ঝালকাঠি জেলায় গ্রামীণ জনপদে গড়ে উঠছে হাঁসের খামার

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০,১০:১৮ পূর্বাহ্ণ
0
20

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

ঝালকাঠি  প্রতিনিধি : ঝালকাঠি জেলায় বর্তমানে গ্রামীণ জনপদে হাঁসের খামার গড়ে উঠছে। দক্ষিণাঞ্চলের এই জেলায় হাঁস চাষ উপযোগী খাল জলাশয় থাকায় লাভজনক এই হাঁসের খামার স্থাপনে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। তবে হাঁস চাষের উপর প্রশিক্ষণ না নিয়ে কেউ কেউ খামার করতে এসে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার এই এলাকার হাঁস খামার উদ্যোক্তা ও পারিবারিক পর্যায়ে হাঁস লালন পালননের জন্য গাবখান ব্রীজের পশ্চিম পাদদেশে ৩ একর জায়গার উপরে হাঁস লালন পালন কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। ২০০৫-২০০৬ অর্থ বছরে সরকারি হাঁস পালন কেন্দ্রটি উন্নয়ন খাতে জোড়া তালি দিয়ে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শেষ হয়। 

২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে প্রায় কোটি টাকা ব্যয় করে সরকার এর সংস্কার করে এবং ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস থেকে প্রকল্পটি রাজস্বখাত ভুক্ত করে চালু করে। সেই থেকে প্রকল্পটি আড়াই বছর ধরে চলমান রয়েছে। এখান থেকে ৬ শত উপকার ভোগীর কাছ থেকে ১১ হাজার হাঁসের বাচ্চা বিক্রি করে ৬ লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আয় করেছে। এই কেন্দ্রে খুলনার দৌলতপুর আঞ্চলিক প্রজনন খামার থেকে ১ দিনের বাচ্চা এই কেন্দ্রে এনে ১৫দিন লালন পালন করে প্রতিষেধক ভ্যক্সিন দিয়ে ৬০ টাকা করে ১৫ দিনের হঁাসের বাচ্চা বিক্রয় করা হয়। এই কেন্দ্রে ১৫ শত ১দিনের বাচ্চা আনা হয় এবং বিক্রয় করা হয়। ঝালকাঠি জেলায় প্রাণী সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলায় ১৩৭টি হাঁসের খামার রয়েছে। এর মধ্যে ২৯টি রেজিষ্ট্রার খামার এবং ৯৩টি অ-রেজিষ্ট্রার খামার। এছাড়াও পারিবারিক পর্যায় গ্রামিন প্রতিটি পরিবারে হাঁস লালন পালন করে থাকে। জেলায় প্রাণী সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ৭ লক্ষাধিক হাঁস রয়েছে। 

ঝালকাঠি সদর উপজেলার চর-ভাটারাকান্দা গ্রামের সৌদি আরবে চাকুরী করে গ্রামের বাড়ীতে এসে ৫০০ শত হাঁস নিয়ে খামার করেছেন নাছির গাজী। তবে হাঁস লালন পালনের প্রশিক্ষণ না নিয়ে তার খামার করায় কিছু অসুস্থ হাঁসকে ভ্যক্সিন দিতে গিয়ে প্রায় ১ শত ৪ মাস বয়সী হাঁস মারা গিয়াছে। ছত্রকান্দা গ্রামে তরুণ উদ্যোক্তা মারুফ হাওলাদার ৩০০ শত হাঁস নিয়ে একটি খামার করেছেন। সে জানায় নেত্রকোনা থেকে খাকি ক্যাম্বেল জাতের ৪ মাসের বাচ্চা কিনে এনে খামার করেছেন এবং ইতি মধ্যেই তার লালন পালন করা হাঁস ডিম দেয়া শুরু করছে। সে আশা করছে তার এই খামার করে সে লাভবান হবেন। ঝালকাঠি হাঁস পালন কেন্দ্রের ডাক এটেনডেন্ট বিমল সিকদার জানান খুলনা দৌলতপুর আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার থেকে সবচেয়ে ভাল জাত জিনডিং জাতের ১ দিনের বাচ্চা এনে এই কেন্দ্র রেখে ১৫ দিন লালন পালন করে ৬০ টাকা করে প্রতি বাচ্চা বিক্রয় করা হয়। বাচ্চা বিক্রয় করার সময় প্রতিষেধক ভ্যক্সিন দিয়ে খামারীদের মধ্যে বিক্রয় করা হয়। আড়াই বছর ধরে প্রকল্পটি চালু থাকায় হাঁসের বাচ্চা স্থানীয় ভাবে খামারী ও গৃহস্থ পরিবারের মধ্যে চাহিদা বেড়েছে। এই অঞ্চল হাঁস লালন পালনের জন্য অত্যান্ত উপযোগী এলাকা। 

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে