বোরো ধানের ভাল দাম পাচ্ছেন কৃষক : কৃষিমন্ত্রী

শুক্রবার, মে ১৫, ২০২০,৪:১৭ অপরাহ্ণ
0
19

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, সারাদেশে এ বছর ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৪৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে হাওরের শতভাগ এবং সারা দেশের শতকরা ৪৮ ভাগ  ধান কর্তন শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকেরা সফলভাবে ধান ঘরে  তোলার পাশাপাশি ধান বিক্রিতে ভাল দাম পাচ্ছেন। মন্ত্রী গতকাল মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে বোরো ধানের দাম এবং ধান কর্তন অগ্রগতি বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে অনলাইনে মতবিনিময় কালে এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরও বলেন, অঞ্চলভেদে ধানের বাজার দরের প্রকারভেদ রয়েছে। তাছাড়া ভেজা ও শুকনা ধান এবং মোটা-চিকন ধানের দামেও পার্থক্য রয়েছে।

 ব্রিফিংকালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নাসিরুজ্জামান, অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ আবদুর রৌফ এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে কৃষি বিভাগের ১৪টি অঞ্চল ও জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাঠানো তথ্যানুসারে সারাদেশের বোরো ধানের দাম এবং ধান কর্তন অগ্রগতি তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। কৃষিমন্ত্রী বলেন, এবার ধানের যা দাম আছে তা মোটামুটি যুক্তিসঙ্গত। ধান-চালের দাম বাড়লে চাষি ও কৃষকেরা খুশি হয়, কিন্তু সীমিত আয়ের মানুষেরা কষ্ট করে। তাঁরা তাঁদের স্বল্প আয় দিয়ে প্রয়োজনীয় খাবার কিনতে পারে না। সেজন্য এ উভয় সংকট এড়াতে আমরা চাই একটা ভারসাম্য বা মাঝামাঝি অবস্থা যাতে ধান-চাল বিক্রি করে চাষি ও কৃষকেরা খুশি হয়, অন্যদিকে সীমিত আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

          কৃষিমন্ত্রী জানান, কুমিল্লা অঞ্চলে ৭৭ ভাগ, খুলনা অঞ্চলে শতকরা ৭৩ ভাগ, যশোর অঞ্চলে শতকরা ৬২ ভাগ   ধান কর্তন শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্যপ্রাপ্তি এবং করোনা সময়কালে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আট লাখ মেট্টিক টন ধান, এক দশমিক পাঁচ লাখ টন আতপ চাল, ১০ লাখ মেট্টিক টন সিদ্ধ চাল, এবং ৭৫ হাজার মেট্টিক টন গমসহ ২২ লাখ ২৫ হাজার মেট্টিক টন খাদ্যশস্য কিনবে সরকার। এ কার্যক্রমকে সুচারুরূপে সম্পাদনের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারের তত্ত্বাবধানে সারাদেশে ধান বিক্রয়কারী কৃষকের তালিকা তৈরি করে তা খাদ্য বিভাগের  নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। কৃষকের ধান বিক্রয়ে যাতে সুবিধা হয় এজন্য ইউনিয়নে পর্যায়ে ২ হাজার ৬৭৩ টি আর্দ্রতামাপক যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, কৃষকদের স্বার্থে সারসহ সেচ কাজে বিদ্যুত বিলের রিবেট বাবদ কৃষিখাতে নয় হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সার্বিক কৃষিখাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মাত্র শতকরা চার টাকা সুদে কৃষকদের ১৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ ঋণ প্রণোদনা প্রদান করা হচ্ছে।

এসময় তিনি করোনার দুর্যোগ মোকাবিলা করে দেশের খাদ্য উৎপাদনের বর্তমান ধারা শুধু অব্যাহত রাখা নয়, তা আরও বৃদ্ধি করে ২০৩০ সালের ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট- এসডিজি অর্জন করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে