মহিলা পরিষদের উদ্যোগে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে অনলাইন সভা

শুক্রবার, মার্চ ১৯, ২০২১,১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
0
9

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

গতকাল ১৭ মার্চ বিকাল ৩:৩০ টায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে ‘‘ আন্দোলন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধু’’ বিষয়ক অনলাইনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন। সভার শুরুতে সংগীত পরিবেশন করেন সংগীত শিল্পী সুরাইয়া পারভীন এবং সংগীত শিল্পী ডা. সুস্মিতা আহমেদ। আবৃত্তি করেন অভ্র ভট্টাচার্য।

স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন ব্রিটিশ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে  এদেশের জনগণ গণতন্ত্র এবং নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন শুরু করে। একাত্তরের নয়মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন ভূখন্ড এই বাংলাদেশের জন্ম হয়। মুক্তির লক্ষ্যে চলমান এই  সুদীর্ঘ যাত্রাপথের কান্ডারী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।   এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের সকল ধরণের শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে সেই সময়ের তরুণ,উদীয়মান,অসাম্প্রদায়িক, জাতীয়তাবাদী, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের সমতায় বিশ্বাসী এই নেতা জীবনব্যাপী আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষকে সচেতন করেছেন, সংগঠিত করেছেন, তাদের আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখিয়েছেন। প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে ধারণ করে তিনি হয়ে ওঠেন স্বাধীনতার এক মূর্ত প্রতীক। বাঙ্গালীর এই মহান নায়কের অসাধারণ সংগ্রামের ইতিহাস যেন প্রজন্ম  থেকে প্রজন্মে বহমান থাকে এমন প্রত্যাশা করে তিনি বক্তব্য শেষ করেন। সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনূস বলেন বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে আমাদের চিন্তা, চেতনা সবকিছু। পৃথিবীর মানচিত্র্রে স্বাধীন দেশ  হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠার পেছনে বঙ্গবন্ধুর  যে কঠোর সংগ্রামী জীবনের ইতিহাস রয়েছে তা নতুন প্রজন্মের কাছে এখনো অজানা আছে । শোসকের শাসন থেকে মুক্ত হয়ে বাঙ্গালি জাতির জাগরণ সম্ভব হয়েছে  তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বের কারণে। অভাবী,  দাঙ্গাপীড়িত ও  দূর্দশাগ্রস্ত বাঙ্গালির জীবনরক্ষায় তিনি  নিজের প্রাণকে তুচ্ছ করে সবসময় থেকেছেন সম্মুখভাগে । 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন বলেন এক অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু। বাঙ্গালীর মুক্তির সংগ্রামকে ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে তিনি কার্যকর কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি, জীবন দিয়ে অনুধাবন করেন তাদের উন্নতির পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে ন্যায়সংঙ্গত আন্দোলনের জন্য বহিস্কার হলেও কখনো শাসকগোষ্ঠীর কাছে মাথানত করেননি। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের অধিকারের লক্ষ্যে ও নির্যাতিত নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেছেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে , অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হলেন বঙ্গবন্ধু। তাকে দলের উর্দ্ধে রেখে  তার আদর্শকে মেনে সকলকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন একজন গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে সকল শ্রেণীর মানুষের মাঝে তিনি মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রেরণা তৈরি করতে পেরেছিলেন। আন্দোলন সংগ্রামে তিনি এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন।

 সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জাতির পিতা, বিশ্বের অবিস্মরণীয় নেতা বঙ্গবন্ধুর  স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন বাংলাদেশের জনগণের হাজার বছরের মুক্তির আন্দোলন সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধুর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে, স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে। তিনি কোন রাজনৈতিক নেতা হবেন এমন উদ্দেশ্য তার কখনোই ছিল না। তার একটাই লক্ষ ছিলো সবসময় মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখা।  স্বদেশের প্রতি তার ভালোবাসা তাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করত। তার অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দেশপ্রেম সবসময় ই তার কাজে কথায় ফুটে উঠে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে  নারীর রাজনীতিতে নেতৃত্ব দানের পথ তৈরি হয়। অন্যের মতকে তিনি  শ্রদ্ধা করতেন,। তিনি স্বাধীনতার পর শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। তিনি আরো  বলেন বঙ্গবন্ধুর দর্শনকে পূর্ণ করতে হলে তিনি যে সংবিধান রেখে গেছেন তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।

এসময় তিনি বাংলাদেশে শোষণমুক্ত, মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। 

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে