[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]
সেলিনা আক্তার ১৯৭৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বানারি পাড়া থানার চাখার চাউলাকাঠি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । তার পিতা আজহার আলী হাওলাদার এবং মারা মরহুমা লতিফুন নিছা অত্র এলাকার অত্যন্ত সম্মানীয় এবং দানশীল হিসেবে সুপরিচিত। চার ভাই চার বোনের মধ্যে সেলিনা আক্তার সবার ছোট। মন-মননে, চিন্তা-চেতনায় অত্যন্ত পরিশীলিত এবং প্রতিশ্রুতিশীল একজন সংস্কৃতিকর্মী সেলিনা আক্তার। কাব্যচর্চার প্রাণস্পন্দনে সর্বদা অগ্রসরমান তিনি। নীরবে-নিভৃতে রচনা করে যাচ্ছেন সমাজ-সংস্কৃতি ও আগামী প্রজন্মকে নিয়ে তাঁর কাব্য চর্চা। সেলিনা আক্তারের সংস্কৃতি বোধ ও কাব্য চর্চায় সবাই গর্বিত।
এই কর্মদ্যেমী ব্যক্তিত্ব সম্প্রতি মানব সংবাদ পত্রিকায় একটি সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। তার সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন মানব সংবাদ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার আহমেদ। মানব সংবাদ অনলাইনে পোর্টালে এই গুণী ব্যক্তিত্বের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হলো।
মানব সংবাদ:শুরুতেই জানতে চাচ্ছি কেমন আছেন?
সেলিনা আক্তার: আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে ভালো আছি এবং এখন এই মুহূর্তে আরো ভালো অনুভব করছি।

মানব সংবাদ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার আহমেদ এর সাথে সেলিনা আক্তার’র কথোপকথনের একটি বিশেষ মুহূর্ত ।
মানব সংবাদ:লেখার প্রতি আগ্রহ বোধ করছেন কবে থেকে? সে গল্প শুনতে চাই।
সেলিনা আক্তার: মানুষের জীবনে বিশেষ বিশেষ সময়ে বিশেষ কিছু জিনিসের চাহিদা সৃষ্টি হয়। লেখার প্রতি আগ্রহ বা চাহিদা সেই বিশেষ সময়ে হয়েছে। ছেলে মেয়েরা এখন বড় হয়েছে। খুব বেশি সময় কাটাতে পারি না তাদের সাথে। একটা একাত্মবোধ চলে এসেছে মনের মধ্যে। এই একাকীত্ব দূর করার জন্য কিছু একটা করার প্রয়োজন ছিল। ভাল লাগা মন্দ লাগা সব বিষয়গুলো নিয়ে মনে হল কাগজে-কলমে কিছু তুলে রাখি। সেই থেকে লেখালেখি শুরু ও লেখার প্রতি আগ্রহবোধের সৃষ্টি। শুরুতে ভেবেছিলাম গানের মাধ্যমে ভাবগুলো প্রকাশ করবো। সেই লক্ষ্যেই লেখালেখির কাজ করে যাচ্ছিলাম।কিন্তু কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে গানের মাধ্যমে ভাব প্রকাশের কাজটি করতে পারলাম না, তাই চেষ্টা করলাম কবিতার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ করার। দেখলাম একটু কষ্টসাধ্য হলেও অনেকেটাই সম্ভব হচ্ছে ভাব প্রকাশ করা। তাই শুরু করে দিলাম কবিতার মাধ্যমে লেখালেখি করার কাজটি।

মানব সংবাদ:লেখক জগতে আসার কারণটা কি?
সেলিনা আক্তার: লেখালেখিটাকে প্রথমে গ্রহণ করেছিলাম মনের খোরাক হিসেবে। লেখক হিসেবে লেখালেখির জগতে আসবো এমনটা কখনোই ভাবেনি। লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পাবো এটাও কখনো চিন্তা করিনি।
একদিন আমার এক বান্ধবীর সাথে একটি অনুষ্ঠানে যাই। সেখানে আমার আলাপ হয় বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান স্যারের সাথে। কথা প্রসঙ্গে তিনি আমার বিষয়ে জানতে চাইলেন। তাকে বলেছিলাম আমি গৃহিণী এবং আরো জানালাম লেখার প্রতি আমার আগ্রহ আছে। কথাবার্তার একপর্যায়ে তিনি তখন আমার ফোন নাম্বার রেখে দিলেন। এরপর দিন সকালে আমার মোবাইলে একটি কল আসলো। ফোনের ওপাশ থেকে কথা বলছেন ছিদ্দিকুর রহমান স্যার। আমি একটু অবাক হলাম। আমি কখনো ভাবতেই পারিনি তিনি আমাকে ফোন করে কথা বলবে। সে এক দারুন অনুভূতি। স্যারের সাথে অনেক কথা হয় এবং দীর্ঘ আলাপচারিতার একপর্যায়ে তাকে আমার কিছু লেখা ও কবিতা শোনালাম। তাকে আরো জানালাম আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে লেখালেখি করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আমার কবিতা শুনে শুধু এতোটুকুই বললেন ‘আপনার লেখার কলম যেন কখনো না থামে। আপনার কলম কথা বলে, সে কথাগুলো বাস্তবিক এবং স্পর্শকাতর। আপনি লেখালেখি চালিয়ে যান, আপনার লেখাগুলোকে একত্রিত করে বই প্রকাশ করে দিব আমি ‘। স্যার আমাকে নিজের মেয়ের মত স্নেহ করে আমাকে লেখার প্রতি উৎসাহিত করেছিলেন। সেই থেকে লেখালেখির কাজ শুরু। অনেক লিখেছি, যখন যা কিছু চোখের সামনে উপস্থাপন হয়েছে তাই লিখেছি। অনেকগুলো লেখা তৈরি করলাম কিন্তু স্যার দেশের বাইরে থাকার কারণে তাকে আমার লেখাগুলো দিতে পারিনি। অন্য একজনকে দিয়ে বই প্রকাশ করিয়েছি। স্যার দেশে ফিরে যখন শুনলেন আমার লেখা বই প্রকাশিত হয়েছে তিনি তখন বেশ খুশি হলেন। তিনি আমাকে বললেন, ‘ আমি দুঃখিত তোমার বই প্রকাশ করে দিতে পারিনি বলে, তবে আমি সত্যি আনন্দিত যে তোমার বই প্রকাশ পেয়েছে ‘। তিনি আরো বলেছেন তিনি আমার অন্য লেখাগুলো দিয়ে আমাকে আরো একটি বই প্রকাশ করে দিবেন। আর একজন ব্যক্তির কথা না বললেই নয় তিনি হচ্ছেন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ স্যার অত্যন্ত মিশুক এবং অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী তিনি। আমার প্রকাশিত বইয়ের মুখবন্ধ তিনি দিয়েছেন। অনেক অনেক শ্রদ্ধা এই গুণী মানুষদের প্রতি।

মানব সংবাদ:কি ধরনের লেখালেখিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন?
সেলিনা আক্তার: বাস্তবধর্মী লেখালেখিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রতিটি মুহূর্তে যে সকল প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে, যে সকল সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হচ্ছে সেই বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখিতে বেশি পছন্দ করি। চলমান জীবনের যে সকল বিষয়গুলো আমাদের প্রভাবিত করে সেই লেখাগুলো লিখতে বেশি পছন্দ করি এবং সেগুলো নিয়েই লেখার কাজ করে যাচ্ছি।

মানব সংবাদ: কর্মজীবনের সেলিনা আক্তারের সাথে ব্যক্তিজীবনের সেলিনা আক্তারের পার্থক্য কি?
সেলিনা আক্তার: আসলে তেমন কোন পার্থক্য নেই কর্মজীবনের সেলিনা ও ব্যক্তিজীবনের সেলিনার সাথে। ছোটবেলা থেকেই আমি খুব দুরন্ত ও চঞ্চল স্বভাবের। কর্মজীবনেও ঠিক তেমনটাই। আমার লেখা একটি গান আছে গানটি হচ্ছে অনেকটা এরকমঃ-
“পাগলা হাওয়ার পাগল মন
যা খুশি তাই ভাবছি, যা খুশি তাই করছে।
মনটা যে আজ ঘুরছে, ওই পাগলা হাওয়ায় উড়ছে।
আমার মন চায় আজ ঘুরতে, ওই প্রজাপতির মত উড়তে ” ।
আমি ঠিক এই গানটার মতোই ছোটবেলা থেকেই খুব দৌড়ঝাঁপ ছুটোছুটি পছন্দ আমার। আট ভাই-বোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ও সবার শাসন এবং আদরের আমি। সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতাম। যখন যেখানে যেতে ইচ্ছা হয়েছে সেখানে ছুটে চলে গিয়েছি। মন যা চেয়েছে তার সবকিছুকেই প্রাধান্য দিয়েছি। কিন্তু এই বর্তমান সময়ে ছুটোছুটি বা ঘুরাঘুরির পরিমাণটা একটু কমে গিয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার দরুন খুব একটা সম্ভব হচ্ছে নাছোটাছুটি করা। শরীরের সাথে ঠিক পেরে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইনশাল্লাহ আল্লাহ যদি সহায় হয়, খুব শীঘ্রই আবার নতুনভাবে শুরু করব সেই অতীতের মত উৎফুল্ল হয়ে ওঠার।

মানব সংবাদ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার আহমেদ এর সাথে সেলিনা আক্তার’র কথোপকথনের একটি বিশেষ মুহূর্ত ।
মানব সংবাদ: কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনকে কিভাবে পরিচালনা করছেন?
সেলিনা আক্তার: ব্যক্তিগত জীবন ও কর্ম জীবন দুইটা মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ বলে মনে হয় আমার কাছে। দুটোকেই খুব গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করতে হয়। একটা কে বাদ দিয়ে অন্য টা করা সম্ভব নয়। আর যেহেতু আমি একজন গৃহিনী, তাই সবার আগে আমাকে আমার পরিবারের কথা চিন্তা করতে হয়। পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনা ও তাদের চাহিদামত প্রত্যাশা গুলো পূরণ করতে হয়। একজন মা, স্ত্রী ও সংসারের কর্ত্রী হিসেবে আমার যতটুকু দায়িত্ব রয়েছে সেটাকে সুষ্ঠুভাবে পালন করতে হয়। এরপর অবসর সময়গুলোতে লেখালেখি নিয়ে সময় কাটাই। একজন গৃহিনীর কাছে সংসার বা ব্যক্তিগত জীবন পরিচালনার পাশাপাশি কর্ম জীবন পরিচালনা করা কষ্টকর। তবুও করতে হয়, কেননা লেখালেখি হচ্ছে আমার মনের খোরাক। আর তাকে তো একটু হলেও প্রাধান্য দিতেই হবে। তা না হলে যেকোনো সময় এই মন বেঁকে বসতে পারে।
মানব সংবাদ: আপনার কর্ম জীবনের প্রাপ্তি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।
সেলিনা আক্তার: আমার লেখক জীবনের এই স্বল্প সময়ে মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় বেশ কিছু প্রাপ্তি সংযুক্ত করতে পেরেছি। এর জন্য কোটি কোটি শুকরিয়া মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে। আমার স্বল্প জীবনের প্রাপ্তি গুলো হলোঃ বৈশাখী সম্মাননা ১৪২৬, মাদার তেরেসা স্মৃতি পদক ২০১৮, মহান বিজয় দিবস সম্মাননা স্মারক ২০১৮, মাদার তেরেসা স্মৃতিপদক ২০১৯, ওমেন্স পার্সোনালিটি অ্যাওয়ার্ড ২০১৯, মহান মে দিবস শান্তি পদক ২০১৯, স্বাধীনতা দিবস সম্মাননা স্মারক ২০১৯, স্বাধীনতা দিবস সম্মাননা ২০১৯, কবি জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি সম্মাননা ২০১৮, মাতৃভাষা দিবস সম্মাননা ২০১৯, শেরে বাংলা সম্মাননা ২০১৯, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত স্মৃতি সম্মাননা ২০১৯, বিচারপতি সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ স্মৃতি সম্মাননা ২০১৯, সোনার বাংলা স্মৃতিপদক ২০১৯, স্বাধীনতা শান্তি পদক ২০১৯।

মানব সংবাদ: লেখালেখি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
সেলিনা আক্তার: লেখালেখি নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো পরিকল্পনা করে উঠতে পারিনি। কেননা আমার নিজের লেখালেখি নিয়ে পরিকল্পনা থাকলেও পরিবারের থেকে কিছু প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। কারণটা আগেই বলেছি তা হচ্ছে, আমি একজন গৃহিনী। আর একজন গৃহিণীর পক্ষে কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবন একই সাথে পরিচালনা করাটা কঠিন। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হচ্ছে তবে নিয়মিত লিখে যাচ্ছি আমি। লেখার কাজ চলছে। যদি কখনো ভাগ্য আমার সহায় হয়, তখন না হয় বেশ কিছু বই প্রকাশ করে পাঠকদের জন্য রেখে যাবো। তাদের মনে বেঁচে থাকার জন্য একজন লেখক এর কাছে এর চেয়ে বড় পরিকল্পনা আর কিছু থাকতে পারে বলে আমার মনে হয় না।
মানব সংবাদ: জনকল্যাণমূলক কোন কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার ইচ্ছা আছে কি?
সেলিনা আক্তার: ধন্যবাদ আপনাকে। আমার লেখালেখি করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসা। ছোটবেলা থেকেই আমার বাবা মায়ের কাছ থেকে অসহায় মানুষকে ভালোবাসা ও তাদের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষাটা পেয়েছি আমি। আমার দুটো ইচ্ছা আছে, যার জন্য আমি কাজ করে যাচ্ছি।
আমার প্রথম ইচ্ছাটা হচ্ছে অসহায় বৃদ্ধ যারা আছে তাদের জন্য কাজ করা। তারা যেন শেষ জীবনটা একটু ভালোমতো কাটাতে পারে সেই ব্যবস্থা করা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে পথ শিশুদের নিয়ে অনেক সংগঠন অনেকগুলো দল কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু বৃদ্ধাশ্রম ছাড়া এই সকল বৃদ্ধ মানুষদের নিয়ে কেউ তেমন কোন কাজ করছে না। আর বৃদ্ধাশ্রমে যারা যাচ্ছে তারা বেশিরভাগই যাচ্ছে নির্দিষ্ট কোন পরিবার থেকে অথবা নির্দিষ্ট কোন জায়গা থেকে। কিন্তু অসহায়, পরিবারবিহীন, রাস্তায় পড়ে থাকে এরকম বৃদ্ধ মানুষদের নিয়ে কোনো ব্যবস্থা বা কাজ আজকাল ঠিক তেমন একটা চোখে পড়ছে না। আমি চাই তাদের জন্য কিছু করতে। যেন তারা শেষ জীবনটা একটু সুখের ছোঁয়া পেয়ে কাটাতে পারে।

আর আমার দ্বিতীয় ইচ্ছাটা হলো আমার গ্রামের এলাকায় সন্ধ্যানদীর ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষদের জন্য কিছু করা। বরিশাল জেলার একটি স্বনামধন্য এলাকা হচ্ছে বানারি পাড়া থানার চাখার, চাওলাকাঠি গ্রাম। একসময় এই এলাকাটি বাণিজ্যমুখী থাকলেও বর্তমানে তা একেবারেই ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ১৯৮০ সালের দিকে এই এলাকাটি ছিলো পুরো শহরের মত। বাংলাদেশের সবচেয়ে নামকরা ধান চাল প্রক্রিয়াজাত এলাকা এই বানারি পাড়া। কিন্তু সন্ধ্যানদী ভাঙ্গনের ফলে এই এলাকার মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হতে এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার মত অবস্থা। এলাকাটির উন্নয়ন একেবারে হয় নাই বললেই চলে। ১৯৮০-৮৫ সালে এই এলাকার নামকরা কলেজ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক কলেজে প্রায় ১৮-২০ হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য অনেক দূর দুরান্তের এলাকা থেকে আসতো। কিন্তু বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাত্র দুই থেকে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করছে। যা সত্যিকার অর্থেই একটি দেশের জন্য দু:খজনক। অনেক জনপ্রতিনিধি অনেকবার উন্নয়নের আশ্বাস দিল তা করেনি, যার কারণে গ্রামের মানুষগুলো বাঁচার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে দেশে বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। আর গ্রামটি হয়ে যাচ্ছে প্রাণহীন। দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ হস্তক্ষেপ কামনা করছি যেন এই এলাকার গণমানুষের জীবন যাপনের গতিশীলতা আগের রুপে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এটি শুধু আমার একার নয়, সমস্ত বানারি পাড়া ও তার আশেপাশের এলাকায় সন্ধ্যানদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ সকল মানুষের গণদাবি। আমি চাই আমার এই হতদরিদ্র এলাকার উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সাথে একত্রিত হয়ে কাজ করতে। যাতে করে আমার গ্রামের ও গোটা বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সামান্য হলেও অংশীদার হতে পারি।































