মুজিব চিরন্তন অনুষ্ঠানমালার সমাপনী দিনের প্রতিপাদ্য ‘স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণরেখা’

শুক্রবার, মার্চ ২৬, ২০২১,৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
0
9

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন উপলক্ষে দশ দিনব্যাপী ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানমালা’র সমাপনী দিনের প্রতিপাদ্য ‘স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণরেখা’।

আজ জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বিদ্যমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকাল সাড়ে ৪টায়। দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটি টেলিভিশন, বেতার, অনলাইন ও স্যোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্বের শুরুতে ‘মুজিব চিরন্তন’ থিমের অডিও ভিজ্যুয়াল প্রদর্শন, থিমেটিক কোরিওগ্রাফির মাধ্যমে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর লোগো উন্মোচন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর থিম সংগীত, ‘মুজিব চিরন্তন’ থিমের টাইটেল এনিমেশন, সশস্ত্রবাহিনীর তথ্যচিত্র পরিবেশিত হয়। আলোচনা পর্বে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এরপর জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। এছাড়া রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন, তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন জুনিয়র এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শুভেচ্ছা বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন উপলক্ষে আরো যেসব রাষ্ট্র ও সংস্থা শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরণ করেছে এ অনুষ্ঠানে তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরণকারী দেশের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, ব্রুনেই, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, এস্তোনিয়া, মিশর, ইথিওপিয়া, গ্রিস, জর্জিয়া, ইরাক, জাপান, কসোভো, কুয়েত, লাও, লুক্সেমবার্গ, দক্ষিণ কোরিয়া, মন্টেনিগ্রো, মরক্কো, মোনাকো, মিয়ানমার, মঙ্গোলিয়া, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, কাতার, ফিলিস্তিন, ফিলিপাইন, সৌদি আরব, সার্বিয়া, স্পেন, সিংগাপুর, সানমারিনো, সুইজারল্যন্ড, সুইডেন, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউক্রেন, উজবেকিস্থান এবং  ভিয়েতনাম।

যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরণ করেছে সেগুলো হলো আগাখান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (একেডিএন), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অরগানাইজেশন (আইএমও), ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ), ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (আইপিইউ), ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) , বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), বিশ্ব মেধাসম্পদ  সংস্থা (ডব্লিউআইপিও), বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও), সাউথ সেন্টার, জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর), জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংগঠন (আংকটাড)।

অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারত সরকার কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রদত্ত ‘গান্ধী শান্তি পুরস্কার ২০২০’ বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার হাতে তুলে দেন।

আলোচনা পর্বে সম্মানিত অতিথি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে ‘মুজিব চিরন্তন’ শ্রদ্ধাস্মারক তুলে দেন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। এরপর প্রধান অতিথি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের বক্তব্য এবং অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বক্তব্য প্রদানের মধ্য দিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতজ্ঞ অজয় চক্রবর্তীর পরিবেশনায় বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে নবনির্মিত রাগ ‘মৈত্রী’ পরিবেশনা, অস্কার জয়ী সংগীতশিল্পী এ আর রহমানের পরিবেশনা, ‘স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও অগ্রগতির সুবর্ণরেখা’ শীর্ষক অডিও ভিজ্যুয়াল, ‘পিতা দিয়েছে স্বাধীন স্বদেশ, কন্যা দিয়েছে আলো’ শীর্ষক থিমেটিক কোরিওগ্রাফি, ‘বিন্দু থেকে সিন্ধু’ শীর্ষক তিনটি কালজয়ী গান, সমবেত বাদ্য ও কোরিওগ্রাফি সহযোগে ‘বাংলাদেশের গর্জন : আজ শুনুক পুরো বিশ্ব’ এবং সবশেষে ফায়ার ওয়ার্কস ও লেজার শো’র মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে