দেশে আরো শস্যগুদাম নির্মাণ করা হবে: কৃষিমন্ত্রী

শুক্রবার, নভেম্বর ৬, ২০২০,১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
0
11

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বাংলাদেশে শস্যগুদাম কার্যক্রমটি একটি জনপ্রিয় ও সফল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করছে। এ সাফল্যকে সামনে রেখে খাদ্য নিরাপত্তা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সারাদেশে আরো শস্যগুদাম নির্মাণ করা হবে। একই সাথে কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণও সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

          কৃষিমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এলজিইডির ৬৯টি শস্যগুদামের মালিকানা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে হস্তান্তর ও ১০৬টি উপজেলায় কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের মধ্যে সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো: তাজুল ইসলাম।

          সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: আব্দুর রশীদ খান। এ সময় দেশের ৮টি বিভাগের ৪৭টি জেলার ১০৬টি উপজেলায় কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার বিভাগের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে স্বাক্ষর করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম।

          কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের শস্যগুদাম ঋণ কার্যক্রমের আওতায় রংপুর, শেরপুর, মাগুরা ও বরিশাল অঞ্চলে ২৭টি জেলায় ৫৬টি উপজেলায় ৮১টি গুদাম পরিচালিত হচ্ছে। ৮১টি গুদামের মধ্যে ১২টি গুদাম কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের নিজস্ব এবং অবশিষ্ট ৬৯টি গুদাম স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিকট হতে বার্ষিক ভাড়ার ভিত্তিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি গুদামের গড় ধারণ ক্ষমতা ২৫০ মেট্রিক টন।

          কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি’র নেতৃত্বে চার দলীয় জোটের শাসনামলে দেশে কৃষির উন্নয়নে কোন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সারসহ কৃষি উপকরণ নিয়ে চরম হাহাকার ছিল। শুধু সারের জন্য ১৮ জন কৃষককে প্রাণ দিতে হয়েছিল।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করছে। কৃষিবান্ধব নীতিগ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সার, বীজসহ কোন কৃষি উপকরণ নিয়ে কোন সংকট নেই। বিগত ১০ বছরে কৃষির অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে যা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে।

          স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, কৃষি খাতকে আরো আধুনিকায়ন, গুণগত পরিবর্তন এবং প্রযুক্তির বিকাশ ঘটাতে উপজেলা পর্যায়ে কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ সঠিক সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে কৃষকেরা সারা বিশ্বে উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়ে কৃষি জ্ঞানে সমৃদ্ধ হবেন।

           কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প এর অধীনে ২০২২ সালের মধ্যে এসব কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। উপজেলা পর্যায়ে কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মিত হলে কৃষক প্রশিক্ষণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে এবং কৃষকের জন্য নির্ধারিত সময়ে প্রশিক্ষণ আয়োজন করা সহজ হবে। এর ফলে দ্রুত সময়ে মাঠ পর্যায়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ সহজ হবে।

            অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো: হাসানুজ্জামান কল্লোল। এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থাপ্রধানসহ সারাদেশের প্রায় চার শতাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। 

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে