য রফতানিকারি দেশে পরিণত হয়েছে।৷ আজ দেশে ১৬ কোটি মানুষের জন্য ভাত-কাপড়, মাছ-মাংসের কোন অভাব নেই।
যুদ্ধ -বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনায় এমনিভাবে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, গৃহায়ণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক দূরদর্শিতায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং সফল পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের ফলে বিশ্ব শান্তিতে অবদান রাখায় ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুকে আন্তর্জাতিক সম্মাননা ” জুলিও কুরি’ শান্তি পুরস্কার”-এ ভূষিত করা হয়।
তাছাড়া বঙ্গবন্ধুই হচ্ছেন প্রথম রাষ্ট্রপতি যিনি ১৯৭৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারন অধিবেশনে প্রথম বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন এবং জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে বিশ্বের শোষিত বঞ্চিত মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে কথা বলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ সমস্ত উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমুহই তুলে ধরা হয়েছে ৩৬ লাইনে রচিত ” এক মহানায়কের অমর কীর্তিগাঁথা …!” শীর্ষক কবিতাটিতে।
অপরদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা ৪র্থ( ২০১৮-২০২৩) মেয়াদে নির্বাচিত একজন অনন্য, অসাধারণ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসংখ্য সফল উন্নয়ন বাস্তবায়নসহ বিশ্ব সেরার বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন বিশ্ব রাজনীতিতেও সফলতা বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছে। শুধু তাইনয় তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জারের বলা “বাংলাদেশ একটি তলাবিহীন ঝুড়ি”, সেই বিদ্রুপাত্মক মন্তব্যকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়ে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নে বিশ্বের বিস্ময় এবং উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে দাড়িঁয়েছে! যা ৩৪(চৌত্রিশ) লাইনে রচিত “অদম্য এক বাংলাদেশ “নামক কবিতায় তুলে ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য,জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর প্রজ্ঞা, অকুতোভয় সাহস, ইস্পাত-দৃঢ় আত্মবিশ্বাস আর দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের কল্যাণে,দেশ ও জাতির উন্নয়নে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট(এসডিজি) অর্জনে সময়োপযোগী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করায় বাংলাদেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে যে অভাবনীয় ও অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে তার সুফল এখন জনগণ ভোগ করছে এবং আগামীতেও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এর সুফল ভোগ করবে যা আবালবৃদ্ধবনিতা সকলের জানা উচিৎ। এ বিষয়টিকে ধারণ করেই রচনা করা হয়েছে ৩৪ লাইনের “অদম্য এক বাংলাদেশ” শীর্ষক কবিতাটি।

কোমলমতি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শিক্ষিত-অর্ধ-শিক্ষিত সকলের জন্য উপযোগী করে অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় কবিতা দুটি রচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, মুজিবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য।
এ উদ্দেশ্যে ১৭ মার্চ’২০২২ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ছাড়াও অন্যান্য বিশেষ দিবস উপলক্ষে সারা বছরব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কবিতা দুটি আবৃত্তি করা, সকল উপজেলার স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে আবৃত্তি প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানসমুহে কবিতা দুটি আবৃত্তি ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
তাছাড়া সদ্য সমাপ্ত ঐতিহাসিক মুজিববর্ষ, মহান স্বাধীনতা ও গৌরবদীপ্ত বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বছরব্যাপী আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজনসহ বর্ণিত কবিতা দুটির ভিডিও চিত্র সারা শেরপুর জেলায় ছড়িয়ে দেয়ার জন্য মুজাহিদ নোমানী শেরপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ মোমিনুুর রশীদ মহোদয়কে অনুরোধ জানান।

মুজাহিদ নোমানী বলেন, আরেকটি সুখবর হচ্ছে যে, কবিতা দুটি মানসম্পন্ন হওয়ায় তা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবস, ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস এবং ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষকী উপলক্ষে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের নিয়মিত সরকারি মাসিক প্রকাশনা ” সচিত্র বাংলাদেশ “, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস-এর মাসিক “কৃষিকথা”র বিশেষ সংখ্যাসমুহে প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়াও মাননীয় কৃষি মন্ত্রী ড. এম.এ, রাজ্জাক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিমের নেতৃত্বে পরিচালিত পেশাজীবি সংগঠন “বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদ” কর্তৃক প্রকাশিত বিশেষ সংকলন ” কালজয়ী”-সহ বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমুহে প্রকাশিত হয়েছে। শুধু তাইনয় উক্ত কবিতা দুটি “The Immortal Fame of Great Bangabandhu!” এবং ” The unstoppable one Bangladesh ” শিরোনামে ইংরেজিতেও স্বরচিত কবিতা দুটি প্রকাশিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নোমানী সাহেব বিভিন্ন পত্রপত্রিকার কাটিং সমূহসহ কবিতা আবৃত্তির ভিডিওটি প্রদর্শণ করেন।

সবশেষে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে এডিসি( সার্বিক) জেলা শিক্ষা অফিসারকে মার্ক করে পত্রটি প্রেরণ ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। কবিতা দুটির ফেষ্টুন ও কবিতা আবৃত্তির সাথে নির্মিত দুটি ভিডিও চিত্র হস্তান্তরের জন্য মুজাহিদ নোমানীকে ধন্যবাদ জানান এবং বর্ণিত বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে