মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ‘করোনাকালীন ডায়াবেটিক রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক কর্মসূচি

শুক্রবার, নভেম্বর ১৩, ২০২০,১০:১১ পূর্বাহ্ণ
0
18

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

বাংলাদশে মহিলা পরিষদ,ঢাকা মহানগর কমিটির স্বাস্থ্য ও সমাজ কল্যাণ উপ পরিষদের উদ্যোগে” আয়োজিত করোনাকালীন ডায়াবেটিক রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান কর্মসূচি গতকাল ১২ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার ) ২০২০  বিকাল ৩:৩০ মিনিটে অনলাইনে মাধ্যমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মাহাতাবুন নেসা ।

উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা.স্যামি সামিয়া খান( পরিপাকতন্ত্র বিভাগ বারডেম হাসপাতাল)

নারীর কল্যাণে প্রতি বছর ঢাকা মহানগর কমিটি স্বাস্থ্য ও সমাজ কল্যাণ উপপরিষদের উদ্যোগে  বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে এরই ধারাবাহিকতায় এই কর্মসূচির আয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ডায়াবেটিস  এখন একটি মহামারি রোগ। এই রোগের অত্যধিক বিস্তারের কারণেই সম্প্রতি এমন ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ডায়াবেটিস এমনই একটি রোগ, যা কখনো সারে না। কিন্তু এই রোগকে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

করোনা কালীন ডায়াবেটিক রোগীদের স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর কমিটি সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস বলেনকরোনাকালীন বর্তমান পরিস্থিতিতে আজকের এই কর্মসূচির অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দীর্ঘ ৫০ বছর অবধি  নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক দেশ ও সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার এবং গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে । করোনাকালীন সময়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে আজকের এই কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকরী। নারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন হচ্ছে । নারীরা এখন নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ মেনে ফিটনেস ঠিক রাখার জন্য শারীরিক ব্যায়াম ও ডায়েট অনুসরণ করে । তবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়টি এখন পর্যন্ত সুনিশ্চিত করা যায়নি। পরিবারের সকল সদস্যদের খাবার পরিবেশনের পর নারীরা তাঁদের খাবার গ্রহণ করেন । নারীদের নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত । ডায়াবেটিস কেন হয় অনেক সময় আমরা  দেখতে পাচ্ছি  শিশুরা ডায়াবেটিস আক্রান্ত হচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে প্রত্যেকের মানুষের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন হচ্ছে । মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বৃদ্ধি সহ অর্থনৈতিক অবস্থা পরিবর্তন সহ বিভিন্ন দুচিন্তা কাজ করছে ।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকার নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে নারীরা এর কতটুকু সুফল পাচ্ছে যদি জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জন্য সরকার সুষ্ঠু বন্টন ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে তবে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে । সরকারের উচিত সকল নাগরিকের জন্য করোনাকালীন বর্তমান পরিস্থিতিতে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা । চিকিৎসা ব্যবস্থার মান উন্নয়ন এখন নারীদের স্বাস্থ্যসেবা সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা উচিত । জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকারের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের করা প্রয়োজনীয় রয়েছে ।

করোনা কালীন ডায়াবেটিক রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করে ডা. স্যামি সামিয়া খান বলেনআমরা যদিও করোনা কালীন মধ্য দিয়ে আছি। করোনাকালীন সময়ে ডায়াবেটিস রোগীদের করণীয় বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করব। আপনাদের জানানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে সকলের শেয়ার করা। আমাদের পরিবারের মহিলারা পছন্দ অনুযায়ী খাবার প্রস্তুত ও  পরিবেশনের করে থাকে। তাই ডায়াবেটিস প্রতিকার করতে চাইলে আমাদের উচিত খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে ।
পরিবারের সকল সদস্যদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে অবশ্যই ঠিক সময়ে  নির্দিষ্ট পরিমাণে সঠিক খাদ্য অভ্যাস মেনে খাবার খেতে হবে। নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে কতটুকু ভালো থাকবেন।

তিনি বলেন,জীবনযাপনের অনিয়মের ফলে এই রোগের প্রকোপ এখন বাড়ছে। ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় উপায় সম্পর্কে আলোচনা মাধ্যমে জানান, সুস্থ ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৬.১ মিলি মোলের কম এবং খাবার ২ ঘণ্টা পরে ৭.৮ মিলি মোলের কম অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলিমোলের কম থাকে। কোনো ব্যক্তির রক্তের প্লাজমায় অভুক্ত অবস্থায় গ্লুকোজের পরিমাণ ৭.০ মিলি মোল বা তার বেশি হলে এবং খাবার খাওয়ার অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে রক্তের প্লাজমায় গ্লুকোজের পরিমাণ ১১.১ মিলি মোল বা তার বেশি হলে অথবা রক্তের ঐনঅ১প ৬.৫%-এর বেশি হলে তাকে ডায়াবেটিস রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ ও তাদের পার্থক্যসমূহ আলোচনা করেন, টাইপ-১, ২. টাইপ-২, ৩. গর্ভকালীন ডায়াবেটিস। ৪. অন্যান্য নির্দিষ্ট কারণভিত্তিক সম্পর্কে অবহিত করেন ডায়াবেটিস আক্রান্ত বিষয়ে আলোকপাত করেন নির্দিষ্ট কারণভিত্তিক বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেন জেনেটিক কারণে ইনসুলিন তৈরি কম হওয়া। জেনেটিক কারণে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়া। অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ। অন্যান্য হরমোন আধিক্য দেখা দিতে পারে ।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে অবহিত করে জানান, যে কেউ যে কোনো বয়সে যেকোনো সময় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। জেনেটিক ফ্যাক্টর যাদের বংশে বিশেষ করে বাবা-মা বা রক্ত সম্পর্কিত নিকটাত্মীয়ের ডায়াবেটিস আছে। যাদের ওজন অনেক বেশি ও যারা ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের কোনো কাজ করেন না। যারা বহুদিন ধরে কর্টিসোল জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেন।যাদের রক্তচাপ আছে এবং রক্তে কোলেস্টেরল বেশি থাকে।

মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস সম্পর্ক আলোচনা করেন, অনেক সময় গর্ভধারণ করার পর ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এবং প্রসবের পর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে যায়। তাকে মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস বলে। গর্ভবতী সময়ে একটু স্থূলতা  বা বেশি বয়সে গর্ভধারণ এসব কারণে বা  মায়ের শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে ইনসুলিন প্রয়োজন হয়, রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখার জন্য। যদি এই ইনসুলিন তৈরিতে শরীর অক্ষম হয় তাহলে ওই গর্ভবতী মায়ের গর্ভাবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়, অর্থাৎ মাতৃত্বকালীন ডায়াবেটিস হয়।

ডায়াবেটিস আক্রান্ত হলে কী ধরণের জটিলতা হতে পারে?
পক্ষাঘাত স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা, হৃদরোগ, পায়ে পচনশীল ক্ষত, চক্ষুরোগ, পাতলা পায়খানা, যক্ষ্মা, চুলকানি, ফোঁড়া,  ইত্যাদি। এবং নানা ধরনের জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস চিকিৎসায়  কি করতে হবে ?

এই বিষয়ে সম্পর্কে অবহিত করে মতামত প্রদান করে জানান,শৃঙ্খলা সঙ্গে জীবন যাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে ।ডায়েট অনুসরণ করে সঠিক খাদ্য অভ্যাস মেনে চলা। আমরা অনেক সময় বাচ্চাদের বেশি খাদ্য দিয়ে থাকি এর দায় কিন্তু আমাদের ফ্যামিলি খাদ্য অভ্যাস সঠিক হতে হবে । আমরা সবাই জানি কিন্তু মেনে চলি না। আমরা পারি আমাদের বাচ্চাদের ওবিসিটি মতো একটি  মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে রক্ষা করতে। শুধু প্রয়োজন সঠিক খাদ্য অভ্যাস গড়ে তোলা ।নিয়মিত সঠিক সময়ে পরিমাণ মতো সুষম খাবার গ্রহণ করুন । জটিল রোগীর ক্ষেত্রে পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করা।

সাধ্যমতো কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়াম করা। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট এবং সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন হাঁটলে শরীর যথেষ্ট সুস্থ থাকবে। শরীর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত ।

ডায়াবেটিস সম্পর্কিত শিক্ষা সম্পর্কে অবহিত করেন, আমাদের প্রত্যেকের উচিত ৪০ বছর বয়সের পর প্রতি বছর ১বার হলেও চিকিৎসা গ্রহণ করা ।

ডায়াবেটিস আজীবনের রোগ  সঠিক ব্যবস্থা নিলে এই রোগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই এ রোগের সুচিকিৎসার জন্য ডায়াবেটিস সম্পর্কে রোগীর যেমন শিক্ষা প্রয়োজন, তেমনি রোগীর নিকটাত্মীয়দেরও এই রোগ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা দরকার। 

করোনা কালীন ডায়াবেটিক রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় শীর্ষক আলোচনা ঢাকা মহানগর কমিটি সভাপতি মাহাতাবুন নেসা বলেন, করোনাকালীন পরিস্থিতিতে আজকের এই কর্মসূচি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় বিষয়ক অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত কার্যকরী একটি পদক্ষেপ । তিনি বলেন করোনাকালীন সময়ে ডায়াবেটিস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করার মাধ্যমে আমাদের মধ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কর্মসূচি অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিকে ঢাকা মহানগর কমিটি পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন  সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি বক্তব্যে মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষণা করেন ।

করোনা কালীন ডায়াবেটিক রোগীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় শীর্ষক কর্মসূচির অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর কমিটি স্বাস্থ্য ও সমাজ কল্যাণ উপ-পরিষদের সম্পাদক শাহেদা আক্তার পলি ।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে