রিকশা চুরি করতে গিয়ে হত্যা ; প্রায় সাড়ে ৩ বছর পর আসামি গ্রেপ্তার

মঙ্গলবার, আগস্ট ৩১, ২০২১,১১:১৪ অপরাহ্ণ
0
10

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

আজহারুল ইসলাম জনি (নিজস্ব প্রতিবেদক) : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মারিয়ালী এলাকায় অটোরিকশা চুরি করতে গিয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে গ্যারেজের মালিকের ভাতিজা রাসেলকে হত্যা করে পালিয়ে যায় অটোরিকশা চোরের দল।

ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর জয়নাল ওরফে জুয়েল (৩০) নামের এই আসামি গ্রেপ্তার হয়। গ্রেপ্তার হওয়া আসামি জয়নাল ওরফে জুয়েল (৩০) ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার জনগাঁও গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা।

পিবিআই তদন্ত করে মামলার প্রধান আসামি জয়নাল ওরফে জুয়েলকে ১৯ আগস্ট গ্রেপ্তার করে। এবং ৩০ আগস্ট তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি আদালতকে জানান, অটোরিকশা চুরি করার সময় গ্যারেজের মালিকের ভাতিজা রাসেল দেখে ফেলায় এবং অন্যদের বলে দেওয়ার ভয় দেখানোর কারণে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, গ্রেপ্তার আসামি জয়নাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জাবানবন্দি দিয়েছেন।
আসামি জানান, তিনি ও তাঁর সহযোগীরা রিকশা চালাতেন। নিহত মো. রাসেলের চাচা ইদ্রিস আলীর গ্যারেজে একটি অটোরিকশা চুরি করতে তিনি ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল রাতে সহযোগীদের নিয়ে টিনের বেড়া ফাঁক করে ভেতরে ঢোকেন।
জয়নাল গ্যারেজের ভেতরে গিয়ে চাবি খুঁজছিলেন। চাবির শব্দে রাসেলের ঘুম ভেঙে যায়। রাসেল তাঁকে চিনে ফেলেন এবং সবাইকে চুরির বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বলেন।
এ সময় তিনি রিকশার হাওয়া দেওয়ার পাম্পার দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় রাসেলের।

গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার পুলিশ ৬ মাস তদন্ত করে এই মামলাটি এবং পরবর্তীকালে জিএমপি সদর থানা–পুলিশ দীর্ঘ ১৪ মাস তদন্ত করে।
গাজীপুর জেলা ও জিএমপি পুলিশ কোনো রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে না পারায় পরবর্তীতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গাজীপুর জেলা পিবিআইকে।

তদন্ত শেষে অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের টেক ভারারিয়া থেকে জয়নালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে ১৯ আগস্ট আদালতে হাজির করা হয়।
আদালত তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৩০ আগস্ট আদালতে সোপর্দ করলে তিনি স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান আরও জানান, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে