পার্বত্য অঞ্চলে মৎস্য উৎপাদনে আমূল পরিবর্তন আনা হবে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

রবিবার, নভেম্বর ১, ২০২০,৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
0
4

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

পার্বত্য অঞ্চলে মৎস্য উৎপাদনে আমূল পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

        গতকাল রাঙামাটিতে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)-এর কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রে কাপ্তাই হ্রদে বিএফডিসি’র কার্যক্রম অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান। বিএফডিসি’র চেয়ারম্যান কাজী হাসান আহমেদের সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

          সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মৎস্য উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এ পরিবর্তন শুধু দেশেই নয়, বহির্বিশ্বেও আমাদের সম্মান বৃদ্ধি করেছে। মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে, ইলিশ উৎপাদনে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। তিনি মনে করেন দেশের বদ্ধ জলাশয় থেকে শুরু করে ছোট খাল, হাওর-বাঁওড়, লেক, বিল সর্বত্রই মাছের চাষ হবে।’

          মন্ত্রী আরো বলেন, ‘মৎস্য ব্যবস্থাপনাকে কীভাবে আরো উন্নত করা যায় সেটা সরেজমিনে দেখার জন্য আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছি। কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ বন্ধকালে অতীতে কখনো মৎস্যজীবীদের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হতো না। এবছর লেকে মৎস্য আহরণ বন্ধকালে মৎস্যজীবীদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে আগামীতেও এটা অব্যাহত থাকবে।’

          এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কাপ্তাই হ্রদে অতীতের চেয়ে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ১২ হাজার ৬ শত মেট্রিক টনের ঊর্ধ্বে এবার উৎপাদন হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন ১৫ হাজার মেট্রিক টনের ঊর্ধ্বে চলে যাবে। এতে এ অঞ্চলের মানুষ যেমন মাছ পাবে, তাদের পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূর্ণ হবে, এ মাছ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে। আমাদের এখনকার লক্ষ্য কাপ্তাই হ্রদের ব্যবস্থাপনা। যাতে হ্রদের পরিবেশ দূষণ না হয়, অবৈধভাবে এখান থেকে মা মাছ বা পোনা মাছ যাতে কেউ ধরতে না পারে। আমরা পরিকল্পিতভাবে কাপ্তাই হ্রদকে আরো উন্নত ও সমৃদ্ধ করে এর ঐতিহ্য বাড়াবো। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করবো।’

          সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘যে জাল দিয়ে মাছের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ছোট মাছ ধরা পড়ে, মাছের পোনা নষ্ট হয়-এ জাতীয় কোনো জাল দিয়ে মাছ ধরতে দেয়া হবে না। যারা অবৈধ জাল ব্যবহার করবে তাদেরকে আইনের আওতায় আসতে হবে। মোবাইল কোর্টে তাদের সর্বনিম্ন সাজা হবে এক বছরের কারাদণ্ড। এমনকি জরিমানাও হতে পারে। এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান খুবই কঠোর।’

          পরে কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এরপর রাঙামাটি জেলায় মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের রাঙামাটি নদী উপকেন্দ্রের গবেষণা অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় যোগ দেন তিনি।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে