ডেঙ্গু রোধে ডিএসসিসির অভিযান আজ থেকে শুরু

রবিবার, জুন ৭, ২০২০,৯:২০ পূর্বাহ্ণ
0
5

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

আজ রবিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বাহক এডিস মশার বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান শুরু হচ্ছে। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে একযোগে এই অভিযান পরিচালনার বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কীটতত্ত্ববিদরা। এতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

একদিন আগেই এডিস মশার বিরুদ্ধে সমন্বিত চিরুনি অভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গতকাল শনিবার থেকে শুরু হওয়া ১০ দিনের এই অভিযানের প্রথম দিন পরিদর্শন করা ৭০ শতাংশ বাড়ি ও স্থাপনায় এডিসের বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ পেয়েছে সংস্থাটি।

ডিএনসিসি সূত্র জানিয়েছে, গতকাল অভিযানের প্রথম দিনে মোট ১১ হাজার ৯৬৯ বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেছেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। এর মধ্যে আট হাজার ৩৮০টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেছে। ১৩১টি বাড়িতে পাওয়া গেছে এডিসের লার্ভা। এর আগে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় বেশ কয়েকটি ভবন মালিককে সতর্ক করা হয়েছিল। দ্বিতীয় দফার অভিযানে আবারও আটটি ভবনে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ৫৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন সংস্থাটির ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এদিকে আজ চিরুনি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ডিএসসিসি ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে এডিসের বিরুদ্ধে। মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এর উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। আলাদা মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনার চেয়ে একসঙ্গে দুই সিটি করপোরেশনের সমন্বিত চিরুনি অভিযানে ভালো ফল আসবে বলে মনে করছেন কীটতত্ত্ববিদরা।

ডিএনসিসি জানিয়েছে, শুক্রবার বাদে সপ্তাহের প্রতিদিনই চলবে তাদের চিরুনি অভিযান। এবারের অভিযানে প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। আবার প্রতিটি সেক্টরকে ১০টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডের একটি সেক্টরে অর্থাৎ ১০টি সাব-সেক্টরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এভাবে আগামী ১০ দিনে সিটি করপোরেশনের সব কটি ওয়ার্ডে অভিযান সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ডিএনসিসি।

প্রতিটি সাব-সেক্টরে ডিএনসিসির চারজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও একজন মশকনিধনকর্মীসহ প্রতি ওয়ার্ডে মোট ৫০ জন করে কর্মী কাজ করছেন। গতকাল চিরুনি অভিযানের সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৯ জন কীটতত্ত্ববিদ, ডিএনসিসির তিনজন কীটতত্ত্ববিদ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সব তথ্য ডিএনসিসির ডাটাবেসে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পরে মশক নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে কোনো কৌশল নির্ধারণ করতে এই ডাটাবেসের তথ্য ব্যবহার করা হবে।

ডিএনসিসির উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তফা সারোয়ার বলেন, ‘চিরুনি অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত একযোগে পরিচালনা করা হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে। এ ছাড়া বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রথমবার কোনো বাড়ি বা স্থাপনায় এডিসের লার্ভা পাওয়া গেলে সতর্ক করা হচ্ছে। কিন্তু দ্বিতীয়বার লার্ভা পাওয়া গেলে জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে।’

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে