মজুদদারিদের প্রতিরোধের আহ্বান সুজনের

বুধবার, নভেম্বর ১৮, ২০২০,১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
0
4

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

বাজারে পেঁয়াজের মূল্যে ঊর্ধ্বগতি চলছে বেশ কয়েকমান যাবত। আর এই ঊর্ধ্বগতির কারণে দৈনন্দিন বাজারে নিত্য পণ্যের চাহিদা তালিকায় আবশ্যিক এই কাট ছাট করছে ভোক্তা সাধারণ। অথচ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ব্যবসার নামে মজুত করে গোডাউনে রাখা পঁচা পেঁয়াজ ফেলে দিচ্ছে খালে। এই ঘটনা দেখে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি গতকাল মঙ্গলবার সকালে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগরীর চকবাজার ধুনির পোল এলাকায় চাক্তাই খাল থেকে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার কার্যক্রম ও মশার ওষুধ ছিটানো পরিদর্শনে গিয়ে এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। এসময় ১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, রাজনীতিক ও আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী মোহাম্মদ শহিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, চকবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা নাজিম উদ্দিন, চসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রশাসকের সাথে ছিলেন।

খালের এসব ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার কাজ চলাকালে তিনি ওই এলাকায় জনসাধারণের মাঝে করোনা ভাইরাস, ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সচেতনতায় প্রচারপত্র বিলি করেন। সে সময় প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, খাল-নালা হলো পানি চলাচলের পথ। অথচ খালে ফেলা হচ্ছে পঁচা পেয়াজ, আবর্জনা, এটা তো কাম্য নয়। ব্যবসায়ী নামে এসব গণদুশমন মজুতদারিদের প্রতিহত করতে হবে। তিনি ওই এলাকায় বাজার কেন্দ্রিক যেসব অবৈধ চাঁদাবাজ আছেন তাদেরকেও সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করতে বলেন।

প্রশাসক সুজন চকবাজার কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীদের বাজারের উচ্ছিষ্ট খাল-নালায় না ফেলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন একদিকে করোনা মহামারিতে জনবীজন বিপর্যস্ত। অপর দিকে শীতের শুষ্ক মৌসুমে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বাড়ে। ইতোমধ্যেই করোনার সংক্রামন বেড়েছে। এর মধ্যে যদি ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়াকেও নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে ভয়াবহ পরিস্থিতি ধারণ করবে নগরীর জনজীবনে। তাই আপনাদের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান আপনারা নিজ বাড়ি, বাসা, ব্যবসা-বাণিজের আশপাশ, আঙ্গিনা নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন। সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আমরা এবার নালা-খালের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করছি। এরপর যদি পরিষ্কার হওয়া স্থানে কোন ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র পড়ে থাকতে বা ফেলতে দেখি, তাহলে ওই এলাকার আশ-পাশের বাসিন্দা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব।

তিনি আরো বলেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নগরবাসীরও নাগরিক দায়িত্ব রয়েছে। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে কোন সেবাকার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব নয়। সুজন করোনা প্রতিরোধে প্রয়োজনে বাইরে বের হলে মাস্ক পরিধান না করলে শাস্তির ববস্থা করা হবে জানিয়ে নগরবাসীকে সর্তক করে দিয়ে বলেন, আজ (মঙ্গলবার) থেকে নগরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ৬টি টিম জনসাধারণের মাঝে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করতে অভিযান চালাবে।

উল্লেখ্য চকবাজার-পশ্চিম বাকলিয়া এলাকায় চাক্তাই খাল থেকে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারে সিটি কর্পোরেশনের দুটি স্কেভেটর, ১০টি ড্রাম ট্রাক, ৪০ জন পরিচ্ছন্ন সেবক কাজ করবে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে