রৌমারীতে স্কুলের চুরি হওয়া টিনের ছবি তুলতে গিয়ে ৪ সাংবাদিক লাঞ্চিত

রবিবার, জুন ৭, ২০২০,৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
0
24

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চুরি হওয়া স্কুল ঘরের টিনের ছবি তুলতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতে স্থানীয় চার সাংবাদিক লাঞ্চিত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ছাটকড়াইবাড়ী গ্রামের ওই প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে। লাঞ্চিত হওয়া সাংবাদিক হলেন, দৈনিক জনতা ও দৈনিক শিক্ষার রৌমারী উপজেলা প্রতিনিধি সাখাওয়াত হোসেন সাখা, দৈনিক ভোরের কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি মাসুদ পারভেজ রুবেল, দৈনিক আলোকিত সকালের উপজেলা প্রতিনিধি লিমন আহমেদ ও সাংবাদিক নাহিদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে স্থানীয় চারজন সাংবাদিক গেলে স্কুল ঘরের চুরি হওয়া টিনের ছবি তুলতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতে লাঞ্চিত হন। প্রধান শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রী, ছেলে এবং ভাতিজা ওই চার সাংবাদিকদের কে বাড়িতে আটকের হুমকিও দেন। পরে প্রধান শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শান্ত হওয়ার কথা বলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান। কিন্তু শান্ত না হয়ে আরও খিপ্ত হন তাঁরা। পরে ওই গ্রামের লোকজন ও স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি আমির হোসেন, আমিনুল ইসলাম, মতিয়ার রহমানসহ আরো অনেই ওই ঘটনাস্থল থেকে চার সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন।

ওই চারজন সাংবাদিক তাৎক্ষনিকভাবে, লাঞ্চিত ও স্কুল ঘরের টিন চুরির বিষয় রৌমারী ইউএনও আল ইমরানকে মোবাইল ফোনে ঘটনাস্থল থেকে জানালে ঘন্টাখানেক পর রৌমারী সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. গোলাম ফেরদৌস ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মোক্তার হোসেনসহ রৌমারী থানাপুলিশ টিন চুরির ঘটনাস্থলে না গিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে বসে মিটমাট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয় চার সাংবাদিক লাঞ্চিতের বিষয় জানালে তা আমলে না নিয়ে চুরির সাফাই গাইলেন উপস্থিত একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মোক্তার হোসেন। তিনি আরও বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে টিন রয়েছে। তবে কমিটিরও রেজুলেশন রয়েছে। এতে কিছু করার নেই। একপ্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, স্কুলের সবকিছু প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেন। এইটা ধরার শুধু এখতিয়ার রয়েছে ম্যানেজিং কমিটির।’

সাংবাদিকদের সাথে লাঞ্চিতের ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. গোলাম ফেরদৌস জানান, ‘প্রধান শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের সাথে যে খারাপ আচরণ করেছে তা মোটও ঠিক হয়নি। তিনি আরো বলেন, কারণ সাংবাদিকরা প্রতিটি ঘটনার সত্য উৎঘাটন করে করেন।’

চার সাংবাদিক লাঞ্চিতের বিষয় জানতে চাইলে দাঁতভাঙ্গা দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিুযক্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ‘সাংবাদিকদের আমি লাঞ্চিত করিনি। তবে স্কুলের টিন চুরির অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে সঠিক নয়। তিনি আরো বলেন, রেজুলেশন আকারে টিন ক্রয় করে নিজ বাড়িতে আনা হয়েছে। এতে কোন সমস্যা নেই বলে জানান অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক।’

তবে ওই রেজুলেশনের বিষয় কিছুই জানেন না ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান হাদি, হাজি আব্দুল জব্বার, মজারত আলী ও স্কুলের সহকারি শিক্ষকরাও।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সহকারি কমিশনার (ভুমি) ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারসহ রৌমারী থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বিষয়টি আগামীকাল জানা যাবে।’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দাঁতভাঙ্গা দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ৫০ হাত ঘরের টিন চুরি করে সন্ধ্যায় অটোভ্যান দিয়ে নিজ বাড়িতে রাখার অভিযোগ উঠে প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে