শুধু মিল্ক ভিটার দুধ উৎপাদন ও বিপণনে বাধা নেই

মঙ্গলবার, জুলাই ৩০, ২০১৯,৫:০৩ পূর্বাহ্ণ
0
155

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

মিল্ক ভিটার পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান।  এ আদেশ দেওয়া হয়েছে মিল্ক ভিটার করা এক আবেদনে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক ও ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন মো. হানিফ (ফরহাদ )মিল্ক ভিটার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন । 

আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্ট বিভাগ আদেশ দিয়েছিলেন বন্ধ থাকবে পাস্তুরিত দুধের সব রকম উৎপাদন-বিপণন। এই আদেশের বিরুদ্ধে মিল্ক ভিটার পক্ষে গিয়েছিলাম আপিল বিভাগে । এ আদেশের কার্যকারিতা আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত স্থগিত করেছেন আট সপ্তাহের জন্য । তবে এ আদেশ শুধু প্রযোজ্য হবে মিল্ক ভিটার জন্য ।’ ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন মো. হানিফ বলেন, এখন  বাধা নেই মিল্ক ভিটার উৎপাদন ও বিপণনে।

মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. দেলোয়ার হোসেন গতকাল আদেশের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের পর আমরা দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ রেখেছিলাম। তবে চেম্বার জজ আদালতের এই আদেশের পর আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে আবার শুরু করা হবে উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন ।’  

বিএসটিআইয়ের লাইসেন্সধারী ১৪টি কম্পানির পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসা থাকায় সব কম্পানির পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বিতরণ পাঁচ সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখতে হাইকোর্ট আদেশ দেন রবিবার। এই আদেশের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সমবায়ভিত্তিক দুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা (বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড) গতকাল আবেদন করে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে ।

দেশীয় খামারিদের দুধ বন্ধ হোক, এটা চাই না —হাইকোর্ট

এদিকে দুধের বিষয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেছেন, ‘আমরা শুধুই ব্যস্ত আছি তরল দুধ নিয়ে । গুঁড়া দুধে কী আছে তা দেখা দরকার। আমরা চাই না, দেশীয় দুধ বন্ধ হওয়ার কারণে বিদেশি সয়লাব হয়ে যাক গুঁড়া দুধে বাজার । বিদেশি গুঁড়া দুধ দখল করুক বাংলাদেশের বাজার, এটা আমাদের কাম্য নয়।’ আদালত বলেন, ‘দেশীয় খামারিদের দুধ বন্ধ হোক, এটা চাই না। আমাদের চাওয়া, দেশীয় খামারিদের দুধ উৎপাদনে আরো বিস্তার বাড়ুক। তবে সেটা নিরাপদ ও মানসম্পন্ন হতে হবে । দুধ উৎপাদনে অনুসরণ করতে হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড । কোনোভাবেই তা যেন জনস্বাস্থ্যের জন্য অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ না হয়। আমাদের চাওয়া, দেশে মানুষ যেন ভালো থাকে।’ 

এ সময় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফরিদুল ইসলাম বলেন, আদালত গুঁড়া দুধ পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারেন।তবে আদালত বলেন, ‘এটা দেখার দায়িত্ব আপনাদের ও বিএসটিআইয়ের। আদালতের কেন আদেশ দিতে হবে? আইনে আপনাদেরই তো  দেওয়া আছে ক্ষমতা। আপনারা কেন পরীক্ষা করছেন না সেটা?’জবাবে এ আইনজীবী বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা করতে গেলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যবসায়ীরাই প্রশ্ন তুলবে যে কেন আমরা তা পরীক্ষা করছি। আদালত আদেশ দিলে সুযোগ থাকবে না সেই প্রশ্ন তোলার ।’

এরপর বিএসটিআইয়ের আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান বলেন, দুধে যে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেছে সহনীয় মাত্রা য়তার বেশির ভাগই । আর সহনীয় মাত্রার চেয়ে সামান্য কিছু ওপরে সিসা পাওয়া গেছে । তাই এই দুধ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কি না তা পরীক্ষা করে মতামত জানতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি করা যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘বিদেশে প্রতিবছর দু-তিনবার পরীক্ষা করা হয় দুধ । এটা দেখার জন্য কমিটি আছে একটি বিশেষজ্ঞ । আমাদের দেশেও এ রকম একটি কমিটি করার জন্য  আদেশ চাচ্ছি আদালতের।’পরে আদালত আগামী ২০ অক্টোবর আদেশের জন্য দিন ধার্য করে বলেন, ‘হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কী অবস্থা দাঁড়ায় তা দেখা দরকার। এরপর আদেশ দেব আমরা ।’  

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে