নাগেশ্বরীতে ১৮ দিন পর অধ্যাপক আব্দুর রশিদের লাশ কবর থেকে উত্তোলন!

বুধবার, জুন ১৭, ২০২০,৯:৪১ পূর্বাহ্ণ
0
4

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম: অবশেষে সকল বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে, আইনি সকল প্রসিডিওর মেইনটেইন করে ১৬ (জুন) দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে উত্তোলন করা হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নাগেশ্বরী সরকারি কলেজের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক আব্দুর রশিদের লাশ। আব্দুর রশীদ কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার বালাটারী গ্রামের মৃত আনছার আলীর পুত্র। কুড়িগ্রাম জেলার সদ্য সরকারি  হওয়া কলেজগুলোর  শিক্ষক সমিতির সভাপতি তিনি।  

গত ২৯ মে আব্দুর  রশিদ তার ২য় স্ত্রী মোছাঃ শামসুন্নাহার (পারভীন) এর সংগে দেখা করার জন্যে নাগেশ্বরীর নিজ বাসা থেকে আনুমানিক  সকাল ১০টার দিকে ফুলবাড়ী যান। পারভীন ফুলবাড়ী উপজেলার ব্যাক মোড়ে তপন মিয়ার বাসায় ভাড়া থাকতো।

প্রত্যক্ষদর্শী ভাড়াটিয়া মানিক মিয়া ও তার সেলিকা রীমা শারমীন সূত্রে জানা যায়, বাসায় পারভীন ও রশিদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে  কথা কাটাকাটি ও পরে হাতাতাতির সৃষ্টি হয়, রশীদের শরীরে কিল ঘুষি মারতে থাকেন পারভীন। এক পর্যায়ে রশীদের অন্ডকোষে আঘাত করলে রশিদ ফ্লোরে পরে যান। মানিক ও তার সেলিকা ততক্ষনাৎ মাথায় পানি ঢালেন। শারিরীক অবস্থা একটু উন্নত হলে তিনি নাগেশ্বরী হাসপাতালে যাওয়ার জন্যে বাসা থেকে বের হয়ে অটো রিক্সা যোগে ফুলবাড়ীর মসজীদ মোড় ও চান্দের বাজারের মাঝামাঝি  বিদ্যাবাগিস নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে অটো থেকে পরে যান। স্থানীয় মানুষ, অটোচালক ও রশিদের প্রাক্তন ছাত্র আলিমুল ইসলাম এর সহোযোগিতায় ফুলবাড়ী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষনা করেন।

সেই সময় সবার ধারণা ছিল উনি স্ট্রক করে মারা গেছেন। সেই কারণে তার লাশ নিজ বাসায় নিয়ে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করেন । কিন্তু লাশ দাফনের পরের দিন থেকে নিখুঁতভাবে ব্যক্তিগত তদন্তে নামেন মৃত রশিদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রথম স্ত্রী মোছাঃ নুর হাসনা আক্তার জোসনার বড় ভাই মোঃ শফিকুল ইসলাম লিপটন।

লিপটন বলেন, সকল তথ্য উদ্ঘাটনের পরে  ফুলবাড়ী থানা পুলিশের কাছে একাধিকবার মামলা করার জন্যে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ  মামলা না নিয়ে খারাপ আচরণ করেন। পরবর্তী সময়ে আদালতের সরনাপন্ন হই। আদালতের আদেশেই আজকে ১৬/০৬/২০২০ ইং তারিখে ময়নাতদন্তের জন্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর উপস্থিতিতে  রশিদের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।    

জানা যায়, পারভীনের বাড়ী নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গন্জ ইউনিয়নের রতনপুরে। আব্দুর রশিদ তার ২য় স্বামী। পারভীনের পূর্ব স্বামীও সন্দেহজনক ভাবে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে