লক্ষ্মীপুরে মধ্যরাতে শিশু অপহরণ করে সকালে মুক্তিপণ দাবি

সোমবার, আগস্ট ৫, ২০১৯,১০:০৭ পূর্বাহ্ণ
0
10

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

রাতে নিজ ঘরে দেড় বছর বয়সী শিশু মিনহাজকে নিয়ে তার বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়েন । মধ্যরাতে জেগে দেখেন বিছানায় নেই তাদের একমাত্র শিশু সন্তানটি । ঘরের দরজা ছিল খোলা, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মিনহাজের মায়ের মুঠোফোনটিও । এরপর শুরু হয় খোঁজাখুজি মিনহাজকে। না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার থানা পুলিশের শরাণাপন্ন হন ।

ভোর রাতে মিনহাজের মায়ের ফোনে অন্য নম্বর থেকে কল করলে ওপ্রান্ত থেকে ধরেন একজন পুরুষ। শিশুটিকে ছাড়িয়ে নিতে তিনি দাবি করেন  ৫ লাখ টাকা ।লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লাহারকান্দি গ্রামের ঘটনাটি।  এই অপহরণের ঘটনা ঘটে রবিবার মধ্য রাত থেকে সোমবার ৫টার মধ্যে।ভুক্তভোগী ওই পরিবারের কর্তা হলেন সৌদি প্রবাস ফেরত মামুন হোসেন, তার স্ত্রী কহিনুর বেগম।

জানা গেছে, স্থানীয় এলাহী বক্স বাড়ির নিজ ঘরে প্রতিদিনের মতো শিশু মিনহাজকে নিয়ে প্রবাস ফেরত মামুন ও তার স্ত্রী কহিনুর ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আড়াইটার দিকে ঘুম ভাঙে মিনহাজের মায়ের । ঘরের বাতি জ্বালিয়ে তিনি দরজা খোলা দেখতে পান । এসময় ঘুম ভাঙান তার স্বামীকে ডেকে। পরে দেখেন তাদের পাশে থাকা শিশু সন্তান বিছানায় নেই। শিশু মিনহাজের মায়ের মুঠোফোনটিও নেই। কান্নাকাটিচিৎকার শুরু হয়। ওই বাড়িতে ছুটে আসে আশেপাশের মানুষ । রাতে সবাই মিলে  খুঁজছিলেন তখন শিশুটিকে। না পেয়ে রাত ৩টার দিকে থানায় যান বাবা। থানার কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার বলেন, পুলিশ পাঠানো হবে সকাল ৮টায় । এরপর হতাশা ভুক্তভোগী বাবা নিয়ে বাড়িতে ফিরেন ।

ভোর ৫টার দিকে শিশু মিনহাজের মা কহিনুরের খোঁয়া যাওয়া ওই মুঠোফোনে প্রতিবেশী একজনের নাম্বার থেকে কল করা হয়।
তখন শিশুটিকে ছেড়ে দিতে দুর্বৃত্তরা ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে । এরপর ভেঙে পড়েন শিশুর বাবা মামুন। সকাল ৮টার দিকে প্রথমে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সদর থানার এসআই জাহাঙ্গীর, এরপর সদর থানার ওসি আজিজুর রহমান মিয়া, পর্যায়ক্রমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনোয়ার হোসেন ও পুলিশ সুপার ড. এ এইচ কামরুজ্জামান।পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে সকাল ১০ টার দিকে শত শত উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে ভিড় জমান । কিন্তু শিশুটিকে কেউ খুঁজে পায়নি । এসময় শিশুটির মা ও স্বজনদের দেখা যায় আহাজারি করতে ।

জানতে চাইলে মিনহাজাহের মা কহিনুর বেগম বলেন, রাতে আমরা সবাই ঘুমিয়ে পড়ি। আনুমানিক ২টার দিকে আমার ঘুম ভাঙে। তখন আমি উঠে বাতি জ্বালিয়ে দেখি ঘরের দরজা খোলা। প্রথমে মনে হয় আমার স্বামী বাইরে গেছেন হয়তো। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে বিছানায় দেখে তার ঘুম ভাঙাই। এসময় মিনহাজকে বিছানায় না দেখে খোঁজাখুজি শুরু হয়। আমার মুঠোফোনটিও খুঁজে পাইনি। তখন আমাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন জড়ো হয়। ভোর রাতে আমার ফোনে কল দিলে পুরুষ কণ্ঠে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপর প্রান্ত থেকে।

মিনহাজের বাবা মামুন হোসেন বলেন, রাতে যখন থানায় গেছি তখন যদি পুলিশ আসতো তাহলে হয়তো ছেলেটিকে সহজেই পেতাম। এখন ছেলেটিকে ফিরে পাবো কি না তা বলতে পারছি না। আমি সরকারের কাছে এর সুবিচার চাই, আমার সন্তানকে ফিরে পেতে চাই।এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান জানান, দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশের বিষয়টি দেখে মনে হচ্ছে তাদের জানা শোনা লোকজনই এ ঘটনায় জড়িত রয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টাসহ ঘটনার তদন্ত চলছে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে