রোগী চিহ্নিত করবে টেলিযোগাযোগ বিভাগের ‘করোনা আইডেন্টিফায়ার’ অ্যাপ

সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২০,১০:১২ পূর্বাহ্ণ
0
58

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

মুহুর্তেই করোনা রোগী চিহ্নিত করবে টেলিযোগাযোগ বিভাগের অ্যাপ ‘করোনা আইডেন্টিফায়ার’ অ্যাপ। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ে ভীতি দূর করতে, সচেতনতা বাড়াতে এবং আশপাশের মানুষ কেউ এ ভাইরাসে আক্রান্ত কি না সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক তথ্য দেয়ার দুর্দান্ত একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। ‘করোনা আইডেন্টিফায়ার’ নামের এই অ্যাপটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে টেলিটক এবং অ্যাপটির কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে রেডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিস লিমিটেড।

          ‘করোনা আইডেন্টিফায়ার’ অ্যাপটি আপাতত পরীক্ষামূলক স্তরেই রয়েছে। শিগগির অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর এবং আইওএস স্টোরে পাওয়া যাবে। তবে ইতোমধ্যেই অ্যাপটি এপিকে-এর মাধ্যমে (http://coronaidentifier.teletalk.com.bd) অনেকেই ব্যবহার শুরু করেছেন। 

          সম্পূর্ণ অ্যাপটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর আইইডিসিআর-এর সঙ্গে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা বিবেচনা করে দেশের মানুষজনকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে আরও আপডেটেড রাখতে উক্ত মোবাইল অ্যাপ নিয়ে হাজির হলো ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান টেলিটক।

          সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই অ্যাপটিতে দারুণ কিছু ফিচার সংযুক্ত করা হয়েছে। মূলত অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর লোকেশন ব্যবহার করে কমিউনিটিতে করোনাভাইরাস কতটা সংক্রমিত হয়েছে, তার একটা স্ট্যাটাস জানা যাবে। আশপাশে কোনও কোভিড-১৯ সংক্রামক রোগী বা কোয়ারেন্টিন ব্যক্তি রয়েছেন কি না সে বিষয়ে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে।

          ব্যবহারকারীর নিকটস্থ কোনও ব্যক্তি বা কোনও ব্যক্তির সঙ্গে খুবই সম্প্রতি যোগাযোগ হয়েছে, এমন ব্যক্তির শরীরে কোভিড-১৯ ভাইরাসের উপস্থিতি মিললে তা ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে।

          অ্যাপটির মাধ্যমে কিছু টেস্ট করারও সুযোগ রয়েছে। ‘করোনা আইডেন্টিফায়ার’ অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারী বুকের এক্সরে ইমেজ অনলাইনে ওয়েব এবং মোবাইলে আপলোড করে মিনিটের মধ্যে করোনা টেস্ট রেজাল্ট পাবে।  ব্যবহারকারী করোনা আক্রান্ত এমন শনাক্ত হয়ে থাকলে মুহুর্তের মধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এর ফলে দীর্ঘ সময় টেস্টের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

          ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, অ্যাপটির আরো বেশি গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত আমাদের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টিম কাজ করছে। দেশ-বিদেশে যারা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে করোনা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে তাদের কার্যক্রমগুলো আমরা খোঁজ খবর রাখছি। অ্যাপটির পরবর্তী সংস্করণে স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নিয়ে আরও কিছু নতুন ফিচার যুক্ত করা হবে।

          অ্যাপটির কারিগরি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রেডিসন ডিজিটাল টেকনোলজিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ফারুক বলেন, মূলত ব্লুটুথ ও লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমেই কোনও করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির ছয় ফুট দূরত্বের মধ্যে এই ইউজার রয়েছেন কি না তা জানা যাবে এই অ্যাপটির মাধ্যমে। প্রযুক্তির ব্যবহার করে কয়েকটি দেশ করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোয়ারান্টিন প্রোগ্রাম এবং প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে এখন পর্যন্ত চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে। তিনি আরো  বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশেও বহুসংখ্যক মানুষ কোয়ারান্টিনে আছেন, যাদের ম্যানুয়ালি ট্র্যাক করা খুবই কঠিন। এক্ষেত্রে আমাদের ‘করোনা আইডেন্টিফায়ার’ সিস্টেম অ্যাপ বড় পরিসরে কোয়ারান্টিনে থাকা ব্যক্তিদেরও ট্র্যাক করতে সহায়তা করবে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে