যুগ্ম সচিবের গাড়ির অপেক্ষায় ফেরি ঘাটে অ্যাম্বুলেন্স আটকে থেকে স্কুলছাত্রের মৃত্যু

সোমবার, জুলাই ২৯, ২০১৯,৫:২৬ পূর্বাহ্ণ
0
33

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের গাড়ির অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরি বসে থাকায় ঘাটে আটকে থেকে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মৃত্যু হয়েছে এক স্কুলছাত্রের  বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের অভিযোগ  আশপাশের লোকজনের অনুরোধের পরও মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে ফেরি ছাড়েনি বলে। এমনকি জরুরি নম্বর ট্রিপল নাইনে ফোন করেও প্রতিকার মেলেনি । তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ঘাটে কর্তব্যরত বিআডব্লিউটিসি কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের দাবি তাদের কাছে রোগীর স্বজনরা রোগীর অবস্থা জানানোর সঙ্গে সঙ্গে সহযোগিতা করা হয় সকল ধরনের । কাঁঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার আব্দুস সালাম জানিয়েছেন এ বিষয় বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান খোঁজ নিয়েছেন । একাধিক সূত্রে জানা যায়, নড়াইল কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র তিতাস ঘোষ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় প্রথমে ভর্তি হয় খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে । পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার তাকে অর্ধ লক্ষ টাকায় ভাড়া করা আইসিইউ সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নেওয়া হচ্ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে । 

রাত ৮টার দিক মাদারীপুরের কাঠালবাড়ী ১নং ফেরী ঘাটে  অ্যাম্বুলেন্সটি পৌঁছায়। রাত ৯টার দিক কুমিল্লা নামের ফেরিটি শিমুলীয়া থেকে কাাঁঠালবাড়ি ঘাটে ভিড়ে গাড়ি আনলোড করছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় এ সময় ওই রোগীর লোকজন ঘাটে কর্মরতদের তাদের রোগীর অবস্থা বললেও গাড়ি আনলোড শেষে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মন্ডল ওই কর্মকর্তার গাড়ি না আসা পর্যন্ত ফেরি ছাড়তে রাজি হননি ঘাট কর্তৃপক্ষ  । 

এ অবস্থায় মুমূর্ষু তিতাসকে বাঁচাতে স্বজনরা  সাহায্যেও জন্য ফোন করেন জরুরি নম্বর ট্রিপল নাইনে।  পরিবারের অভিযোগ ঘাট কর্তৃপক্ষ পুলিশ সদস্যদেরও অনুরোধও রাখেননি । দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ফেরি ছাড়ে রাত পৌনে এগারোটার দিক নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো সাদা রংয়ের নোহা মাইক্রোবাসটি আসার পর ।ফেরিটি মাঝ নদীতে পৌঁছালে মস্তিস্কে প্রচুর রক্তক্ষরণে তিতাসের মৃত্যু হয় আম্বুলেন্সেই। পরে শিমুলিয়া ঘাট থেকে আবারও ফেরিতে কাঁঠালবাড়ি ঘাট পৌঁছে ওই পরিবারটি তিতাসের লাশ নিয়ে নড়াইল ফিরে যায় । তবে পুলিশ ও ঘাটে কর্তব্যরত বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তাদের দাবি তাদের কাছে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে যখন রোগীর কথা জানানো হয় তখনি তাদের অ্যাম্বলেন্স ফেরিতে লোড করে ১০ মিনিটের মধ্যেই ঘাট থেকে কুমিল্লা ফেরিটি শিমুলীয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। আর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ওই অতিরিক্ত সচিবের জন্য খুব বেশি দেরি করেনি ফেরিটি।

কুমিল্লা ফেরির মাস্টার ইনচার্জ মোঃ সামসুল আলম বলেন, ফেরিটি কাঁঠালবাড়ি ঘাটে আসার পর ভিআইপি যাত্রীর জন্য আমাকে খুব বেশি হলে আধ ঘণ্টার মতো অপেক্ষা করতে হয়েছিল। রাত আনুমানিক ১০টার দিক ফেরি ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীর মৃত্যু হয় বলে জানতে পারি।

কাঠালবাড়ি ঘাটে সেই সময় কর্তব্যরত বিআইডব্লিউটিসির টিএস ফিরোজ আলম বলেন, ওই দিন আমি দায়িত্বে ছিলাম অন্য ঘাটে। আমাকে সাংবাদিক ও রোগীর স্বজন পরিচয় দিয়ে একজন ফোন করে তিতাস নামক ওই রোগীর অবস্থার কথা জানালে আমি পাশের ঘাট থেকে দ্রুত এসে অ্যাম্বুলেন্সটি  তুলে দেই ফেরিতে। প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে  ঘাট থেকে ছেড়ে যায় ফেরিটিও।কাঠালবাড়ি ঘাট ট্রাফিক ইন্সপেক্টর উত্তম শর্মা বলেন, ওই পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা  ফেরিতে তুলে দিয়েছিল তাদের অ্যাম্বুলেন্স। আমরা সকল ধরনের সহযোগিতা করেছি তাদের ।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার আ. সালাম বলেন, জেলা প্রশাসক স্যার সেদিন তার কার্যালয়ে একটি সভায় যুগ্ম সচিব স্যারের কথা  জানিয়ে তার নম্বর দেয় আমাকে। যুগ্ম সচিবকে পারাপার করার জন্য ঘাটে রাখা ছিল না কোন ফেরি । তাকে বহনকারী গাড়িটি ঘাটের কাছাকাছি চলে আসার ফোন পেয়ে কুমিল্লা ফেরিটি অ্যাম্বুলেন্সসহ সকল গাড়ি লোড দিয়ে সচিবের গাড়ির জন্য ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করেছিল বলে জানতে পেরেছি।মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম এ ব্যাপারে জানান, আমার ঊর্ধবতন কর্তৃপক্ষ ফোন করে ঘাটের ব্যপারে আমাকে জানান। আমি ওই সময়ে ঘাটের আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে মিটিংএ ছিলাম সেখানে ঘাটের দায়িত্বরত কর্মকর্তাও ছিলেন। আমি তাকে বলেছি যুগ্ম সচিব মহোদয় ফেরিতে যাবেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে জানালে আমার দায়িত্ব বিষয়টি ঘাট কর্তৃপক্ষকে জানানো, বিষয়টি তাদের জানানো ছাড়া আর কিছু নয়। তবে ফেরিতে অ্যাম্বুলেন্স না তুলে সচিবের জন্য অপেক্ষা করার বিষয়টি  জানানো হয়নি আমাকে। বা সচিব মহেদয়ের জন্য ফেরি অপেক্ষা করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ঘাট কর্তৃপক্ষের বিষয়, আমি অ্যাম্বুলেন্স বসিয়ে রেখে সচিব মহোদয়কে নিতে হবে এমন কোনো কথা বলিনি।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে