মহিলা পরিষদের ‘নারী নেতৃত্বের বিকাশ ও সমতাপূর্ণ ভবিষ্যত গড়ার অঙ্গীকার’ বিষয়ক অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত

শনিবার, মার্চ ১৩, ২০২১,৯:৪৪ অপরাহ্ণ
0
64

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

আজ ১৩ মার্চ (শনিবার) বিকেল ৩ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটির আন্দোলন উপ পরিষদের উদ্যোগে ’’নারী নেতৃত্বের বিকাশ ও সমতাপূর্ণ ভবিষ্যত গড়ার অঙ্গীকার” বিষয়ক আলোচনা সভা অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মাহাতাবুন নেসা।

সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস। তিনি বলেন,অগ্রগতির মূল কথা, নারী-পুরুষ সমতা’। নারীর ক্ষমতায়ন, সমতা এবং উন্নয়নের মূলধারায় পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধসহ সকল আন্দোলনে নারীর রয়েছে অগ্রণী ভূমিকা। বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বিশেষ অবদান রেখেছে নারী নেতৃত্ব। আমি আশা করি, নতুন ভবিষ্যত সৃষ্টির প্রত্যাশায় সারা দেশ তৃণমূল পর্যায় থেকে নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। সর্বক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।’
আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বিষয় ভিত্তিক কর্মসূচির সূত্রপাত সম্পর্কে পর্যালোচনা  করেন,ঢাকা মহানগরের সহ-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু ধর বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতিটি নারীর সংগ্রামের ইতিহাসকে স্মরণ করে দিবসটি পালন শুরু হয়। মজুরিবৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ এবং কর্মক্ষেত্রে বৈরী পরিবেশের প্রতিবাদ করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সুতা কারখানার একদল শ্রমজীবী নারী। তাঁদের ওপরে দমন-পীড়ন চালায় মালিকপক্ষ। নানা ঘটনার পরে ১৯০৮ সালে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ও রাজনীতিবিদ ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে প্রথম নারী সম্মেলন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ দিনটি নারী দিবস হিসেবে পালন করছে।  বর্তমান বিশ্বে নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দিবসটির তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের তাৎপর্য হচ্ছে, পৃথিবীর নারীদের অধিকার কতটুকু অর্জিত হয়েছে এবং তারা কি কি বৈষম্য ও বাধার সম্মুখীন তা মুল্যায়ন ও তুলে ধরা।তিনি আরও বলেন, সর্বক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের সার্বিক চিত্র পরিবর্তন করা সম্ভব; যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক। নারী তার মেধা ও শ্রম দিয়ে যুগে যুগে সভ্যতার সকল অগ্রগতি এবং উন্নয়নে করেছে সম-অংশীদারিত্ব। তিনি, তরুণ প্রজন্মকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নারী-পুরুষ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, সেদিন এই আন্দোলন ছিল এক বিশেষ বৈপ্লবিক আন্দোলন। নানা দেশে নানাভাবে এই আন্দোলন সংগঠিত হতে থাকে। শ্রমজীবী নারীদের এই আন্দোলন মূলধারার নারী আন্দোলনে গিয়ে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এ অধিকার প্রশ্নেও নারীদের পেরোতে হয়েছে দীর্ঘ পথ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারীর ক্ষমতায়নে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন লক্ষ্যে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও নির্মূলে বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে এই সংগঠন অব্যাহত ভাবে কাজ আসছে। নারী নেতৃত্বের বিকাশ নারীর চলার পথে সকল ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। নারী নেতৃত্বের ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নারীর ক্ষমতায়নের সামাজিক,রাজনৈতিক, পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রে নেতৃত্বের স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে নারীর অবস্থান কতটুকু তা নিশ্চিত করা প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
নারী নেতৃত্বের বিকাশ জন্য চাই সহায়ক পরিবেশ। পরিবার,সমাজ রাষ্ট্র এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো সকল ক্ষেত্রে নারীর জন্য সুশাসনের ব্যবস্থা ও নারী বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। সামগ্রিকভাবে নারী আন্দোলনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সমতা অর্জন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ গ্রহণে দক্ষতা বৃদ্ধি করে দক্ষ সংগঠক ও সংগঠনকে শক্তিশালী করে সব সচেতন নারীকে সংগঠিত হবার আহ্বান জানান।

আরেক সম্মানিত বক্তা বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত আন্দোলন সম্পাদক রেখা চৌধুরী বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন পরিবার থেকে শুরু করা উচিত। সংগঠনের ধারাবাহিক প্রয়াস বাংলাদেশে এক তাৎপর্যপূর্ণ নারী আন্দোলন বিকশিত করছে এবং নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অপরিহার্য করে তুলছে। বর্তমান সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ অনেক বেশি দৃশ্যমান। নারী তাঁর যোগ্যতা দিয়ে সমাজে স্থান করে নেওয়ার পথে অগ্রসর হচ্ছেন। নানা প্রতিকূলতা, চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে চলছে নারীর অগ্রযাত্রা। নারী-পুরুষের সম-অধিকারসম্পন্ন মানবিক সমাজ নির্মাণে সমাজ রাষ্ট্র দেশ এগিয়ে যাবে। এমনটাই সবার প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে তরুণ প্রজন্মর প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্যে  বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিয়া আফরিন বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীরা বিভিন্ন সমস্যা সম্মুখীন হচ্ছেন এসব বিষয়ে তুলে ধরেন এবং তরুণী নারীদের কেন কর্পোরেট সেক্টরে নেতৃত্বের পজিশনে কেন দেখা যাচ্ছে না ? তিনি জানান কর্পোরেট সেক্টরে নারীদের বেশি ভাগই সেলস্ এন্ড মার্কেটিং পজিশনে দেখা যায়। নারীদের পর্যাপ্ত মেধা ও দক্ষতা থাকার পরও লিডারশিপ পজিশনে দেখা যায় না। তিনি আরও বলেন, পরিবার থেকে অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সমঅধিকার,সমমর্যাদার নিশ্চিত করা।

আরেক শিক্ষার্থী মোঃ সাজিদ রুবেল বলেন, সমাজে নারী প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সবাইকে একসঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে মাধ্যমে এগিয়ে আসা উচিত। ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়িনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি জানান,নারী সমাজ যাতে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।

তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে এ,এইচ,মিল্টন বলেন, আমাদের দেশের নারীদের বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি নারী শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে প্রোগ্রামিংকে পেশা হিসেবে নিতে আগ্রহী। নারীরা অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ও প্রোগ্রামিং মতো কাজে দক্ষতা সাথে করছে। বর্তমানে প্রায় অনেক  নারী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশুনা করছে। এভাবে নারী-পুরুষ সমতাপূর্ণ ভাবে দেশ গড়ার এগিয়ে যাবে।

অনলাইন আলোচনা সভায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চলনায় করেন ঢাকা মহানগর কমিটির আন্দোলন সম্পাদক জুয়েলা জেবুননেসা খান।

অতীব জরুরি বিবেচনায় বিষয়ক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত নেতৃবৃন্দ। ঢাকা মহানগর কার্যকরী কমিটির সংগঠক, পাড়া কমিটির সংগঠক-সদস্যরা। প্রায় ২ ঘণ্টা ২৩ মিনিট ব্যাপী এ অনুষ্ঠানটি লাইভ ছিল।

সভাপতি মাহতাবুননেসার সমাপ্তি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঢাকা মহানগর ও পাড়া কমিটির প্রায় ১৫০ জন সংগঠক-সদস্যরা অন-লাইনে যুক্ত হয়েছিলেন। সর্বশেষ  প্রায়ই ৫৬০ জন ভিউয়ার্স অনলাইনে প্রোগ্রাম দেখেছেন। তাঁরা নারী নেতৃত্বের বিকাশ ও সমতাপূর্ণ ভবিষ্যত গড়ার অঙ্গীকার ʼʼ শীর্ষক  অনলাইন আলোচনা সভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বিষয়বস্তু সম্পর্কে উপস্থিত সকলকে  একাত্মতা ঘোষণা করেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঢাকা মহানগর কমিটিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে