যুবকের ৫ টুকরা লাশ উদ্ধার, রক্তাক্ত ছুরি ও বঁটিসহ গ্রেপ্তার নারী

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২১,১০:০৮ অপরাহ্ণ
0
9

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

প্রথমে মায়ের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক। এরপর মেয়েকেও প্রেমের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা। এ নিয়ে ছিল সন্দেহ, মনোমালিন্য আর পারিবারিক দ্বন্দ্ব। সর্বশেষ এই বিরোধের জের ধরেই খুন হয়েছেন সজীব হাসান (৩৪) নামের এক যুবক। হত্যার পর লাশ কেটে করা হয় পাঁচ টুকরা। সজীবের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে। পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শাহানাজ পারভীন (৪৭) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় উদ্ধার হয়েছে হত্যায় ব্যবহার করা রক্তমাখা ছুরি ও বঁটি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পুরান ঢাকার ওয়ারীর কেএম দাস রোডের একটি বাসায় এমন নৃশংস ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই বছর ধরে ওই নারীর সঙ্গে সজীবের সম্পর্ক। সজীব থাকতেন স্বামীবাগের কাছাকাছি কেএম দাস লেনের ১৭/১ নম্বর বাসায়। সেখানে গিয়ে সজীবের সঙ্গে কারচুপি (ড্রেসে পুঁতি বসানো) বসানোর কাজ করতেন ওই নারী। ওই সময় সজীবের সঙ্গে তাঁর ভালোলাগার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন ধরে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সজীবের বাসায় সময় কাটাতেন ওই নারী। রাতের বেলায় বাসায় ফিরলে পরিবারের লোকজন জিজ্ঞেস করলে তাদের বলতেন, তিনি পুঁতি বসানোর কাজ শিখছেন। কাজের প্রয়োজনে বাইরে ছিলেন। গত  সোমবার কাপড়চোপড় ব্যাগে ভরে ওই নারী কাউকে না জানিয়ে সজীবের বাসায় ওঠেন। এর মধ্যে ওই নারীর স্বামী স্ত্রীকে পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে থানায় জিডি করেন। গতকাল দুপুরের দিকে ওই নারী তাঁর স্বামীকে ফোন করে বলেন, ‘আমি কেএম দাস রোডের এই বাসায় আছি। এখানে মহাবিপদে আছি। তুমি এসে আমাকে নিয়ে যাও।’ পরে ওই নারীর স্বামী পুলিশ নিয়ে সেখানে গিয়ে দেখেন, পাঁচ টুকরা লাশের সামনে ওই নারী বসে আছেন।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর শাহানাজ পারভীন পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, ড্রেসে পুঁতি বসানো এবং বাসায় এসে কিছু ড্রেস দিয়ে যাওয়ার সুবাদে সজীব তাঁর বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। এই সুযোগে সজীবের সঙ্গে তাঁর মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে এর আগে সজীবকে বেশ কয়েকবার সতর্কও করেছেন তিনি। এর পরও সজীব থেমে থাকেননি। বরং তাঁর মেয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের আশায় বারবার বাসায় যাওয়া-আসা করতেন।

ওই নারীর দাবি, তাঁর তিন সন্তানের মধ্যে একমাত্র মেয়ে কলেজে পড়ে। আর দুই ছেলে চাকরি করেন। স্বামী ব্যবসা করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ জানায়, সকালে ওই নারী ছুরি দিয়ে সজীবের বুকে আঘাত করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হলে পরে দুই পা ও অন্যান্য অঙ্গ কেটে ফেলেন। এরপর স্বামীকে ফোন করেন ওই নারী। পরে স্বামীর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসা থেকে সজীবের পাঁচ টুকরা লাশ উদ্ধার করে। ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার কামরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্তের আগে এ বিষয়ে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্তে ভিন্ন কিছুও বের হতে পারে।’

ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার ইফতেখার বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের জন্য সজীবের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে