বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২১,১২:১৩ অপরাহ্ণ
0
6

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘কোস্ট গার্ড দিবস, ২০২১’ উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

          “বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘কোস্ট গার্ড দিবস, ২০২১’ উদ্‌যাপন উপলক্ষে আমি এ বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।

          সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ সম্মুখসমরে পাকহানাদার-বাহিনীকে পরাস্ত করতে থাকে। জাতির পিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনী সংগঠিত হয়। যুদ্ধকালে এ বাহিনীর সদস্যগণ এমনকি নিজেরা নৌকা পর্যন্ত ক্রয় করে শত্রুর মোকাবিলা করেছেন। জাতির পিতা ১৯৭৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘The Territorial Waters and Maritime Zones Act, 1974’ প্রণয়ন করেন। ফলে, স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে এ বাহিনীর তত্ত্বাবধানে দেশের নদ-নদী ও সমুদ্রের জলরাশিতে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার হয়।   

          বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতির পিতার দর্শনের বাস্তবায়নকারী দল হিসেবে, সময়ের পরিক্রমায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডবৃদ্ধি এবং উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করে একটি বিশেষায়িত বাহিনীগঠনের লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিল’ উত্থাপন করে। উক্ত প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব-রক্ষাকারী একটি বিকল্পবাহিনী হিসেবে ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড’ প্রতিষ্ঠিত হলেও মূলত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে সরকারগঠনের পর এ সংস্থাটি কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৯৬ সালে আমরা কোস্টগার্ডকে ২টি টহল-জাহাজ এবং ২টি রিলিফ-বোট হস্তান্তর করি। ২০০১ সালে ‘বিসিজিএস রূপসী বাংলা’ নামে একটি ইনসোর প্যাট্রোল ভেসেলকে কোস্ট গার্ডে কমিশন করি। তাছাড়া সংস্থাটির অবকাঠামো-স্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রদান করি।

          ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার-গঠনের পর আমরা এ বিশেষায়িত বাহিনীর সক্ষমতাবৃদ্ধির লক্ষ্যে কোস্টগার্ডকে শক্তিশালীকরণ, প্রশিক্ষণ ঘাঁটিনির্মাণ, সমুদ্রগামী জলযানসংগ্রহ/নির্মাণ, অবকাঠামো-নির্মাণ/বর্ধিতকরণে প্রকল্পগ্রহণসহ এর সাংগঠনিক কাঠামোতে জনবলবৃদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করি। গত ১২ বছরে আমরা এ বাহিনীতে বেশকিছু বিশেষায়িত হারবার প্যাট্রোল বোট, হাইস্পিড বোট, ইনসোর প্যাট্রোল ভেসেল, ফাস্ট প্যাট্রোল ভেসেল, ফ্লোটিং ক্রেন, ট্যাগসহ অফসোর প্যাট্রোল ভেসেল সংযোজন করেছি। আমাদের সরকার কোস্টগার্ড সদস্যদের অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কার প্রদান করে। আমরা এ বাহিনীকে অত্যাধুনিক ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বিদ্যমান আইনকে হালনাগাদ করে ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আইন, ২০১৬’ প্রণয়ন করি। শুধু তাই নয়, আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র ও সংস্থার সহযোগিতায় আমরা এ বাহিনীতে ২৫টি মেটাল শার্ক বোট, ৬টি ডিফেন্ডার বোট এবং ১০টি ১০ মিটার রেসকিউ বোট সংযোজন করেছি। আমরা অচিরেই এ সহযোগিতার আওতায় ৪টি পোর্টেবল পল্যুশন কন্ট্রোল ইকুইপমেন্টসহ ২০ মিটার রেসকিউ বোট এবং আরো ১০টি ১০ মিটার রেসকিউ বোট সংযোজন করবো। অদূরভবিষ্যতে আমরা এ বাহিনীতে সকল আবহাওয়ায় চলাচল উপযোগী অত্যাধুনিক অফসোর প্যাট্রল ভেসেল ও হোভারক্রাফট সংযোজন করবো।

          বাংলাদেশের সুবিশাল সমুদ্র এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশের সুনীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করতে কোস্ট গার্ড অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ বাহিনী সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে বনদস্যু-ডাকাত-চোরাকারবারী আটক, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং অবৈধভাবে সমুদ্রপথে বিদেশগমনরোধ, অবৈধ অস্ত্র/গোলাবারুদ উদ্ধার, সমুদ্রে বিপন্ন জেলেদের উদ্ধারসহ মৎস্যসম্পদ-রক্ষা ও জাটকানিধনরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে আইন-শৃঙ্খলারক্ষায় ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এ বাহিনীর গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

          দেশের সমুদ্র এলাকায় নিরাপত্তা প্রদানসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর প্রতিটি সদস্যকে দেশপ্রেম, আন্তরিকতা, সাহসিকতা ও অবিচল আস্থার সাথে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বপালন করার জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি। আমি আশা করি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দৃপ্ত পদক্ষেপে অগ্রসর হয়ে আমাদের সরকারের ‘রূপকল্প ২০৪১’ ও ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

          আমি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করছি। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর ২৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও কোস্ট গার্ড দিবস-২০২১ সফল হোক।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

 বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে