ঢাকা মেডিকেলে ৪ সন্তানের জন্ম দিলেন পিংকি

সোমবার, জুলাই ৫, ২০২১,৯:৪৫ অপরাহ্ণ
0
1

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

আল-মামুন খান, তাড়াইল(কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : ঢাকা মেডিকেলে চার সন্তানের জন্ম দিলেন কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নের ঘোষপাড়া গ্রামের এক গৃহিণী। চার নবজাতকের মধ্যে তিনটি ছেলে ও একটি মেয়ে।তারা সবাই সুস্থ আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ইশরাত জাহান পিংকি (২৫)। ৬ বছর আগে ঘোষপাড়া গ্রামের কাশেম মিয়ার বড় ছেলে সিরাজুল ইসলামের নিকট বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের আরো একটি ৪ বছরের পুত্র সন্তান আছে। সিরাজুল ইসলাম ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
রোববার (৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হন পিংকি।
পিংকির মা রমিজা আক্তার বলেন, পিংকি যখন দেড়মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা তখন কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পরীক্ষা করে জানতে পারি তার গর্ভে তিনটি সন্তান রয়েছে। তখনই জটিলতার শঙ্কা করেন সেখানকার চিকিৎসকরা। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য ৩ মাস আগে স্বামী সিরাজুল ইসলাম পিংকিকে নিয়ে আসেন উত্তর বাড্ডা সাতারকুল আলীনগরে তার কাছে। আরও কিছু পরীক্ষা করে জানতে পারি তার গর্ভে চারটি সন্তান।
তিনি বলেন, গর্ভধারণের সাত মাস চলাকালে ১ জুলাই তাকে ঢাকা মেডিক্যালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এরপর শনিবার (৩ জুলাই) বেলা ৩টার দিকে সিজারের মাধ্যমে পরপর চারটি সন্তারের জন্ম দেন পিংকি। মা ও ৪ সন্তান সুস্থ আছে।

এদিকে নবজাতকদের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, নবজাতকের জন্মের পর একটু খারাপ থাকায় চিকিৎসকরা তাদেরকে এনআইসিইউতে নিতে বলেন। ঢাকা মেডিক্যালে এনআইসিইউ সিট খালি না থাকায় তাদেরকে গতকাল সিজারের পরপরই নিয়ে যাওয়া হয় ধানমন্ডি রেনেসাঁ হাসপাতালে। সেখানে এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয় তাদের। এরপর ঢাকা মেডিক্যালের এনআইসিইউতে বেড খালি হওয়ায় আবার রোববার বেলা ৩টার দিকে তাদের চারজনকেই এখানে নিয়ে আসা হয়। ধানমন্ডির ওই হাসপাতালে সব মিলিয়ে ৪৮ হাজার টাকা বিল দিতে হয়।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ১০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করি। যেই টাকা জমানো ছিল তা এতোদিন পিংকির চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে গেছে। ধানমন্ডির ওই হাসপাতালের টাকা পরিশোধ করতে আমাকে ধারদেনা করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক জানান, অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে আমাদের এখানে ভর্তি করানোর পরপরই আমাদের চিকিৎসকরা গুরুত্বের সঙ্গে তার চিকিৎসা করেছে। শনিবার তার সিজারের মাধ্যমে চারটি সন্তান জন্ম হয়। কিন্তু আমাদের এখানে এনআইসিইউ ব্যবস্থা করতে করতেই স্বজনরা নবজাতক চারটি শিশুকে বাইরের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে রোববার এখানে এনআইসিইউ ব্যবস্থা করে নবজাতকদের আবার এখানে নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অন্তঃসত্ত্বার সাত মাস বয়সে ভুমিষ্ট হওয়ার পর সেই অনুয়াযী তাদের ওজন ঠিক আছে। বর্তমানে তারা ভালো আছে। তাদের মা ও সুস্থ আছেন।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে