ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের বীক্ষণ আসরে ‘সমকাল ও আগামীর ভাবনা’ মুক্ত আলোচনা

সোমবার, অক্টোবর ৪, ২০২১,১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
0
8

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের নিয়মিত বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ও কবিতা পাঠচক্র বীক্ষণ-এর ১৯৬০ তম আসর অনুষ্ঠিত হলো গত ০১ অক্টোবর ২০২১ তারিখ শুক্রবার সকাল ১০.৩০ ঘটিকায় কাচারি ঘাটস্থিত সংসদের স্থায়ী মঞ্চে। উল্লেখ্য যে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার অনেক কমে যাওয়ায় ও সরকারি বিধি- নিষেধ প্রত্যাহার করে নেয়ায় সুদীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর উন্মুক্ত ও উৎফুল্ল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বীক্ষণ-এর এই ১৯৬৯ তম আসরটি।

তাই আসরের প্রতিপাদ্য নির্বাচন করা হয়েছে ” সমকাল ও আগামীর ভাবনা ” নিয়ে মুক্ত আলোচনা । তাছাড়া আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো অক্টোবর- ডিসেম্বর’২০২১ প্রান্তিকের দায়িত্ব গ্রহণকারী বীক্ষণ-এর নতুন কমিটির নতুন কার্যক্রম শুরু হলো চিরচেনা উন্মুক্ত পরিবেশে।
উক্ত মুক্ত আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সহ-সভাপতি এবং ময়মনসিংহের কবিদের গর্ব ও অহংকার, স্বনামধন্য বিশিষ্ট কবি সোহরাব পাশা। মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক দীর্ঘদিনের সাহিত্য যোদ্ধা কবি স্বাধীন চৌধুরী। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন বছরের শেষ প্রান্তিকের নবগঠিত বীক্ষণ কমিটির চির সবুজ তারুণ্যে ভরপুর তরুণ কবি সবুজ রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের নিবেদিত প্রাণ,একনিষ্ঠ কর্মী ও দীর্ঘ সময় ধরে সাহিত্য সংসদের হাল ধরে থাকা সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট মানবদরদী, সমাজকর্মী, করোনা যুদ্ধে বিজয়ী যোদ্ধা কবি স্বাধীন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্যের শুরুতেই তিনি মহাশক্তিধর করোনা মহামারীর যুদ্ধে ও আরেকটি প্রাণঘাতি জটিল রোগের আক্রমণের বিরুদ্ধে জয়ী হয়ে সুস্থ দেহে সুদীর্ঘ দেড় বছরের অধিক সময় ধরে আবদ্ধ পরিবেশ থেকে মুক্তি পেয়েই নতুন প্রান্তিকের শুরুর দিনে ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের চিরচেনা উন্মুক্ত পরিবেশে কথা বলতে পারার জন্য মহান আল্লাহ তাআলার কাছে শুকরিয়া জানান এবং যারা তার অসুস্থতার দুঃসময়ে খোঁজ খবর নিয়েছেন, দোয়া করেছেন ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন তাদের সবাইকে তিনি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন দীর্ঘ সময়ের আবদ্ধ পরিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ ও বীক্ষণ পাঠচক্রের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বর্তমানের ও আগামীর দিনগুলোতে দেশের,দশের ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধগুলোকে জাগ্রত করার জন্য এখন হতেই আমাদেরকে নতুনভাবে আগামীর ভাবনাগুলো নিয়ে ভাবতে হবে।
মুক্ত আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কবি বিমল পাল,কবি মোঃ চানঁ মিয়া ফকির, শরীফ মল্লিক, অহনা নাসরীন, রাহমান হাবিব, আশিক আকবর, ফয়সল আহমেদ, মোঃ অহিদুর রহমান এবং “বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক”প্রাপ্ত কৃষি সাংবাদিক, লেখক, উদ্ভাবক এবং অবসরপ্রাপ্ত উপপরিচালক ও জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার কৃষিবিদ শেখ মোঃ মুজাহিদ নোমানী।
আলোচনায় সকল বক্তাই করোনা মহামারীর প্রচন্ড প্রকোপের মধ্যেও স্বাস্থ্য বিধি মেনে ভার্চুয়ালী যোগাযোগের মাধ্যমে ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ অত্যন্ত গর্বের সাথে, আনন্দের সাথে তাদের নিয়মিত বিষয় ভিত্তিক আলোচনা ও কবিতা পাঠচক্র কার্যক্রম ” বীক্ষণ আসর ” বিরামহীনভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য সাহিত্য সংসদ ও বীক্ষণ-এর সকল সম্মানিত সদস্যবৃন্দকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচছা জানান।
আর তাই আজ স্বশরীরে হাজির হয়ে সাহিত্য সংসদের অতি প্রিয় স্থায়ী মঞ্চে এসে বছরের শেষ প্রান্তিকে অক্টোবরের প্রথমদিনেই নতুন প্রান্তিকের প্রথম অনুষ্ঠানেই ” সমকাল ও আগামীর ভাবনা ” শীর্ষক সময়োপযোগী মুক্ত আলোচনা নিয়ে বীক্ষণের ১৯৬০ তম আসরটির আয়োজন করার জন্য সকল বক্তাই সাহিত্য সংসদের ও বীক্ষণ আসরের সম্মানিত সদস্যবৃন্দকে সাধুবাদ জানান।

তাছাড়া অনেক বক্তাই বছরের এই শেষ প্রান্তিকেই বিভিন্ন জেলা-উপজেলার গন্ডী ছাড়িয়ে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় বা নেপাল ও ভুটানের কবি,লেখক ও সাহিত্যিকদের সাথে দুই দেশের মধ্যে সাহিত্য বিষয়ে মতবিনিময় ও পারস্পরিক সফর বিনিময় করার আয়োজন করা যেতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন।

কবি স্বাধীন চৌধুরী বলেন এর আগের বীক্ষণ আসরে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বীক্ষণের আসরে ভার্চুয়ালী যোগদান করেন। রাষ্ট্রদূত মহোদয় সাহিত্যের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ব্যাক্ত করার পাশাপাশি ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদ ও বীক্ষণ আসরের সংশ্লিষ্ট সদস্যবৃন্দকে নেপাল সফরের আমন্ত্রণ জানান।

কৃষিবিদ শেখ মোঃ মুজাহিদ নোমানী তার বক্তব্যে বলেন বীক্ষণের দীর্ঘ সফল যাত্রায় ১৯৬০ তম আসরটি কাকতালীয় ভাবে নিজের জীবনের জন্মসালের সাথে মিলে যাওয়ায় এবং সেই আসরে স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারায় নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবান মনে করছেন। এজন্য তিনি বীক্ষণ আসরের ও ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।

পাশাপাশি তিনি এও জানান যে, তাঁর আপন ভাস্তে বর্তমানে ভূটানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োজিত থাকায় ভূটানে গমন পরবর্তী অবস্থান, আপ্যায়ন ও পরিবহন সুবিধার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
সুতরাং আগামী নভেম্বর ডিসেম্বর ২০২১ মাসের মধ্যে দুই দেশের সাহিত্যিকদের মাঝে আলোচনা ও মতবিনিময় কর্মসূচীর নিমিত্তে ৮-১০ দিন ব্যাপী নেপাল ও ভূটান সফরের আয়োজন করা যেতে পারে বলে প্রস্তাব করেন সাহিত্য সংসদের নেতৃবৃন্দের প্রতি।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রতিশ্রুতিশীল উদীয়মান তরুণ আবৃত্তিকার, উপস্থাপক এবং সঙ্গীত শিল্পী আমজাদ শ্রাবণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় কবিতা পাঠের আসর। আবৃত্তি করেন কবি মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল, আবদুল কাদের চৌধুরী মুন্না, সজল কোরায়শী, ফয়সল আহমেদ, সৈয়দ  সাদেক শফিক  সিংহী, অহনা নাসরীন, শরীফ মল্লিক, আমজাদ শ্রাবণ, রাহমান হাবিব, কবি আসাদ ও বিউটি আকন্দ।
সবশেষে চা আপ্যায়নের মাধ্যমে দুপুর ১.০০ ঘটিকায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে