ঝালকাঠিতে প্রতিরক্ষার নামে অবৈধভাবে চলছে নদী দখল, এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ

সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২০,৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ
0
13

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

বাধন রায়, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় এনএস কামিল মাদ্রাসা সংলগ্ন বাসন্ডা নদী তীর প্রতিরক্ষার কাজ চলছে একদিকে অন্যদিকে চলছে অবৈধ ভাবে নদী দখল। এ কাজের সুযোগে রাতের অন্ধকারে ভরে ফেলা হচ্ছে বাসন্ডা নদী। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পূর্বের কেটে রাখা মাটি একাধিক ভেকু মেশিনের সাহাজ্যে শুক্রবার রাত থেকে নদী ভরাটের কাজ শুরু করে। বিষয়টি জানাজানি হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপর দায় চাপানো হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে এটা অবৈধ নদী দখল।

এভাবে অবৈধ নদী ভরাটের কাজ বন্ধ করা না হলে তীর রক্ষার কাজ করা সম্ভব হবে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় বাসন্ডা নদীর ৩৮০ মিটার পশ্চীম তীর প্রতিরক্ষার কাজ চলছে। ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যায়ে এ কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয় চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি। ২০২১ সনের জুন মাসে এ কাজ শেষ হবার কথা রয়েছে। কাজের মধ্যে রয়েছ জিও ব্যাগ ডাম্পিং, ব্লক ডাম্পিং ও ব্লক পেসটিং। এলাকাবাসির অভিযোগ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এই কাজের সুযোগ নিয়ে শুক্রবার রাত ১১ টায় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযাযী কাজের সামনে থেকে রাতের অন্ধকারে মাটি ফেলে নদী ভরাট শুরু করেছে। ৪টি ভেকু মেশিন দিয়ে দ্রত তারা একাজ করছে। ভেকু মেশিন চালিয়ে নদী ভরাটের কাজ করায় পার্শবর্তি সড়কটি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

রাতের অন্ধকারে কেন এভাবে নদী দখল করা হচ্ছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে নেছারাবাদ কমপ্লেস এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাওলানা মাহাবুবুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের মাদ্রাসার জায়গায় মাটি ভরাট করছি। এ কাজ রাতে কেন জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

বিকনা গ্রামের বাসিন্দা কবির ফকির বলেন, নেছারাবাদ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বাসন্ডা নদীর একপাড়ে বাঁধ দিচ্ছে, আবার সেই পাড় ভরাটও করছে । এতে পূর্ব পাড়ের মানুষ আতংকে রয়েছে। কারন পশ্চীম পাড়ে বাধ দিলে পূর্ব পাড়ে ভাঙ্গন শুরু হবে।

এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি পানি উন্নয় বোর্ডের তীর রক্ষা কাজের উপসহকারি প্রকৌশলী বিভুতি চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের না জানিয়ে এ ধরনের কাজ না করতে আগেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল। সেখানে গিয়ে এই অবৈধ কাজের জন্য তাদের সাথে রাগারাগি করেছি। তারা যদি এভাবে অবৈধ উপায়ে নদী ভরাট করতেই পারে তাহলে আমাদের এখানে কাজ করার কোন দরকার ছিল না। আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করব। আমরা কেন এই অবৈধ কাজের দায়ভার নিতে যাব। তারা এ কাজ বন্ধ না করলে এখানে কাজ করা সম্ভব হবেনা।

এ প্রসঙ্গে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জণ দাস বলেন, আমি শোনার সাথে সাথে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ। একাজ তারা করতে পারেনা। একদিকে নদীর তীর রক্ষার কাজ হচ্ছে অন্যদিকে অবৈধ দখল হবে এটা মেনে নেয়া যায়না। এ বিষয়ে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের চীফ ইঞ্জিনিয়ার ও তত্তাবধায়ক প্রকৌশলীকে জানাবো।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে