ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে দুশ্চরিত্রা অপবাদ, স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করায় মহিলা পরিষদের ক্ষোভ

বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২০,৯:১০ অপরাহ্ণ
0
29

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এক বিবৃতি রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের শেখপাড়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রাম্য বেআইনী সালিশে দুশ্চরিত্রা অপবাদ দিয়ে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা ও স্বামী ও ধর্ষককে জরিমানার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ।

বিবৃতিতে কারা বলেন, অদ্য ০৪.১১.২০২০ ইং তারিখ বিভিন্ন দৈনিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় যে- গত ০২.১১.২০২০ তারিখ সোমবার রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের শেখপাড়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রাম্য সালিশে অভিযুক্ত ধর্ষককে এক লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা, ধর্ষণের শিকার নারীকে তার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা এবং তালাক পাওয়া স্বামীকেও ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায় যে, উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে ৭ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়ে এবং তার স্বামী জীবিকার তাগিদে ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। এরই সুযোগে পাশের বাড়ির সুমন মিয়া দীর্ঘদিন থেকে ওই গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত ০১.১১.২০২০ তারিখ রবিবার রাতে গৃহবধূর শয়ন ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এসময় গৃহবধূর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে সুমন মিয়াকে হাতেনাতে আটক করে। এ ঘটনায় পরের দিন সোমবার বিকেলে স্থানীয় মাতব্বররা গ্রাম্য শালিসের আয়োজন করে সালিশি বৈঠকে ১১ সদস্যের বোর্ড গঠন করে সালিশে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য ফজলুল হকে এবং প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত মাতব্বর আতোয়ার রহমান। শালিসী বোর্ডে ধর্ষক সুমন মিয়াকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে তার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয়। আর জীবিকার তাগিদে বাড়ির বাইরে থাকা ওই নারীর স্বামীকেও তার স্ত্রীর প্রতি নজর না রাখতে পারার অভিযোগে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ওই দিন গভীর রাতেই সালিশি বোর্ডের সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঘটনার শিকার গৃহবধূকে বেআইনী সালিশে দুশ্চরিত্রা অপবাদ দিয়ে স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করা ও স্বামী ও ধর্ষককে জড়িমানা এবং নানাভাবে হয়রানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ঘটনার শিকার গৃহবধূর ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দাবি জানাচ্ছে। একইসাথে বেআইনী সালিশ বন্ধে মহামান্য সুপ্রিমকোর্টের রায় বাস্তবায়ন বিষয়ে এবং এ ধরণের ঘটনা প্রতিরোধে সরকার, প্রশাসনের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সেইসাথে সারাদেশে সংঘটিত নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে