বাংলা শুধু রাষ্ট্রভাষা নয়, এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষায় স্বীকৃত

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০,৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ
0
10

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

একুশে মানে রক্তে রঞ্ছিত শহীদ দিবস কিংবা স্বজন হারানো বেদনা সিক্ত দিন নয়। তা আমাদের স্বতন্ত্র জাতি গঠনের বিপ্লবী, দ্রোহ, সংগ্রাম, আত্ম উপলব্দি অনিঃ শেষ প্রত্যয় আর আত্ম উজ্জিবনের এক শ্বাশত চেতনা বহিৃ শিখাও।

পৃথিবীর সৃষ্টির সকল প্রাণী সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার অনুভুতি প্রকাশের মাধ্যম হলো ভাষা, তাই কারো ভাষাকে তুচ্ছ করে কটাক্ষ কিংবা অবহেলা করলে তার মনে ক্ষোভ ও অভিমানের জন্ম নেয়, সেই ক্ষোভ আসতে আসতে বিক্ষোভে পরিণত হয়। বাঙ্গালির ভাষা আন্দোলন সেই বিক্ষোভের প্রতিফলন।

ভাষার এই আন্দোলনের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় ভারত বর্ষকে ব্রিটিশেরা প্রায় ২০০ বছর শাসন করে দ্বি-খন্ডিত করে বৃটেনে পাড়ি জমান। ধর্মের জিকির তোলে, হিন্দু মুসলিম কে পৃথক করার লক্ষ্যে হিন্দু প্রধান কংগ্রেসের নেতা গুজরাটি শিয়া মোহাম্মদ আলীকে মুসলিমলীগে আমদানি করে নীল নকশা অনুযায়ী সাড়া ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা ছড়িয়ে দেয়। এই সাম্প্রায়িক দাঙ্গায় পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির অনিবার্য হয়ে পরে।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট দ্বী-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে বৃহত্তর ভারতবর্ষ বিভক্তি হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্রের দু-ভূখন্ডে পশ্চিম ও পূর্ব পাকিন্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) এ দু- ভূখন্ডের দূরত্ব প্রায় ১২০০ মাইল। ভাষা সংস্কৃতি জীবনাচার ছিল ভিন্ন, লোক সংখ্যা ৬ কোটি ৯০ লক্ষ, তৎমধ্যে শুধু পূর্ব পাকিন্তানের লোকসংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৪০ লক্ষ, ভাষা ছিল বাংলা, পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষা ছিল পাঞ্ছাবি, সিন্ধি, পশতু ও বেলুচ। পাকিস্তানের গন পরিষদের ৭২ জন সদস্যের মধ্যে ৪৪ জন ছিল বাঙালী সেই হিসেবে অনুযায়ী পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা।

উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রভাষার দাবিটি প্রথমে ১৯২১ সালে ভারত-পাকিন্তান বিভক্তির আগে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, বাংলা কে রাষ্ট্রের অন্যভাষার সমপর্যায়ে মর্যাদা দেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে প্রস্তাব করেছিলেন। সেই সময়ে ১৯১৩ সালে বাংলা ভাষায় লিখে যে কবি, নোবেল পুরস্কার পেয়ে বিশ্ব কবি উপাধিতে ভূষিত হযেছিলেন, সেই বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ১৯১৮ সালে ভারতের সাধারণ সভা বিষয়ক সম্মিলন অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ শহীদুলাহ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবী করলে, কিছু বাঙালী নেত্ববৃন্দ তার বিরোধীতা করে হিন্দি ভাষার পক্ষ নেন। কোন একসময় মুসলিম কবি আব্দুল হাকিম। এই সব বাংলা বিদ্ধেষীদের বলেছিলেন,

“যে সবে বঙ্গেঁতে জম্মি হিংসে বঙ্গবানী,
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি”

পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র এক মাস পর ৪৭ সালে ১৫ ই সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ আবুল কাশেমের লিখা প্রথম পুস্তিকা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না, উর্দু, তমদ্দুন মজলিশ ঢাকা থেকে পুস্তিকাটি প্রকাশ করে। ভাষা আন্দোলনে প্রকাশিত প্রথম এই পুস্তিকাটি আন্দোলনকে বেগবান করেছিল। এর পর ৪৮ সনের ২ই মার্চ গণ পরিষদের আইনবিদ প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে বিরোধীদলের নেতা শহীদ দীরেন্দ্র নাথ দত্তের ১৯৩৫ সনের ভারত শাসন বিধির মূল সংশোধনীতে ইংরেজীর সাথে বাংলা সংযোজন প্রস্তাব করলে প্রধান মন্ত্রী লিয়াকত আলী খান এবং পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্য মন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন এর তীব্র বিরোধীতার মুখে প্রস্তাবটি নাকজ হয়ে যায়। এর প্রতিবাদে ১৯৪৮ সনের ১১ই মার্চ ঢাকায় প্রথম “রাষ্ট্রভাষা দিবস” পালিত হয়। দিবসটি পালনকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ১৯৪৮ সনের ২১ ই মার্চ পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ও ৫২ সনের ২৬ জানুয়ারী পূর্ব পাকিস্তানের নতুন প্রধান মন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভায় ঘোষনা দেন “উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা” তৎকালীন মুসলিম লীগের মুখপাত্র দৈনিক সংবাদ, মর্নিংনিউজ, আজাদ পত্রিকায় হেড লাইন করে এই ঘোষনা প্রচার করা হয়। এই ঘোষনার প্রতিবাদ সারাদেশে মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে রাজ পথে নেমে আসে। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বক্তব্য রাখেন মেধাবী ছাত্র হাবিবুর রহমান শেলী (পরে প্রধান বিচার প্রতি ও ৯৬ সালে প্রধান উপদেষ্ঠা)। এর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম শহরে আন্দোলনে বাধা এলে তা গ্রামে গঞ্ছে ছড়িয়ে পড়ে, ১৯৫০ সালে এই আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিতে রফি দ্দন চৌধুরীকে সভাপতি, মাহবুবুল আলম চৌধুরীকে সম্পাদক করে সর্বদলীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কমিটি গঠন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কারাগারে বন্দী আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান কারাগার থেকে একটি চিঠি পাঠান আওয়ামীলীগের সভাপতি ভাসানীর কাছে চিঠিতে অনুরোধ জানান যাতে সব দলকে নিয়ে বসে কমিটি গঠন করে “২১ শে ফ্রেব্রুয়ারী ভাষা দিবস” পালনে ঘোষনা দেন, সেই অনুযায়ী ১৯৫২ সনের ৩১ শে জানুযারী ঢাকার বার লাইব্রেরী সর্বদলীয় একটি সম্মেলন আহ্বান করেন সফল সম্মেলনে আওয়ামীলীগের সভাপতি মাওলানা ভাসানীকে “সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ” এর চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে কেন্দ্রিয় কমিটি গঠন করা হয়। এই দিকে ১৯৫২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লাস্থ কার্যালয়ে সংগঠনের জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক এম এ আজিজ আহবায়ক ও চৌধুরী হারুনুর রশীদ, কৃষ্ণগোপাল সেন, শ্রমিক নেতা জহুর আহম্মদ চৌধুরী, মাহবুবুল আলম চৌধুরী, ডা. সৈয়দুর রহমান চৌধুরী ও আব্দুল্লাহ আল হারুন প্রমূখকে যুগ্ম আহবায়ক করে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে সাড়াদেশে আন্দোলন সোচ্চার হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্র-জনতা। এ দিকে ১৯৫২ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহিউদ্দিন আহম্মেদ অনশন ধর্মঘট শুরু করে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সর্বাত্ত্বক হরতালের ডাকদেয় নুরুল আমীন দির্দেশে চিফ সেক্রেটারি আজিজ আহম্মেদ ২০ শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ঘোষনা মাইকে প্রচার করে সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। ঐ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফজলুল হক হলে সাহাবু্িদ্দন (পরে প্রধান বিচার পতি ও রাষ্ট্রপতি) এর সভাপতিত্বে …. আ ন ম গাজিউল হক হাবিবুর রহমান শেলী, এম আর আক্তার মুকুল, ঝিল্লুর রহমান (রাষ্ট্রপতি), আব্দুল মোমেন আবুল হাসিম, শামসুল আলম, আনোয়ারুল হক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি জরুরী গোপন বৈঠক করেন এবং পুনরায় রাত ১২ টায় মিলিত হয়ে ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রস্তুতি নেন। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট পালন ও ১৪৪ ধারার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমতলায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভা শেষে ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙার জন্য রাজপথে নেমে পড়ে, ছাত্র জনতার সাথে পুলিশ ইপি আর, সেনা বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।

সেই রক্ত ক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে নিহত হন, আব্দুল জব্বার, রফিক উদ্দীন আহম্মেদ, আব্দুস সালাম, আবুল বরকত, মুহাম্মদ সানাহ উদ্দীন, সফিউর রহমান, আব্দুল আওয়াল, মহিউদ্দীন, আহমেদ প্রায়নিক ও ওয়াহাব প্রখুম গুলিতে নিহত হন। দুই শিশু কিশোর, বৃদ্দাসহ ১৪৯ জন মারাত্মক আহত হন। ঢাকায় ছাত্রদের মিছিলে গুলি বর্ষন ও হত্যা কান্ডের খবর দুপুর আড়াই টায় চট্টগ্রামে এসেপৌছালে তৎ ক্ষনিক মিছিল এর পর মিছিলে পুরলো ওয়াজি উল্লাহ ইনষ্টিউট সামনে এসে জহুর আহমেদ চৌধুরী, এম.এ. আজিজ,আবুল ফজল চৌধুরী ও হারুনুর রশিদের নেততৃত্বে লালদিঘী ময়দানে এসে পূর্বে নিধারিত সভায় যোগদেয়, জনসভায় নেত্ববৃন্ধ ২২ শে ফেব্রুয়ারি হরতাল ঘোষনা করে প্রায় ৫ হাজার লোকে বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণকরে, ছাত্র ফেডারেশন নেতা ননীধর ঢাকায় গুলি বর্ষন ও হত্যাকান্ডের খবর সংগ্রাম পরিষদ নেতা রাউজানের কৃতি সন্তান, কবি, সাহিত্যিক, অসুস্থ মাহাবুব আলম চৌধুরীকে জানালে উনি তাৎ ক্ষনিক ভাবে লিখেছিলেন ভাষা আন্দোলনের আলোড়ন সৃষ্টি কারী প্রথম কবিতা –
“কাঁদতে আসিনি ফাসীঁর দাবী নিয়ে এসেছি”
এই বিখ্যাত কবিতাটি সেদিন দৈনিক আজদী প্রত্রিকার প্রতিষ্টাতা কোহিনুর ইলেকট্রিক প্রেসের মালিক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক তার প্রেসে রাতারাতি ছাপিয়ে প্রকাশ করলে সরকার পুস্তিকাটি নিষিদ্ধ করে কোহিনুর প্রেস বন্ধ করে প্রেসের ম্যানাজার কবির উদ্দীন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ৬ বছর জেল প্রদান করে।

এরি মধ্যে বৃটিশ, ভারত, পাকিস্তান এর ত্রি-কাল পরিক্রমায় শাসক গোষ্টি বাঙালীদের অধিকার হরন কারী, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার আশ্রয় উচকানির বিরুদ্দে বাঙালী জাতীয়তাবাদের চেতনায় সাংবাদিক সাহিত্যিক আব্দুল গাফফার চৌধুরী লিখেছেন একুশের অমর গান-

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি।

আব্দুল গাফার চৌধুরীর এই গান ও মাহাবুবউল আলম চৌধুরী বিখ্যাত কবিতাটি গণ মানুষকে সংগ্রামী চেতনায় উজ্জিবিত করে রাজ পথে ভাষার আন্দোলনকে বেগবান করেছিলো। ঢাকায় হত্যা কান্ডের প্রতিবাদে ২২ শে ফেব্রুয়ারী হরতালে লালদীঘিতে জনসভা হয় এবং ঐ জনসভায় লালদীঘির খুরশিদ মহলের সামনে প্রথম শহীদ মিনার নির্মান করা হয়। ২৩ থেকে ২৯ শে ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের স্কুল/কলেজে ক্লাস বর্জন ধর্মঘট, হরতাল পালন ও সভা সমাবেশ করে সরকারকে হত্যাকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানায় সর্বদলিয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি ১৯৫২ সালের ২৫ শে মার্চ সারা দেশে শহীদ দিবস পালনে ঘোষনা দিলে দিবসটি ঢাকায় তেমন সফল নাহলেও দেশের সবচেয়ে বড় জনসভাটি হয় চট্টগ্রামে। সেই জনসভায় আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজাফর আহম্মেদ এর সভাপতিত্বে সভায় প্রায় ৫০,০০০ হাজার লোকের সমাগম হয়েছিল সভায় বক্তব্য রাকেন নবী চৌধুরী, জহুর আহম্মেদ চৌধুরী, এ কে খান।

রাষ্ট্রভাষা বাংলাদাবীতে রাজ পাথের আন্দোলন সংগ্রামও শহীদের রক্তও প্রানের বিনিময়ে অবশেষে পাকিস্থান সরকার বাধ্য হয়ে ১৯৫৬ সালে ২৯ শে জানুয়ারি পাকিস্তান ইসলামিক প্রজাত্ত্বন্ত্রে সংবিধানে বাংলাকে প্রথম রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতিদেয় এর ১৯৬২ সালে ১ এলা মার্চ ফিল মার্শাল আইয়ুব খান এর সংবিধানে এবং ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংবিধানেও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে মর্যাদা দেয়। এর পর বাংলাকে শুধু রাষ্ট্রভাষা নয় আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষার জন্য ১৯৯৮ সালে ২৯ মার্চ “মাদার ল্যাঙগুয়েজ লাভাস অফ দ্যা ওয়াল্ড ” নামে কানাডার সংগঠনের দুই সদস্য চট্টগ্রাম রাউজানের সন্তান সালাম ও কুমিল্লার রফিককুল দুই জন জাতি সংঘের মহাসচিবকে বাংলাকে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের আবেদন করে বাংলা দেশে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৯ সালে ৯ই সেপ্টেম্বর জাতি সংঘের মহাসচিব এই আবেদনকে প্রস্তাবনায় রূপান্তর করলে তা ২০০৪ সালে ৪ টা ফেব্রুয়ারি জাতির সংঘের মহাসচিব কোই চিয়ো মাতসুয়ারা বিশ্বের ১৮৮ দেশকে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের নির্দেশ দেন।

বিশ্বের প্রায় (৬,০০০) ছয় হাজার ভাষার মধ্যে প্রথম দশটি ব্যবহিৃত ভাষার একটি হলো বাংলা ভাষা। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য চট্টগামের নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে রাজ পথে যে আন্দোলন, সংগ্রাম ও বিপ্লব হয়েছিল, সে ভাষা আন্দোলনে চট্টগ্রামের ভুমিকা ইতিহাসে স্বরনীয় হয়ে থাকবে, এই গোরবের ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতে দিতে হয়েছে অনেক প্রাণ, আন্দোলন, সংগ্রামে রক্তে রঞ্জিত হয়েছে রাজপথ। যাদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে মাতৃভাষা বাংলা তাদের জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী।
লেখক : আসহব রসূল চৌধুরী জাহেদ

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে