তথ্য মন্ত্রণালয় এখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়

বুধবার, মার্চ ১৭, ২০২১,১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
0
17

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

তথ্য মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে এখন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় করা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ সাংবাদিকদের একথা জানান। প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ মুরাদ হাসান এবং তথ্যসচিব খাজা মিয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নাম পরিবর্তনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে লিখেছিলাম, মন্ত্রিপরিষদ সেটি পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠালে রাষ্ট্রপতি সেটি অনুমোদন দেয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ হয়ে গেজেট হয়েছে। এজন্য রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।’

মন্ত্রী জানান, প্রকৃতপক্ষে তথ্য মন্ত্রণালয় তথ্য প্রদান বা সরকারের কাজগুলো জনসম্মুখে তুলে ধরা ছাড়াও সম্প্রচারের কাজটিও করে আসছে, এজন্য আমরা চাচ্ছিলাম, এই মন্ত্রণালয়ের নাম কাজের সাথে সংগতিপূর্ণ হোক এবং সেই কারণে নাম পরিবর্তন করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় করার জন্য আমরা প্রস্তাব করি।

মন্ত্রণালয়ের নামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ড. হাছান বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুজিবনগর সরকার, যে সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম যিনি বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মো: তাজউদ্দীন আহমদ, সেই সরকারের সময়ে এই মন্ত্রণালয়ের নাম ছিল তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়।’ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু যখন দেশ পরিচালনা করছিলেন, যখন এলোকেশন অভ বিজনেস ঠিক করা হলো তখন এই মন্ত্রণালয়ের নাম দেয়া হয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে এই মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে তথ্য মন্ত্রণালয় হয় উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখন যেহেতু সম্প্রচারের কাজটি দেখভাল করি এবং করা আমাদের দায়িত্ব, সেই কারণে কাজের সাথে মিল রেখেই নাম পরিবর্তিত হয়েছে। এছাড়া ভারত ও পাকিস্তানে এই মন্ত্রণালয়ের নাম তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

‘কি কারণে ৮২ সালে এ মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনটা করা হয়েছে, তবে আমি মনে করি সেটা যথাযথ ছিল না এবং কাজের ক্ষেত্র আমাদের একই আছে। কিন্তু এ নিয়ে নানা সময়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় সেই বিভ্রান্তি এখন থাকবে না’ বলেন ড. হাছান।

মধ্যম আয়ে উন্নীত হবার পরেও জাতিকে অভিনন্দন জানাতে ব্যর্থ বিএনপি

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ‘এই মুজিববর্ষে, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ পরিপূর্ণভাবে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার ফাইনাল রিকমেন্ডেশন দিয়েছে জাতিসংঘ। বড়ই তাজ্জবের বিষয়, জাতির জীবনে এতবড় একটা সফলতা এলো বিএনপি এটি নিয়ে অভিনন্দন দিলো না, তারা সরকারকে অভিনন্দন দেয়া তো দূরের কথা, এই জাতিকে অভিনন্দন দেয়া, সেটি দিতেও রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে।’

যারা ব্যর্থ ছিল তারা সবসময় সবকিছুর মধ্যেই শুধু ব্যর্থতা দেখে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, তারা তো চরম ধরনের ব্যর্থ ছিল। কিন্তু দেশকে পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানানোর ব্যাপারে এবং সরকারের সাথে হাওয়া ভবন খুলে সমান্তরাল একটি সরকার পরিচালনায় সফল ছিল। দেশকে জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্য বানানোর ক্ষেত্রে তারা সফল ছিল। পাঁচশ’ জায়গায় একযোগে বোমা হামলা, একুশে আগস্টে বোমা হামলা, আদালতের মধ্যে বোমা হামলা, বিচারককে বোমা মেরে হত্যা এগুলোর ব্যাপারে তারা খুব সফল ছিল। বাকি সব ব্যাপারে তারা ছিল ব্যর্থ। এই জন্য তারা সবকিছুতেই ব্যর্থতা দেখার চেষ্টা করে।’

দেশ যে আজকে সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এটি বিএনপি দেখেও না দেখার ভান করে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, তারা না দেখলেও, পৃথিবী কিন্তু দেখছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা, সফলতার জন্য প্রশংসা করেছে, জাতিসংঘ প্রশংসা করেছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি এখন যেটি করার চেষ্টা করছে, সেটি হচ্ছে তিস্তা চুক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো। তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে অনেক দূর এগিয়েছি। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে আমাদের এ ব্যাপারে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে। কিন্তু ভারতের সংবিধান অনুযায়ী এক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অনুমোদন লাগে। সুতরাং এখানে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো ব্যর্থতা নাই, একাগ্রতা আছে। রাজ্য সরকারের অনুমোদন পেলে সেটি হবে। এটি বিএনপি বুঝেও না বোঝার ভান করে। অপ্রাসঙ্গিক হলেও এটিকে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছে। আসলে বিএনপি কোনো ইস্যু খুঁজে পাচ্ছে না, খড়কুটো ধরেই ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা করছে।’

বেগম জিয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহ্মুদ বলেন, ‘প্রথমত বেগম খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাননি, আদালত কর্তৃক খালাসও পাননি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে বেগম খালেদা জিয়ার আইনগতভাবে শাস্তি ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন, পরে আবার ছয় মাসের জন্য এবং তৃতীয় দফায় ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। আমি মনে করি এতে সরকারকে, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপির একটা অভিনন্দন দেয়া প্রয়োজন ছিল। প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক বিবেচনা করে বেগম খালেদা জিয়াকে তার শাস্তি ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখেছেন। কিন্তু বিএনপি সেই ধন্যবাদ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, ধন্যবাদ দেয়ার সংস্কৃতিটা তারা লালন করে না।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জীবনজয়ের প্রতিবন্ধকতা নয় – তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এবি ব্যাংক আয়োজিত অটিস্টিক শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জীবনে কোনো কিছু জয় করার ক্ষেত্রে কখনো প্রতিবন্ধকতা নয়।

মন্ত্রী বলেন, আমরা যদি তেমন শিশু-কিশোরকে ঠিকভাবে লালন করতে পারি, তার পরিচর্যা করতে পারি তিনিও বিশ্বটাকে কাঁপিয়ে দিতে পারেন। দেশের জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য তারাও অনেক সম্মান বয়ে নিয়ে আসতে পারে, ইতিহাস সেটিই প্রমাণ করে।

অটিস্টিক শিশুদের জন্য অনুষ্ঠান আয়োজন করায় মন্ত্রী এবি ব্যাংককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এবি ব্যাংক দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে প্রায় চারদশক ধরে অনেক অবদান রেখেছে।

মন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘আজকে আমাদেরকে কেউ আর দরিদ্র বলে অবজ্ঞা করতে পারবে না। পৃথিবীর অন্যতম দরিদ্র দেশ হিসেবে শিরোনামও লিখতে পারবে না। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আমরা জাতিসংঘ কর্তৃক ফাইনাল রিকমেন্ডেশন পেয়েছি- ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সবার মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে অর্জিত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নলালিত আমাদের বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ।

এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ এ রুমী আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আফজাল।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে