পিপি হায়দার হত্যা মামলায় আসামীদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০,১১:১৬ অপরাহ্ণ
0
15

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

বাধন রায়, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠির আলোচিত জেএমবির হাতে নিহত পিপি এ্যাড হায়দার হোসাইন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ জঙ্গির সাজা বহাল রেখেছে হাইকোর্ট।

দুজন বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার ও শাহেদ নুরুউদ্দিন সমন্বয় গঠিতি হাইকোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্সের মৃত্যুদন্ড সাজা বহাল নেখেছেন। সাজা প্রদানকারী ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ডেথ রেফারেন্সর আদেশের কপি প্রেরণ করা হয়েছে।

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত ৫ জঙ্গির মধ্যে মোঃ মুরাদ হোসেন, আবু শাহাদাত মোঃ তানভীর ওরফে মেহেদি, ওরফে আবির, ওরফে মুশকিন ও আমিনুল  ওরফে আমির হোসেন জেল হাজতে রয়েছে। অপর দুজন মোঃ বেল্লাল হোসেন ও ছগির হোসেন ভুইয়া ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। মামলার বিবরণে প্রকাশ ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ৮টায় ঝালকাঠির গোরস্থান মসজিদের গেটের সামনে বসেই পিপি এ্যাড হায়দার হোসাইনকে জেএমবির এই জঙ্গিরা কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। হায়দার হোসাইন গুলিবিদ্ব হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরন করে। তিনি প্রতিদিনের ন্যায় বাসার সামনে এই মসজিদে নামাজ পড়তে আসতেন। ৫জঙ্গি ঘটনা ঘটিয়ে আলাদা হয়ে পালিয়ে যায়।

পরবর্তিতে র‍্যাব এই ৩জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করে। ঝালকাঠিতে দুজন বিচারক হত্যর মামলাটি বিচারকলীন তিনি পিপি এ্যাড হায়দার হোসাইন তৎকালিন পিপি হিসাবে মামলাটি সরকারের পক্ষে পরিচালনা করেন। বিচারক হত্যা মামলায় জেএমবির শীর্ষ নেতা সহ ৬ জনের মৃত্যুদন্ড হয়। এ্যাড হায়দার হোসাইন জেলা পর্যায়ের জামাত নেতা ছিলেন এবং এই মামলা পরিচালনা করায় জেএমবির তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। হত্যা করে তাদের পরিকল্পনা এই ৫ জঙ্গি বাস্তবায়ন করে। এর পর্বে তাকে জেএমবি হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।  পিপি এ্যাড হায়দার হোসাই হত্যা মামলায় তার ছেলে তারিক ইবনে হায়দার বাদি হয়ে মামলা করে। মামলায় ৫ জন কর্মকর্তা তদন্ত করেন এবং সর্বশেষ সিআইডির এস আই মোসাররফ হোসেন ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি ৫ জনকে অভিযুক্ত কারে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বরিশালের দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর আসামিদের বিরদ্ধে চার্জ গঠন করে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রাইবুনাল বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল আদালত থেকে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার শেষ করার জন্য প্রেরন করা হয়। এই আদালতের তৎকালিন বিচারক মোঃ আব্দুল হালিম ২০১৫ সালের ১১ ফ্রেব্রুয়ারি ৫৬ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে ৫ জনকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করে।

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত জেএমবির জঙ্গি মোঃ মুরাদ হোসেন খুলনা সহরের তুতপারা এলাকার মোশারফ হোসেনের পুত্র। আবু শাহাদাত তানভীর বরগুনা জেলার বান্দরগছিয়া গ্রামের আব্দুর রহিম আকনের ও আমিনুল ওরফে আমির হোসেন ঢাকার উত্তরখানের চামুরখান এলাকার মোঃ বশিরউদ্দিনের পুত্র। পলাতক ছোগির হোসেন বরগুনার উজ্ন পুর গ্রামের মৃতঃ সামসুদ্দিন ভুইয়া ও মোঃ বেল্লাল হোসেন  বরগুনার তালতলি উপজেলার ছোট বগি এলাকার সফিজউদ্দিন হাওলাদারের পুত্র। 

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে