তাড়াইলে অযত্নে ও অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে স্বাধীনতা’৭১ ভাষ্কর্য

শনিবার, নভেম্বর ১৯, ২০২২,১২:৫১ অপরাহ্ণ
0
22

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

আল-মামুন খান,তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ভাষ্কর্য স্বাধীনতা’৭১ অযত্নে ও অবহেলায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হতে চলেছে।  

জানা গেছে,জেলা পরিষদের অর্থায়নে বিগত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তাড়াইল উপজেলা চত্বরের পুরাতন কোর্ট ভবনের বালুর মাঠে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক হিসেবে প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা ব্যায়ে নির্মান করা হয় দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য স্বাধীনতা’৭১।

বিগত ২৬মে’২০১৬ সালে ওই ভাষ্কর্যের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বর্তমানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব, কিশোরগঞ্জ-৩ (তাড়াইল-করিমগঞ্জ) এর সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মুজিবুল হক চুন্নু। এবং ২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর মহামাণ্য রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ ভাষ্কর্যটির উদ্ভোধন করেন। ৫১ফুট উচু বেদীতে প্রতিকি হিসেবে একজন নারী ও দুইজন পুরুষ মুক্তিযোদ্ধা বন্দুক এবং গ্র্যানেড হাতে দন্ডায়মান দৃষ্টিনন্দন ভাষ্কর্যটির মাঝখানে ৮ফুট বাই ৬ফুট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং ৭ বীরশ্রেষ্ঠের মুরাল স্থাপণ করা হয়। নীচে গোলাকৃতি বেদী স্থাপণ করে সাজানো হয় বিভিন্ন ফুলের চারাগাছ দিয়ে।বিভিন্ন রঙ-বেরঙের লাইটিং দিয়ে সাজানো হয় ভাষ্কর্য স্বাধীনতা’৭১। প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে দৃশ্যমান এই ভাষ্কর্যটি ছিল উপজেলার গৌরব।

ভাষ্কর্যটি দরপত্রের মাধ্যমে কার্যাদেশ পান জেলার শম্পা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্টান। ভাষ্কর্য শিল্পী শ্যামল-সুষেণের হাতের পরশে বাস্তব রূপ পাওয়া এই দৃষ্টিনন্দন ভাষ্কর্যটি ক্রমেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিকি মুক্তিযোদ্ধাদের খসে পড়ছে পলেস্তরা। শ্যওলা ও ধূলোবালিতে আধুনিকতার অস্থিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। নীচের বেদীতে নেই কোনও ফুলের গাছ। আগে যেকানে সন্ধ্যা হলেই লাল-নীল সহ বিভিন্ন রঙের লাইট জ্বলতো এখন এটা শুধুই কল্পনা। কোনো কোনো লাইট ভেঙে ঝুলে আছে আবার কোনোটার অস্থিত্বও নাই। লোক মুখে শুনা যায় রাতের বেলায় এখন ওখানে বখাটে ছেলেদের আড্ডা জমে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যন জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া শাহীন জানান,মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত এই স্থাপণাটি জেলা পরিষদের। আমি ব্যাক্তিগতভাবে ভাষ্কর্যটি আগের রূপে ফিরিয়ে আনার জন্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেছি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই জানান,বঙ্গবন্ধুর ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর নিকট থেকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করে ছিনিয়ে এনেছি স্বাধীনতা। এরই প্রতিক হিসেবে স্বাধীনতা’৭১ ভাষ্কর্যটি প্রশাসনের উতাসীনতায় দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অচিরেই এই স্থাপণাটি সংস্কার করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

ভাষ্কর্য শিল্পী শ্যামল-সুষেণ জানান,দুই বছর পরপর এসকল স্থাপণা রক্ষনাবেক্ষণের জন্য সংস্কার করা প্রয়োজন। উপজেলার এই স্থাপনাটির ৪বছর পেরুলেও অর্থ বরাদ্ধ দেয়নি জেলা পরিষদ।

ভাষ্কর্যটির বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান জানান,৪৬লক্ষ আটান্ন হাজার ৪৪২টাকা ব্যায়ে নির্মিত তাড়াইলে স্বাধীনতা’৭১ কিছুদিন আগেই আমি পরিদর্শন করেছি। জেলায় মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্মরণে এরকম আরও কয়েকটি ভাষ্কর্য আছে। প্রতিটি ভাষ্কর্যই সংস্কার করা প্রয়োজন। এই মুহুর্তে প্রয়োজনীয় অর্থের সংকটের কারণে একটু বিলম্ব হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি যত ত্রুত সম্ভব এই সকল স্থাপণাগুলি আগের রূপে ফিরিয়ে আনবো।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে