মহিলা পরিষদ ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১,১১:০৭ পূর্বাহ্ণ
0
7

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

গত ২৬ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার ) বেলা ৪ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের,ঢাকা মহানগর কমিটির  প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপপরিষদের উদ্যোগে  সংগঠকদের জন্য অনলাইনে ‘নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সংগঠকদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচী  অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ঢাকা  কমিটির সভাপতি মাহাতাবুন নেসা। 

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস  বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জাতীয় ও বৈশ্বিক নারী আন্দোলনের অংশ। পেশাদারী দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে সংগঠকের নেতৃত্বের বিকাশ নিশ্চিত করা, সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা ও জ্ঞান অর্জন অব্যাহত রাখা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের বাস্তব কাজের ধারা এবং সংগঠনের দীর্ঘ ৫০ বছর ধারাবাহিক নারী আন্দোলনে বিভিন্ন কার্যক্রম ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সকল ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে । সকলের মাঝে  জেন্ডার সমতাপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে হবে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে সঙ্গে লবি করে  সিডও সনদের ধারা অবমুক্তকরণ  মধ্য দিয়ে নারীর অধিকার মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতির বিষয় সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। 

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও হাউজ রুল সম্পর্কে আলোকপাত করেন  ঢাকা মহানগর কমিটির প্রশিক্ষণ গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন ইতি  বলেন,প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হচ্ছে সাংগঠনিক  জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমের সংযুক্ত হয়ে যোগ্যতার উন্নতি ও সমৃদ্ধ হওয়া। প্রশিক্ষণ একটি চলমান প্রক্রিয়া এর মাধ্যমে
সাংগঠনিক কাজে পেশাদারী দক্ষতার সাথে পরিচালনার লক্ষ্যে বাস্তব কাজের ধারা বিষয়ক বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে সংগঠক ও কর্মী আত্ম বিশ্বাস বৃদ্ধি ও পেশাদারী মনোভাব তৈরী সম্ভাব্যতা সৃষ্টি হয়। কর্মী সংগঠকদের দক্ষতাবৃদ্ধি গুনগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ ও পুনপ্রশিক্ষনের  সংগঠকদের পেশাদারী দক্ষতা বৃদ্ধি ও নেতৃত্বেও বিকাশ বিশেষত: তরুণী নেতৃত্ব গড়ে তোলার দিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে ।

নারী আন্দোলন ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিষয়ে  আলোচনা করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু ধর বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ নারী। এজন্য সমাজে প্রচলিত  পুরুষতান্ত্রিকতা,ধর্মীয় গোড়ামী,সংকীর্ণ মনোভাবসহ সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর আহবান জানিয়েছেন । নারীর জীবনের
 নানাধরনের বৈষম্যের শিকার এবং নারী   আন্দোলনে বা নারীর অধিকার বিষয়ক বিভিন্ন  দিকগুলো তাঁর  আলোচনায় উল্লেখ করেছেন ।

নারী আন্দোলন সম্পর্কে আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন, প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নারী আন্দোলন নিয়ে কথা বলতে হলে আমাদের দৃষ্টি ফেরাতে হবে ব্রিটিশ আমল থেকে পাকিস্তান হয়ে স্বাধীনতার পরের বাংলাদেশকে নিয়ে। সংগ্রাম একটি দীর্ঘ যাত্রা, একদিনে বা কয়েক বছরে তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি ।  নারীর মুক্তি সংগ্রামের ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নারী আন্দোলনে সংগ্রামে আমরা অসংখ্য প্রগতিশীল চিন্তা ধারার অনেক  নারী নেত্রীকে পেয়েছি , যারা নিজেরা আলোকিত হয়েছেন এবং অন্যদের পথ দেখিয়েছেন সমাজ ব্যবস্থা সংস্কারের ।

নারী সম্পর্কে নেতিবাচকতা ঝেড়ে ফেলে সমাজ গঠনে নারীকে পুরুষের সমকক্ষ ভাবার আহবান জানান।
পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের নানা ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। নারী ও পুরুষের সমতা কিংবা নারীর প্রতি পুরুষের পুরুষতান্ত্রিক আচরণ দূর করা।
নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে প্রয়োজনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তাঁর  আলোচনা উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের নারীদের সামাজিক মর্যাদা বহুবছর ধরে সংগ্রাম করে বিশাল প্রাপ্তিকে বুঝানো চেষ্টা করেছেন ।
নারীর জীবনে সার্বিক  কর্মকাণ্ড সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রদত্ত বিভিন্ন মতবাদ ও আন্দোলনের ইতিবৃত্ত তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেছেন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে, নারী শিক্ষার বিভিন্ন দিকগুলো তুলে ধরে জানান নারী ক্ষমতায়ন নারীদের সমাজে বিভিন্ন সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবন নির্ধারণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেয়। নারীক্ষমতায়ন নারীর নিজস্ব মূল্যবোধকে বিকাশিত করতে সাহায্য করে। তিনি আরও বলেন, নারীর অধিকার মানবাধিকার, অসাম্প্রদায়িক, গণতন্ত্র ও নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা ও নারীর ব্যক্তি অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, নারীর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক তথা সামগ্রিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সংগঠনের বহুমুখী কার্যক্রমে নারী সমাজকে সচেতন ও সংগঠিত করে আন্দোলন পরিচালনা করছে। নারী অধিকার আদায়ে বা মানবাধিকারের দাবিতে, সংগ্রাম পরিচালনার ক্ষেত্রে ইচ্ছাশক্তির ও দায়িত্ববোধের মধ্য দিয়ে  তরুণ প্রজন্মেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সংগঠনের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র এবং জেন্ডার ধারণা ও নারীর ক্ষমতায়ন বক্তব্যে  সংগঠনের  কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ বলেন , বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দেশের সবচেয়ে প্রাচীন নারী সংগঠন। নারী মুক্তি ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। মহিলা পরিষদ মনে করে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নারী-পুরুষ উভয়েরই সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, জেন্ডার ধারণা ক্ষেত্রে নারীর সমতার যাত্রাকে এগিয়ে নিতে দরকার এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ধারণার স্পষ্টতা, যা অনেকের মধ্যে অনুপস্থিত। জেন্ডার ধারণা সামাজিক প্রচলিত মূল্যবোধ বাস্তব জীবন জীবনকে পরিপূর্ণ মনে করছি। নারী ও কন্যা শিশুর  বৈষম্যমুক্ত ও স্বাধীন জীবনযাপনের সুযোগ থাকা উচিত বলে উল্লেখ করেন । জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন অর্জনে নারীর ওপর সহিংসতা, বাল্যবিবাহ, মাতৃমৃত্যু ও অন্যান্য প্রথাগত ক্ষতিকর বিষয়গুলো দূর করা দরকার । পরিবার থেকে সন্তানদের সমঅধিকার নিশ্চিতকরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
নারী ক্ষমতায়ন নারীর নিজস্ব মূল্যবোধকে বিকাশিত করতে সাহায্য করে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ থাকলেও তাঁদের ক্ষমতায়ন হয়নি সেভাবে।নারী ক্ষমতায়ন উন্নয়ন এবং অর্থনীতিতে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নারীদের নিয়ন্ত্রণের অধিকার ভোগ করার ক্ষমতা থাকতে হবে। দেশের নারী ও মেয়েরা বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হয়,তখন তাদের দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বাধাগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে নারীদের যখন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন হয়; তখন পুরুষ, ছেলেসহ সব নাগরিকই সুবিধাপ্রাপ্ত হয়। আলোচনা তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর মানুষদের স্বীকৃতি তাদের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে একটি জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। জেন্ডার সমতা, নারীর ওপর সহিংসতা প্রতিরোধ ও নারীর উন্নয়নের জন্য বেশ কয়েকটি নীতি ও আইন প্রণয়নের সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর কমিটি সভানেত্রী মাহাতাবুন নেসা বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়।
নারীর সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ দৃষ্টি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে শিক্ষা- বাস্তব কাজের ধারা  সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ আমাদের কর্মী ও সংগঠকদের সমৃদ্ধ করে থাকে এরই অংশ হিসেবে আজকের আমাদের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন। তিনি আশা ব্যক্ত করেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে  অর্জিত জ্ঞান  নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে, সমাজে  এবং পরিবারে প্রয়োগ মাধ্যমে সফলতা অর্জন সম্ভব হবে।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমেদ
,ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ, পাড়া কমিটির সদস্য,এবং কর্মকর্তাসহ ২৫ জন উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর  কমিটির প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার উপ-পরিষদ সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন ইতি। 

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে