ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি প্রক্রিয়া অবলম্বন: সাময়িক বহিষ্কার ঢাবির ৬৯ শিক্ষার্থীকে

মঙ্গলবার, আগস্ট ৬, ২০১৯,৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
0
42

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

প্রথম বর্ষ (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি প্রক্রিয়া অবলম্বনের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে ৬৯ জন শিক্ষার্থীকে । আজ মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা পরিষদের সভায় । এ‌ই শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত।  এ তথ্য জানানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মাহমুদ আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাময়িক বহিষ্কৃত ৬৯ জন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হবে এবং জবাব দিতে বলা হবে  ৭ দিনের মধ্যে।   

এর আগে সিআইডি সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ৯১ জনকে শনাক্ত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ওই সব শিক্ষার্থীর বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এপ্রিলে সিআইডিকে তথ্য দেয় । পরে সিআইডি তাদের মধ্যে চারজনের সম্পৃক্ততা পায়নি । অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়েছে এবং সুবিধা নিয়েছে জালিয়াতির মাধ্যমে ।

সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহা. শফিকুল ইসলাম গত ৩০ মে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, দেড় বছরের দীর্ঘ তদন্ত শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুল আলোচিত প্রশ্ন ফাঁস মামলার  প্রস্তুত করা হয়েছে চার্জশিট। এতে  আসামি করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ শিক্ষার্থীসহ মোট ১২৫ জনকে। আরো অনেক তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে। নাম-ঠিকানা সঠিক পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেছিলেন, জালিয়াতির বিষয়ে তিনি বলেন, জালিয়াতি হয় মূলত দুইভাবে । প্রশ্নপত্র ফাঁস করে একটি চক্র প্রেস থেকে। অন্যটি পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে দ্রুত তা সমাধান করে পরীক্ষার্থীরা  সরবরাহ করে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে।

বছর দেড়েক আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তদন্তকারীরা ছয়টি চক্রের সন্ধান পান। ১২৫ জনকে এসব চক্রের শনাক্ত করা হয়, যাদের ৮৭ জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।   সিআইডির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন ওই ১২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) চূড়ান্ত করা হয়।এর আগে ১৫ জনের ভর্তি বাতিল করা হয় একই কারণে। তখন ১৪২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। জালিয়াতি ধরা পড়ার পর গ্রেপ্তার হওয়া রানা, মামুনসহ  কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করেছিল এক দফায় মাত্র ১৫ জনকে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে