“ভালোবাসা আজকাল”

রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২০,১২:২১ অপরাহ্ণ
0
50

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

কিছুদিন ধরে তমার সাথে খুব ঘন ঘন ঝগড়া বা বিনা কারণে খুনসুটি হচ্ছে তমালের। ব্যাপারটা এমন হচ্ছে যে আকাশের মতো নানা রুপ নিচ্ছে। ঝগড়ার মাত্রা এতোই প্রখর যে কখনো কখনো তুমুল ঝড়ে সব কিছু লণ্ডভণ্ড। আবার কখনো ঘন কালো আকাশের মতো নিরব শান্ত অভিমান। কয়টা দিন আগেও কিন্তু এমন চিত্র ছিলো না তাদের।লকডাউনে বেশ ভাগাভাগি করে দুজনে সুন্দর করে সামলে নিচ্ছিল সংসারে যাবতীয় কাজকর্ম।

তমা রেগে গিয়ে কান্না করে আর এটা সেটা ছুঁড়ে মারে। পৃথিবীর সকল নারীই মনে হয় যখনই কোনো যৌক্তিক বিষয়ে পেরে না উঠে তখন আক্রমনাত্মক হয়ে উঠে অথবা কান্নায় মেতে উঠে। কান্না মেয়েদের ভয়ংকর হাতিয়ার (হাঁসির পর)। তমা মোটেও তার ব্যতিক্রম নয়।

একদিন খাবার টেবিলে হঠাৎ খানিকটা খুনসুটি থেকে তমা গর্জন আর চিৎকারের সাথে বলতে শুরু করল, আমি আর তোমার মুখ দেখতে চাই না, বের হয়ে যাও! তোমার মতো স্বামী দরকার নেই আমার। কোনো কিছু না ভেবেই তমাল বের হয়ে পরে বাসা থেকে। খুব সম্ভবত রেগে গেলে ছেলেরা অনেক সময়ই নিয়ন্ত্রণ রেখা ছাড়িয়ে যায়। সিগারেট কিনতে গিয়ে পকেটে হাত দিতেই তমাল দেখলো ফাঁকা পকেট। পকেটে টাকা না থাকারই কথা। টাকার পরির্বতে তার আছে একবুক যন্ত্রণা। খুব সামন্য কারণে তমা মেজাজি হয়ে উঠছে আজকাল। করোনার পর অফিসের কাজের চাপ অনেক। খুব সীমিত বেতনে চাকরি। কোনো রকমে জীবন যাপন। এমন হাজারো সমস্যার সম্মুখে তার দাঁড়াতে হয় সকাল থেকে সন্ধ্যে। তবে তার স্বপ্ন বাস্তবতা ছাড়িয়ে আকাশ ছুই ছুই। এছাড়া বিভিন্ন উৎস থেকে যে আয় বা ব্যয় হয় তা তমাই দেখাশোনা করে। সব সময়ই চাইত তমাই সব কিছুর দায়িত্ব বুঝে নিতে। এটা তমালের কাণ্ডজ্ঞানহীন দায়িত্বহীনতার পরিচয়। যা তমাকে আরো রাগান্বিত করে তুলে।

তমালে সাথে আজ মোবাইল ফোনটাও নেই যে কাউকে ফোন করে টাকা সংগ্রহ করবে। ইচ্ছে করে নিয়ে আসেনি। এই ফোনটাও তার কাছে বড্ড যন্ত্রণাদায়ক। অহেতুক সন্দেহ বাড়ছে তমার এই ফোন নিয়ে। যদিও সে সন্দেহজনক কোনো কাজ করছে না। খুব স্বাধীন স্বভাবী মানুষ। নিজের বিশ্বাসের উপর স্থির, অটল। হাঁটতে হাঁটতে একটি বনের ধারে চলে আসে যেখানে সে নিয়মিত আসতো অনেক আগে। এখন আর আসতে মন চাইলেও পারে না। জীবন এখন মোবাইল স্ক্রীণে বন্দী। ছুটির দিন মানে Youtube, Facebook আর Instagram। এ জীবন বড় একঘেয়ে। সপ্তাহে একটা দিন যে টিভি দেখবে সে সুযোগ ও নেই তার। তমার সিরিয়াল দেখা বাকি। অনেকটা পথ হেঁটে ক্লান্ত তমাল।

বিয়ের পর পরই তমাল তমাকে এই বনে নিয়ে আসে ঘুরে বেড়াতে। বনটা অনেক নির্জন ছিল। পাখিরা দল বেঁধে পালাক্রমে গান গেয়ে স্বাগত জানাত তাদের। কিন্তু এখন আর বনের চিত্র আগের মতো তেমনটা নেই। স্থানীয় চেয়ারম্যান খুবই প্রভাবশালী দিনের পর দিন বন কেঁটে উজার করছে। চারদিকে জনমানবের আনাগোনা খুবই কম ছিল।এখন এখানে মানুষের কোলাহল। সকালের সোনারোদ এসে পরছিল তমার মুখে, দৃশ্যপট ছিল মোহনীয়।বনের চারপাশটা খালিপায়ে অস্থির মন নিয়ে হাঁটছে তমাল। কখনো গান কখনো কবিতা গেয়ে বিড়বিড় করে সময় পার করছে। তবে তার মন পরে আছে তমার কাছে। ঠিক এই সময়টাতে বিকালের রোদটা খুবই বিরক্ত আর বিষণ্ণ লাগছে তার। যেমনটা আগের দিনগুলোতে লাগেনি। একটা সিগারেট হলে ভালো হতো, পাবে কোথায়? পুরো জগৎ পরির্বতন। দূরের সমান্তরাল রেলপথ। তবে কিছুতেই তাদের ভালবাসা আর আগের মতো সমান্তরাল হচ্ছে না। তমাল সত্যই তমাকে ভালবাসে তবে প্রকাশ করে কম। তমার মন খারাপ হলে কবিতা শুনাবে, একফালি রোদ কিনবে, লাল আভায় ভরে উঠবে পৃথিবী এমন হিসেব নিকাশ করছে তমাল। ভাবতে ভাবতে কোনো এক গাছের নিচে ঘুমিয়ে পড়ল।

হঠাৎ তার মাথায় তমার নরম হাতের আলতো ছোয়া, অনেকটা ভয়ে কেপে উঠার মত। ঘুম ভেংগে খানিকটা মুখ তুলে দেখে যে তমা এখানে।তমা তুমি এখানে! কি করে বুঝলে? তমা বলতে লাগলো আমি জানি তোমার মন খারাপ হলে কী করতে পারো তুমি, কোথায় যেতে পারো, কতটা অস্থির থাকো ইত্যাদি। তমা আরো বলতে লাগলো, সংসারটা কেবল আমার একার নয়, দায়িত্ববান তোমাকেও হতে হবে আমার জন্য, আমাদের জন্য। তমা সাত পাঁচের প্যাঁচ না ভেবে হয়তো এটাই ভাবছে কাছে এলে দূরত্ব বেড়ে যায়, আগলে রাখলে কষ্ট পেতে হয়, আর ভালোবাসলে হেরে যেতে হয়। ‘আজও স্বপ্নে তোমায় খুঁজি, বড় আশায় চোখ বুজি ভাবি নামবে দু’চোখ জুড়ে সেই আদুরে দিন।’

নারীদের বুঝা সত্যিই বড় দায়, যে নারী সারাটা দিন ছিলো রেগে আগুন এখন সে খুব শান্ত শীতল। নারীর মায়ার কাছে, ভালোবাসার কাছে, পরাজিত হয়নি এমন পুরুষ পৃথিবীতে পাওয়া কঠিন।

অবশেষে সন্ধ্যা নেমে এলো, তমার মুখে সূর্যের রক্তিম আলো এসে পড়ল, তমাল চেয়ে রইল অপলক। যেনো পুরনো প্রেম আবার নতুন রুপে নেমে এলো সন্ধ্যার আকাশ থেকে। সত্যই কি প্রেম দেবী ফিরে তাকালো তমাল-তমার দিকে? পুরানো প্রেম ধরা দিলো বুঝি নতুনের আহ্বানে।

লেখক : এনামুল হক ইমন।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে