লোভ নিয়ে রাজনীতি করলে টিকে থাকা যায় না : প্রধানমন্ত্রী

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১,৫:০২ অপরাহ্ণ
0
7

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনকল্যাণের কথা চিন্তা করে রাজনীতি করলে টিকে থাকা যায়। লোভ নিয়ে রাজনীতি করলে তা সম্ভব না। জাতির পিতার আদর্শ ধারণ কর রাজনীতি করতে গিয়ে যারা লোভের বশবর্তী হয়ে অর্থ-সম্পদকে বড় করে দেখেছে, তারা কিন্তু টিকতে পারেনি।

আজ বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) তিনি এ কথা বলেন, আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় গণবভন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা ১৯৭৫ এর পর ক্ষমতা দখল করেছিল অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে তারা ক্ষমতাকে ভোগের বস্তু হিসেবে নিয়েছিল। আজকে জনগণের কাছে তাদের কোনো স্থান নেই এবং স্থান থাকবে না। কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ উপমহাদেশে একটি সংগঠন, সবচেয়ে প্রাচীন সংগঠন হিসেবে ঠিকে আছে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের যারা বাধা দিয়েছিলে তাদের দোসরদের চক্রান্ত স্বাধীন দেশেও অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, যুবলীগকে বলতে চাই, জাতির পিতার সেই আদর্শ বুকে নিয়ে সংগঠন করতে হবে। তাহলেই এদেশে তরুণ সমাজের জন্য কাজ করা যাবে। তারুণ্য থেকেই যেন বিনিয়োগকারী সৃষ্টি হয়, তারুণ্য থেকেই যেন তাদের জ্ঞান তাদের মেধা দিয়ে এদেশ গড়ে তুলতে পারি। আর ভবিষ্যতে এদেশকে যেন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

তিনি আরো বলেন, ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, এরশাদ, জিয়া ও খালেদা জিয়া। প্রত্যেকে নিজেদের ভাগ্য নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। মানুষের জন্য কিছু করেননি। আওয়ামী লীগই মানুষের জন্য কাজ করেছে, করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আমি নাকি বিরোধী দলের নেতাও হতে পারব না। এখন আমরা ক্ষমতায় আছি বলে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারছি। এ জন্য আমরা মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের জন্যই কাজ করে যাচ্ছি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কেউ গৃহহীন থাকবে না। এ জন্য আট লাখ মানুষকে ঘর করে দিচ্ছি। পরিকল্পনা করে এগিয়ে যাচ্ছি। সে অনুযায়ী কাজ করছি।

যুবকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে যুবলীগ। দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগ আসবে, যাবে। নিজেদের শক্ত থাকতে হবে। মানুষের পাশে থাকতে হবে। মানুষকেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। করোনায় আমাদের জনগণ ঐক্যবদ্ধ ছিল।

তিনি বলেন, করোনায় যুবলীগ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগীবহন, লাশদাফন, কৃষকের ধানকাটা ও সবজি বাজারজাতকরণে সহায়তা ও এই শীতে কম্বল বিতরণ করেছে। এ জন্য আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজের ব্যবসায় ও বিনিয়োগের ব্যবস্থা রেখেছি। সহজে তারা ঋণ নিতে পারে। তরুণদের ট্রেনিং দিলেই ভালো করবে। আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভর করার চেষ্টা করছি। কারণ আমরা মনে করি, তারুণ্যই শক্তি।

তিনি বলেন, অপপ্রচারে মনোযোগ দেয়া যাবে না। এত কিছু শুনলে সামনে এগুনো যায় না। যখন করোনার ভ্যাকসিন আসছে। নানাজন নানা কথা বলেছে, আমরা কিন্তু কোনো দিকে তাকাইনি। অ্যাডভান্স করে দিছি। যাতে অনুমোদন হলে আমরাই প্রথমে টিকা পাই। পেয়েছিও। ৪০ বছরের ওপরে বয়সী ও মানুষের জন্য সবসময় কাজ করে এমন লোকদের আগে দিচ্ছি।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ প্রমুখ।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে