বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের শারীরিক সুস্থতা বিষয়ক অনলাইন কর্মসূচি

শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২০,৫:০৬ অপরাহ্ণ
0
100

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

করোনাকালীন বর্তমান পরিস্থিতিতে আজ ২২ আগস্ট (শনিবার), বেলা-৩টা ৩০মিনিটে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঢাকা মহানগর শাখার স্বাস্থ্য ও সমাজ কল্যাণ উপপরিষদ এর উদ্যোগে আয়োজিত “কোভিড-১৯:করোনাকালীন শারীরিক সুস্থতা রক্ষায় করণীয়’শীর্ষক” এক অন-লাইন ভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি মাহতাব নেসা।

ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, করোনাকালীন পরিস্থিতিতে সুস্থ থাকা বড় চ্যালেঞ্জ। আজকের এই কর্মসূচি টি অত্যন্ত কার্যকরী ও সময়োপযোগী,বিশেষ করে করোনাকালীন এই পরিস্থিতিতে। দেশের নারী-পুরুষ ও শিশুদের অনাকাঙিক্ষত মৃত্যুতে আমরা হতবাক ও শোকাহত।করোনা ভাইরাস এই পরিস্থিতিতে শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ থাকার উপায় এখন গুরুত্বপূর্ণ ।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ একটি গণনারী সংগঠন। এই সংগঠনের নারী পুরুষের সমতাপূর্ন ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠাসহ একটি গণতান্ত্রিক মানবিক ধর্মনিরপক্ষ বৈষম্যেহীন পরিবার,সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিয়ে ১৯৭০ সালের ৪ এপ্রিল থেকে স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে ঢাকা মহানগর শাখার স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ উপপরিষদের মাধ্যমে করোনাকালীন সময়ে সুস্থ থাকার করণীয় বিষয়ে এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের কাছে বার্তা পৌছে দিতে চাই। বাংলাদেশের বৃহত্তম জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত নগরায়ন,সুপ্রেয় পানির অভাব, দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্যতা নানাবিধ সমস্যা মানুষের জীবনকে করোনা পূর্ববর্তী, বর্তমান সময়ে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমান সময়ে জনগনের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় ক্ষেত্রে তাহলে বলতে হয় রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য খাতে,বাজেট বরাদ্দ পাশাপাশি সুষ্ঠু বন্টন ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা। স্বাস্থ্য সেবার মাধ্যমে যেন কেউ বানিজ্য করার মতো কাজ বা কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মতো ঘটনা না ঘটে। করোনাকালীন সময়ে নারীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য সেবা চালু করা এবং মাতৃকালীন সময়ে নারীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা রাষ্ট্র ও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জন্য সুচিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।শুধু করোনা ভাইরাস ক্ষেত্রে নয় দেশের যেকোনো দুর্যোগকালীন সময়ে দেশের সকল নাগরিকের জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের জনগণের জন্য কাজ করতে হবে,জনগণই দেশের মেরুদন্ড।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বনামধন্য চিকিৎসক ডাঃ নুসরাত আজরীন মহসিন। তিনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ,ঢাকা মহানগরের, আওতাভুক্ত পাড়া কমিটি থেকে করোনাকালীন শারীরিক সুস্থতা রক্ষায় করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের আলোকে পরামর্শ ও করণীয় বিষয়ে নির্দশনা প্রদান করেন।

তিনি তাঁর সাবলীল বক্তব্যে আন্তরিকতার সঙ্গে সকলের জন্য পরামর্শ প্রদান করে বলেন যে, কোভিড-১৯:করোনাকালীন শারীরিক সুস্থতা রক্ষায় করণীয়’ বিষয়ে কিছু প্রাথমিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে দু’টি করণীয়ে ওপর জোর দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একটি হলো নিয়মিত অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া। দ্বিতীয়টি হলো সামাজিক মেলামেশা কমিয়ে দেয়া। এর একটা উপায় হলো বাড়িতে থাকা, যতটা সম্ভব বাইরে না বেরুনো।
সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে হাত ধোয়ার বিষয়ে অবহিত করেন এবং মাস্ক ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতিগুলো, কৌশল এবং কিভাবে জীবাণুমুক্ত করে মাস্ক ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত অবহিত করেন।

নন-মেডিকেল কাপড়ের মাস্ক কিভাবে নিরাপদ করে পরিধান করবেন তা সঠিক পদ্ধতি গুলো নিয়ে পরামর্শ প্রদান করেন। নাকের নিচে মাস্ক পরিধান করা উচিত নয়,মাস্ক পড়া অবস্থায় হাত দেওয়া উচিত নয়। মাস্ক পরিধানের আগে অবশ্যই হাত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা উচিত। এমন মাস্ক পড়াউচিত নয় যে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। 

হাঁচি-কাশি শিষ্টাচার মেনে চলা কারণ হলো, লোকের হাঁচি-কাশি থেকে বাতাসের মাধ্যমে করোনাভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে আপনার দেহে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি অনেকখানি কমে যায় – যদি আপনি কমপক্ষে একটা নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকতে পারেন।
তাই সবাই মেনে চলুন হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার।

কোভিড ১৯- প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে ঘরে সক্রিয় থাকার কিছু কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করেন।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠা নামা করা। কিছু স্ট্রেটিং ব্যায়াম করুন। অনলাইনে শারীরিক ভাবে সক্রিয় থাকার আরও ধারণা খোঁজ করুন। নভেল করোনা ভাইরাস এর চিকিৎসা বা প্রতিরোধে কার্যকরী কোন ওষধ আছে কি না ? 

তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত নভেল করোনা ভাইরাস এর চিকিৎসা বা প্রতিরোধে কার্যকরী কোনও ওষধ নেই। কিন্তু আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গ উপশমের জন্য চিকিৎসা এবং গুরুতর অসুস্থদের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা পরীক্ষার্থীর বা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এর মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগী প্রতিষ্ঠান সমূহে এই গবেষণা ত্বরান্বিত করার জন্য সহযোগিতা করছে ।

আমাদের সবাইকে সকলের শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা উচিত।নিজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সকলের শারীরিক সুস্থতা রক্ষায় করণীয় বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেন উপস্হিত সবাইকে উজ্জীবিত করেছেন।

অনুষ্ঠানে প্রশ্ন উত্থাপন করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ,ঢাকা মহানগর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু ধর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ,ঢাকা মহানগর শাখার স্বাস্থ্য ও সমাজ কল্যাণ উপ-পরিষদের,সম্পাদক, শাহেদা আক্তার পলি।

করোনাকালীন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত কার্যকরী ও সময়োপযোগী এই অনুষ্ঠানে অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, সকল সদস্য ও ঢাকা মহানগর শাখার সংগঠক,সদস্য,ঢাকা মহানগর শাখার সকল পাড়া কমিটির সদস্যবৃন্দ,প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। প্রায় ১ ঘন্টা ২৫ মিনিটব্যাপী এ অনুষ্ঠানটি লাইভ ছিল। সভাপতি মাহতাব নেসার সমাপ্তি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঢাকা মহানগর ও পাড়া কমিটির প্রায় ৪৯৪ জন সংগঠক- সদস্যরা অন-লাইনে লাইভ চলাকালীন সময়ে যুক্ত হয়েছিলেন। তারা করোনাকালীন শারীরিক সুস্থতা রক্ষায় করণীয় বিষয়ে সম্পর্কে সচেতনতামূলক নির্দশনা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন বলে, ঢাকা মহানগর কমিটিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে